০৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
মালয়েশিয়ার ডানমুখী রাজনৈতিক মোড়: কেন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত আসিয়ানের ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন

শুধু অর্থনীতি নয়, ভারত-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সভ্যতার বন্ধন

এশিয়ার ভূরাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান আলোচ্য বিষয়। এই বাস্তবতায় ভারত ও জাপানের সম্পর্ক নিয়েও সাধারণত কথা হয় বিনিয়োগ, অবকাঠামো, সরবরাহ শৃঙ্খল, সেমিকন্ডাক্টর কিংবা ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা নিয়ে। কিন্তু এই সম্পর্ককে যদি কেবল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে তার প্রকৃত শক্তিকে অবমূল্যায়ন করা হবে।

ভারত ও জাপানের সম্পর্কের বিশেষত্ব অন্যত্র। এটি এমন একটি সম্পর্ক, যার ভিত্তি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা সমসাময়িক কূটনীতির অনেক আগের। ইতিহাস, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সম্পর্ক আজকের অস্থির বিশ্বে নতুন অর্থ বহন করে।

সভ্যতার স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের সহযোগিতা

দুই দেশের যোগাযোগের ইতিহাস শতাব্দীপ্রাচীন। বৌদ্ধধর্মের মাধ্যমে ভারতীয় চিন্তা ও দর্শন পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত জাপানে পৌঁছায়। জাপানি সমাজ নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করলেও ভারতকে তারা দীর্ঘদিন ধরে বুদ্ধের পবিত্র ভূমি হিসেবে দেখেছে।

এই সাংস্কৃতিক যোগসূত্র শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের মানসিক নৈকট্যও তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় যাকে বলা যায় ‘সফট ট্রাস্ট’— এমন এক আস্থা, যা সামরিক জোট বা বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী।

UP Buddhist circuit gains global prominence, draws 61 lakh visitors in  first nine months of 2025 - The Statesman

আজ যখন ভারত বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে ঘিরে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন সেটি কেবল অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং বহু শতাব্দীর এক সভ্যতাগত সংযোগকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তোলার প্রচেষ্টা।

আস্থার ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাপান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। সে সময় অধিকাংশ দেশ জাপানের দিকে তাকিয়েছিল যুদ্ধের দায় ও পরাজয়ের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু ভারতের অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।

টোকিও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের ভিন্নমত আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। জাপানে আজও তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। পরে ভারত জাপানের সঙ্গে আলাদা শান্তিচুক্তি করে এবং যুদ্ধক্ষতিপূরণ দাবি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এসব পদক্ষেপ কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য ছিল না; বরং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস এমন এক সম্পদ, যা অর্থ বা সামরিক শক্তি দিয়ে সহজে অর্জন করা যায় না। ভারত ও জাপানের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এই বিশ্বাসই।

নতুন বিশ্বের নতুন চ্যালেঞ্জ

The AI-Driven Labor Market Revolution: Unveiling Opportunities, Confronting  Displacement, and Addressing the Ethical Fault Lines

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শ্রমবাজার ও সামাজিক কাঠামোকে পাল্টে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন অর্থনীতি ও মানবজীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানা দেশে আস্থার সংকটে ভুগছে। প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।

এমন পরিস্থিতিতে কেবল স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অংশীদারত্ব দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। টেকসই সহযোগিতার জন্য প্রয়োজন অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। ভারত ও জাপানের সম্পর্ক সেই সম্ভাবনা ধারণ করে।

গণতন্ত্র রক্ষায় যৌথ নেতৃত্ব

ভারত ও জাপান এশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী এই দুই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় বসবাস করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যখন বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ, তথ্য বিভ্রান্তি এবং জনআস্থার সংকট বেড়েছে, তখন ভারত ও জাপান গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার ভিন্ন এক উদাহরণ তুলে ধরতে পারে।

দুই দেশ শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মতো বিষয়েও আঞ্চলিক নেতৃত্ব দিতে পারে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রযুক্তি কি মানুষের জন্য?

জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে আজকের প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন হলো— কে আগে এগিয়ে যাবে। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রযুক্তি কাকে সেবা করবে?

ভারত বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে জাপানের শক্তি প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং নৈতিক মানদণ্ডে। এই দুই অভিজ্ঞতা একত্রিত হলে এমন একটি মানবকেন্দ্রিক প্রযুক্তি মডেল তৈরি হতে পারে, যেখানে দক্ষতার পাশাপাশি মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক আস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্ব যখন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন ভারত-জাপান সহযোগিতা একটি বিকল্প দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারে।

টেকসই উন্নয়ন: একটি নৈতিক দায়িত্ব

জলবায়ু পরিবর্তনকে কেবল পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মৌলিক প্রশ্ন।

জাপান দীর্ঘদিন ধরে শক্তি দক্ষতা ও সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ। অন্যদিকে ভারত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম বৃহৎ বাজারে পরিণত হয়েছে। জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের বিস্তৃত বাস্তবায়ন সক্ষমতা একত্রিত হলে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশীদারত্বগুলোর একটি গড়ে উঠতে পারে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করছে ভারত-জ...

এশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল

নিশ্চয়ই আগামী দিনে ভারত ও জাপানের সম্পর্ক বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস এবং ভূরাজনৈতিক সহযোগিতার ওপর আরও বিস্তৃত হবে। কিন্তু সম্পর্কটির প্রকৃত শক্তি সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়।

রাষ্ট্রের স্বার্থ সময়ের সঙ্গে বদলায়, প্রযুক্তি পরিবর্তিত হয়, আন্তর্জাতিক জোটও পুনর্গঠিত হয়। কিন্তু মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং সভ্যতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আস্থা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্থায়ী।

ভারত ও জাপানের সামনে আজ সুযোগ রয়েছে এমন এক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার, যা কেবল দুই দেশের লাভ-ক্ষতির হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি দেখাতে পারে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক শাসন, সাংস্কৃতিক সংহতি এবং মানবিক মূল্যবোধ একই সঙ্গে বিকশিত হতে পারে।

যদি তারা সেই পথ বেছে নিতে পারে, তবে সেটিই হবে একবিংশ শতাব্দীতে এশিয়ার জন্য তাদের সবচেয়ে বড় অবদান।

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার ডানমুখী রাজনৈতিক মোড়: কেন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত আসিয়ানের

শুধু অর্থনীতি নয়, ভারত-জাপান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সভ্যতার বন্ধন

০২:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

এশিয়ার ভূরাজনীতি দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান আলোচ্য বিষয়। এই বাস্তবতায় ভারত ও জাপানের সম্পর্ক নিয়েও সাধারণত কথা হয় বিনিয়োগ, অবকাঠামো, সরবরাহ শৃঙ্খল, সেমিকন্ডাক্টর কিংবা ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা নিয়ে। কিন্তু এই সম্পর্ককে যদি কেবল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে তার প্রকৃত শক্তিকে অবমূল্যায়ন করা হবে।

ভারত ও জাপানের সম্পর্কের বিশেষত্ব অন্যত্র। এটি এমন একটি সম্পর্ক, যার ভিত্তি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা সমসাময়িক কূটনীতির অনেক আগের। ইতিহাস, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সম্পর্ক আজকের অস্থির বিশ্বে নতুন অর্থ বহন করে।

সভ্যতার স্মৃতি থেকে ভবিষ্যতের সহযোগিতা

দুই দেশের যোগাযোগের ইতিহাস শতাব্দীপ্রাচীন। বৌদ্ধধর্মের মাধ্যমে ভারতীয় চিন্তা ও দর্শন পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত জাপানে পৌঁছায়। জাপানি সমাজ নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে আত্মস্থ করলেও ভারতকে তারা দীর্ঘদিন ধরে বুদ্ধের পবিত্র ভূমি হিসেবে দেখেছে।

এই সাংস্কৃতিক যোগসূত্র শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের মানসিক নৈকট্যও তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভাষায় যাকে বলা যায় ‘সফট ট্রাস্ট’— এমন এক আস্থা, যা সামরিক জোট বা বাণিজ্য চুক্তির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী।

UP Buddhist circuit gains global prominence, draws 61 lakh visitors in  first nine months of 2025 - The Statesman

আজ যখন ভারত বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে ঘিরে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন সেটি কেবল অর্থনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং বহু শতাব্দীর এক সভ্যতাগত সংযোগকে নতুনভাবে জীবন্ত করে তোলার প্রচেষ্টা।

আস্থার ইতিহাস

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে জাপান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। সে সময় অধিকাংশ দেশ জাপানের দিকে তাকিয়েছিল যুদ্ধের দায় ও পরাজয়ের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু ভারতের অবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।

টোকিও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের ভিন্নমত আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। জাপানে আজও তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। পরে ভারত জাপানের সঙ্গে আলাদা শান্তিচুক্তি করে এবং যুদ্ধক্ষতিপূরণ দাবি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এসব পদক্ষেপ কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য ছিল না; বরং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস এমন এক সম্পদ, যা অর্থ বা সামরিক শক্তি দিয়ে সহজে অর্জন করা যায় না। ভারত ও জাপানের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এই বিশ্বাসই।

নতুন বিশ্বের নতুন চ্যালেঞ্জ

The AI-Driven Labor Market Revolution: Unveiling Opportunities, Confronting  Displacement, and Addressing the Ethical Fault Lines

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অভূতপূর্ব অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শ্রমবাজার ও সামাজিক কাঠামোকে পাল্টে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন অর্থনীতি ও মানবজীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানা দেশে আস্থার সংকটে ভুগছে। প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।

এমন পরিস্থিতিতে কেবল স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অংশীদারত্ব দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। টেকসই সহযোগিতার জন্য প্রয়োজন অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। ভারত ও জাপানের সম্পর্ক সেই সম্ভাবনা ধারণ করে।

গণতন্ত্র রক্ষায় যৌথ নেতৃত্ব

ভারত ও জাপান এশিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী এই দুই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় বসবাস করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যখন বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ, তথ্য বিভ্রান্তি এবং জনআস্থার সংকট বেড়েছে, তখন ভারত ও জাপান গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার ভিন্ন এক উদাহরণ তুলে ধরতে পারে।

দুই দেশ শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মতো বিষয়েও আঞ্চলিক নেতৃত্ব দিতে পারে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রযুক্তি কি মানুষের জন্য?

জলবায়ু পরিবর্তনে ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে আজকের প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন হলো— কে আগে এগিয়ে যাবে। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, প্রযুক্তি কাকে সেবা করবে?

ভারত বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে জাপানের শক্তি প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং নৈতিক মানদণ্ডে। এই দুই অভিজ্ঞতা একত্রিত হলে এমন একটি মানবকেন্দ্রিক প্রযুক্তি মডেল তৈরি হতে পারে, যেখানে দক্ষতার পাশাপাশি মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক আস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্ব যখন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন ভারত-জাপান সহযোগিতা একটি বিকল্প দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারে।

টেকসই উন্নয়ন: একটি নৈতিক দায়িত্ব

জলবায়ু পরিবর্তনকে কেবল পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মানবসভ্যতার ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মৌলিক প্রশ্ন।

জাপান দীর্ঘদিন ধরে শক্তি দক্ষতা ও সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সফল দেশ। অন্যদিকে ভারত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম বৃহৎ বাজারে পরিণত হয়েছে। জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের বিস্তৃত বাস্তবায়ন সক্ষমতা একত্রিত হলে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশীদারত্বগুলোর একটি গড়ে উঠতে পারে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করছে ভারত-জ...

এশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল

নিশ্চয়ই আগামী দিনে ভারত ও জাপানের সম্পর্ক বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস এবং ভূরাজনৈতিক সহযোগিতার ওপর আরও বিস্তৃত হবে। কিন্তু সম্পর্কটির প্রকৃত শক্তি সেখানেই সীমাবদ্ধ নয়।

রাষ্ট্রের স্বার্থ সময়ের সঙ্গে বদলায়, প্রযুক্তি পরিবর্তিত হয়, আন্তর্জাতিক জোটও পুনর্গঠিত হয়। কিন্তু মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং সভ্যতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা আস্থা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি স্থায়ী।

ভারত ও জাপানের সামনে আজ সুযোগ রয়েছে এমন এক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার, যা কেবল দুই দেশের লাভ-ক্ষতির হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি দেখাতে পারে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক শাসন, সাংস্কৃতিক সংহতি এবং মানবিক মূল্যবোধ একই সঙ্গে বিকশিত হতে পারে।

যদি তারা সেই পথ বেছে নিতে পারে, তবে সেটিই হবে একবিংশ শতাব্দীতে এশিয়ার জন্য তাদের সবচেয়ে বড় অবদান।