০৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
সামরিক বিরতির আগে সেভেন্টিনের আবেগঘন ‘ক্যারেট ল্যান্ড’: তিন বছরের মধ্যে ১৩ জনের ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলজিৎ দোসাঞ্জের সান ফ্রান্সিসকো কনসার্টে মঞ্চে অনুপ্রবেশ, খালিস্তান পতাকা হাতে বিক্ষোভকারী আটক ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ: ফ্রান্সে স্কুল বন্ধ, ট্রেন বাতিল, প্রকাশ্যে মদপানে বিধিনিষেধ কলম্বিয়ায় ডানপন্থী মোড়: ট্রাম্প-সমর্থিত দে লা এস্প্রিয়েলার অল্প ব্যবধানে জয়, ফল চ্যালেঞ্জে বাম শিবির মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: বাংলাদেশের ৫১ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা ৫ বায়ুদূষণে আবারও বিপজ্জনক ঢাকা: AQI ১৬৭ নিয়ে বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় কুমিল্লায় ওষুধ কারখানায় অভিযান: ৫টির অনুমোদনে ২২ ধরনের ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগ ঢাকায় ‘অটো সাজাল’ গ্রেপ্তার: অস্ত্র, গুলি ও হেরোইন উদ্ধারে নতুন উদ্বেগ শেয়ারবাজারে নয়, শক্তিতে বাজি: কেন এক ট্রিলিয়ন ডলারের পথে থেকেও তাড়াহুড়ো করছে না বাইটড্যান্স হরমুজ-পরবর্তী বাস্তবতা: উপসাগরীয় জ্বালানি মানচিত্র কি নতুন করে আঁকা হচ্ছে?

শেয়ারবাজারে নয়, শক্তিতে বাজি: কেন এক ট্রিলিয়ন ডলারের পথে থেকেও তাড়াহুড়ো করছে না বাইটড্যান্স

বিশ্ব প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অলিখিত নিয়ম চালু ছিল—একটি স্টার্টআপ বড় হলে, দ্রুত শেয়ারবাজারে গিয়ে মূলধন সংগ্রহ করবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্থানপথ তৈরি করবে। কিন্তু চীনের বাইটড্যান্স সেই ধারণাকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠানটি এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তার সম্ভাব্য মূল্যায়ন এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, তবু কোম্পানিটি প্রকাশ্য বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নয়।

এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি কোম্পানির কৌশলগত পছন্দ নয়; এটি প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বড় একটি বার্তা বহন করে।

বাইটড্যান্সের উত্থানকে বুঝতে হলে শুরুতে ফিরে যেতে হয়। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর খুব দ্রুতই কিছু দূরদর্শী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিল। তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন—এমন প্রতিযোগিতাপূর্ণ চীনা প্রযুক্তি বাজারে বাইটড্যান্সের বিশেষত্ব কোথায়? প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আলাদা হওয়ার মতো কী শক্তি তাদের আছে?

উত্তরটি ছিল অ্যালগরিদম।

বাইটড্যান্স এমন সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কনটেন্ট সুপারিশ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে গড়ে তোলে, যখন অধিকাংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মূলত নেটওয়ার্কভিত্তিক পণ্য হিসেবে দেখছিল। ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে কী দেখানো হবে, কতক্ষণ দেখানো হবে এবং কীভাবে সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে—এই দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেয়।

আজ সেই প্রযুক্তিগত সুবিধা শুধু টিকটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ই-কমার্স এবং চ্যাটবট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি নিজের অবস্থান শক্ত করছে। তাদের ‘দৌবাও’ চ্যাটবট ইতোমধ্যে বিপুল ব্যবহারকারী অর্জন করেছে এবং বিনামূল্যের সেবার পাশাপাশি অর্থপ্রদানের মডেলও চালু করছে। এটি দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তি খাত আবারও ব্যবহারকারী বৃদ্ধির বদলে আয় ও টেকসই ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। যদি একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ক্রমাগত বাড়তেই থাকে, তাহলে বর্তমান পর্যায়ে বাজারে গিয়ে মালিকানা ছাড়ার তাগিদ কোথায়? বিশেষ করে যখন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতের মূল্য আরও অনেক বেশি হতে পারে।

May be an image of text that says '500 S&P 500 SPACEX 600 0000 8,400 0000 SpaceX IPO 8 8, ,200. 0000 ,000. 8,000.0000 0000 7 800. 0000 Anthropic IPO 7 600. 0000 Open AI IPO ,400 0000 ,200. 7,200.0000 0000 ,000. 000.0000 0000 6 800. 6,800.0000 0000 $6,427 7% 6,600. 6,600.0000 0000 $6,348 348 $6 6,410. 6,410.5898 5898 $6, $6,282 2026 6,200. 6,200.0000 0000 Mon Feb 27 6,000. 000.0000 0000 5, 5,800.0000 ,800. 0000 2028'

এর পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকটককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কোম্পানিটির জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। কিন্তু টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমে নতুন মালিকানা কাঠামো গড়ে ওঠার পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। ফলে কোম্পানির সামনে এখন আগের তুলনায় বেশি কৌশলগত স্বাধীনতা রয়েছে।

বাইটড্যান্সের সাফল্য একই সঙ্গে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল মডেলের কার্যকারিতারও একটি শক্তিশালী উদাহরণ। এই খাতে অধিকাংশ বিনিয়োগ ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু একটি ব্যতিক্রমী সাফল্য পুরো পোর্টফোলিওর ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সক্ষম। বাইটড্যান্স সেই বিরল উদাহরণ, যা বহু বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের জন্য অসাধারণ মুনাফার উৎসে পরিণত হয়েছে।

তবে কোম্পানিটির উত্থান আরও একটি বাস্তবতা সামনে আনে। প্রযুক্তি খাতে আজ প্রতিযোগিতা কেবল একই শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংগীত, বার্তা আদান-প্রদান, বিজ্ঞাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইন বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। ফলে বাইটড্যান্সের বিস্তারকে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা অস্বাভাবিক নয়।

অন্যদিকে, চীনের সামগ্রিক শেয়ারবাজার এখনো সেই উচ্ছ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। কিন্তু বৃহত্তর অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর কারণে বৈশ্বিক তেলের দামের ওঠানামার প্রতি চীনের নির্ভরশীলতাও কমেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাইটড্যান্সের ভবিষ্যৎ তালিকাভুক্তি শুধু একটি করপোরেট ঘটনা হবে না; এটি চীনের প্রযুক্তি খাত এবং শেয়ারবাজারের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে যদি কোম্পানিটি হংকংয়ে তালিকাভুক্ত হয়, তাহলে সেটি নতুন করে আস্থা সৃষ্টির অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

ততদিন পর্যন্ত বাইটড্যান্স একটি ভিন্ন ধরনের বার্তা দিচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সবসময় শেয়ারবাজার নয়; কখনও কখনও তা হলো উদ্ভাবনের ওপর অটল বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এবং এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল, যার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়িত হয়নি। আর সেই কারণেই হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এখনো অপেক্ষা করতে রাজি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সামরিক বিরতির আগে সেভেন্টিনের আবেগঘন ‘ক্যারেট ল্যান্ড’: তিন বছরের মধ্যে ১৩ জনের ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি

শেয়ারবাজারে নয়, শক্তিতে বাজি: কেন এক ট্রিলিয়ন ডলারের পথে থেকেও তাড়াহুড়ো করছে না বাইটড্যান্স

০৬:০৮:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বিশ্ব প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অলিখিত নিয়ম চালু ছিল—একটি স্টার্টআপ বড় হলে, দ্রুত শেয়ারবাজারে গিয়ে মূলধন সংগ্রহ করবে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্থানপথ তৈরি করবে। কিন্তু চীনের বাইটড্যান্স সেই ধারণাকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠানটি এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে তার সম্ভাব্য মূল্যায়ন এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, তবু কোম্পানিটি প্রকাশ্য বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নয়।

এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি কোম্পানির কৌশলগত পছন্দ নয়; এটি প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বড় একটি বার্তা বহন করে।

বাইটড্যান্সের উত্থানকে বুঝতে হলে শুরুতে ফিরে যেতে হয়। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর খুব দ্রুতই কিছু দূরদর্শী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিল। তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন—এমন প্রতিযোগিতাপূর্ণ চীনা প্রযুক্তি বাজারে বাইটড্যান্সের বিশেষত্ব কোথায়? প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে আলাদা হওয়ার মতো কী শক্তি তাদের আছে?

উত্তরটি ছিল অ্যালগরিদম।

বাইটড্যান্স এমন সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কনটেন্ট সুপারিশ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে গড়ে তোলে, যখন অধিকাংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মূলত নেটওয়ার্কভিত্তিক পণ্য হিসেবে দেখছিল। ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে কী দেখানো হবে, কতক্ষণ দেখানো হবে এবং কীভাবে সম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে—এই দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেয়।

আজ সেই প্রযুক্তিগত সুবিধা শুধু টিকটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ই-কমার্স এবং চ্যাটবট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি নিজের অবস্থান শক্ত করছে। তাদের ‘দৌবাও’ চ্যাটবট ইতোমধ্যে বিপুল ব্যবহারকারী অর্জন করেছে এবং বিনামূল্যের সেবার পাশাপাশি অর্থপ্রদানের মডেলও চালু করছে। এটি দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তি খাত আবারও ব্যবহারকারী বৃদ্ধির বদলে আয় ও টেকসই ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। যদি একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ক্রমাগত বাড়তেই থাকে, তাহলে বর্তমান পর্যায়ে বাজারে গিয়ে মালিকানা ছাড়ার তাগিদ কোথায়? বিশেষ করে যখন কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতের মূল্য আরও অনেক বেশি হতে পারে।

May be an image of text that says '500 S&P 500 SPACEX 600 0000 8,400 0000 SpaceX IPO 8 8, ,200. 0000 ,000. 8,000.0000 0000 7 800. 0000 Anthropic IPO 7 600. 0000 Open AI IPO ,400 0000 ,200. 7,200.0000 0000 ,000. 000.0000 0000 6 800. 6,800.0000 0000 $6,427 7% 6,600. 6,600.0000 0000 $6,348 348 $6 6,410. 6,410.5898 5898 $6, $6,282 2026 6,200. 6,200.0000 0000 Mon Feb 27 6,000. 000.0000 0000 5, 5,800.0000 ,800. 0000 2028'

এর পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকটককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কোম্পানিটির জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। কিন্তু টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমে নতুন মালিকানা কাঠামো গড়ে ওঠার পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। ফলে কোম্পানির সামনে এখন আগের তুলনায় বেশি কৌশলগত স্বাধীনতা রয়েছে।

বাইটড্যান্সের সাফল্য একই সঙ্গে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল মডেলের কার্যকারিতারও একটি শক্তিশালী উদাহরণ। এই খাতে অধিকাংশ বিনিয়োগ ব্যর্থ হতে পারে, কিন্তু একটি ব্যতিক্রমী সাফল্য পুরো পোর্টফোলিওর ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সক্ষম। বাইটড্যান্স সেই বিরল উদাহরণ, যা বহু বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের জন্য অসাধারণ মুনাফার উৎসে পরিণত হয়েছে।

তবে কোম্পানিটির উত্থান আরও একটি বাস্তবতা সামনে আনে। প্রযুক্তি খাতে আজ প্রতিযোগিতা কেবল একই শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি শক্তিশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংগীত, বার্তা আদান-প্রদান, বিজ্ঞাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইন বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। ফলে বাইটড্যান্সের বিস্তারকে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখা অস্বাভাবিক নয়।

অন্যদিকে, চীনের সামগ্রিক শেয়ারবাজার এখনো সেই উচ্ছ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। প্রযুক্তি খাতের কয়েকটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রম থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। কিন্তু বৃহত্তর অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর কারণে বৈশ্বিক তেলের দামের ওঠানামার প্রতি চীনের নির্ভরশীলতাও কমেছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাইটড্যান্সের ভবিষ্যৎ তালিকাভুক্তি শুধু একটি করপোরেট ঘটনা হবে না; এটি চীনের প্রযুক্তি খাত এবং শেয়ারবাজারের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে যদি কোম্পানিটি হংকংয়ে তালিকাভুক্ত হয়, তাহলে সেটি নতুন করে আস্থা সৃষ্টির অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

ততদিন পর্যন্ত বাইটড্যান্স একটি ভিন্ন ধরনের বার্তা দিচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সবসময় শেয়ারবাজার নয়; কখনও কখনও তা হলো উদ্ভাবনের ওপর অটল বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এবং এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল, যার সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়িত হয়নি। আর সেই কারণেই হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এখনো অপেক্ষা করতে রাজি।