কুমিল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে ‘মডার্ন ড্রাগ’ নামের একটি ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির মাত্র পাঁচটি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও বাজারে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছিল। অভিযানে অননুমোদিত ওষুধ, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
শিশুদের ওষুধে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ওষুধ প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কারখানাটিতে উৎপাদিত কিছু ওষুধ শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শিশুদের ওষুধে মান নিয়ন্ত্রণের ব্যত্যয় হলে তা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডোজ, উপাদান, সংরক্ষণ পদ্ধতি বা উৎপাদন মানে ত্রুটি থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হয়।
অনুমোদন ছাড়িয়ে উৎপাদন
অভিযানসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ওষুধের সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি। কিন্তু বাজারে ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহের অভিযোগ ওঠে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, ভোক্তাদের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণাও। কারণ সাধারণ মানুষ ওষুধ কেনার সময় উৎপাদন অনুমোদন, মান পরীক্ষা বা প্রশাসনিক ছাড়পত্র যাচাই করতে পারে না।
মালিকের আংশিক স্বীকারোক্তি
কারখানার মালিক জুবায়ের ইসলাম অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দ করা ওষুধ ও কাঁচামাল পরীক্ষা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ওষুধের মতো সংবেদনশীল পণ্যে অনুমোদনের বাইরে উৎপাদন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
কঠোর নজরদারির দাবি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন অভিযান শুধু একবারের জন্য নয়, নিয়মিতভাবে চালানো প্রয়োজন। কারণ ভেজাল, অননুমোদিত বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ রোগী, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















