০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
মালয়েশিয়ার ডানমুখী রাজনৈতিক মোড়: কেন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত আসিয়ানের ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: বাংলাদেশের ৫১ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বাংলাদেশের ৫১টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ঢাকার হাইকোর্টে অভিযোগ আনা হয়েছে। মালয়েশিয়াকিনির দেখা নথি অনুযায়ী, গত ১৬ জুন এসব অভিযোগ দাখিল করা হয়।

মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও এসেছে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী আলতাব খানের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শ্রমিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অর্থপাচার ঠেকানোর স্বার্থেই এই মামলা করা হয়েছে।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ৩৪ ধারায় অভিন্ন উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের নামও মামলায়

মামলায় যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন, মো. কাউসার মৃধা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও গোলাম মোস্তফা। মালয়েশিয়াকিনি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। Kuala Lumpur-এ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

তবে একই ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর অধীনে আগে যে ১০৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সেসব অভিযোগ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। ২২ মে তারিখের প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রায়হানুর রহমান উল্লেখ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অনুমোদন নিয়ে আইনগতভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি পেয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

অভিযোগকারীর আপত্তি

অভিযোগকারী আলতাব খান পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলেছেন। তার দাবি, ১০৩টি এজেন্সির মধ্যে ৫১টির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনা হলেও মানব পাচার আইনের অভিযোগ কেন প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে আলোচনা করেননি এবং তাকে কোনো বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে ফের সিন্ডিকেটবাজীর আশঙ্কা

আলতাব জানিয়েছেন, তার আইনজীবীরা আদালতে আপত্তি আবেদন বা নো-কনফিডেন্স পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে মানব পাচার আইনের অভিযোগ প্রত্যাহারের সুপারিশকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

বিতর্কের শুরু কোথায়

বিতর্কের সূত্রপাত মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের আগের সরকারি চুক্তির অধীনে গঠিত কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাকে ঘিরে। ওই ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ১০৩টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে। কিন্তু এই সীমিত এজেন্সি ব্যবস্থাকে ঘিরে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল।

সাবেক শ্রমিক, মালয়েশীয় রাজনীতিক ও বিভিন্ন এনজিওর অভিযোগ—এই কাঠামো কার্যত একটি একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরি করে, যা পরে শ্রমিক নিয়োগ সিন্ডিকেটে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আলতাব খান ১০৩টি এজেন্সি এবং মালয়েশিয়ার কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেন।

তার অভিযোগ, কর্মী নিয়োগের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভিসা প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি, শ্রমিকদের দুর্ভোগে ফেলা এবং বিদেশে মানুষকে জিম্মি করে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। আলতাব দাবি করেন, সরকারি নির্ধারিত ৭৮,৯৯০ টাকার বাইরে প্রতি কর্মীর জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত ৮৪১ জন কর্মী পাঠাতে তিনি মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

ঘটনাটি আগে কূটনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছিল। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে অভিযোগগুলোর তদন্ত বন্ধের অনুরোধ করেছিল বলে মালয়েশিয়াকিনি জানিয়েছে। তখন দাবি করেছিল, মানব পাচার ও অর্থপাচার-সংক্রান্ত বেশিরভাগ অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের তদন্ত মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ও বিদেশি কর্মী প্রবেশ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার ডানমুখী রাজনৈতিক মোড়: কেন উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত আসিয়ানের

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: বাংলাদেশের ৫১ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা

০৬:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বাংলাদেশের ৫১টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ঢাকার হাইকোর্টে অভিযোগ আনা হয়েছে। মালয়েশিয়াকিনির দেখা নথি অনুযায়ী, গত ১৬ জুন এসব অভিযোগ দাখিল করা হয়।

মামলায় সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদসহ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও এসেছে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী আলতাব খানের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শ্রমিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অর্থপাচার ঠেকানোর স্বার্থেই এই মামলা করা হয়েছে।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬ ধারায় অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ৩৪ ধারায় অভিন্ন উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের নামও মামলায়

মামলায় যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন, মো. কাউসার মৃধা, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও গোলাম মোস্তফা। মালয়েশিয়াকিনি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি। Kuala Lumpur-এ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

তবে একই ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর অধীনে আগে যে ১০৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সেসব অভিযোগ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার ও স্পেশাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। ২২ মে তারিখের প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রায়হানুর রহমান উল্লেখ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অনুমোদন নিয়ে আইনগতভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি পেয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

অভিযোগকারীর আপত্তি

অভিযোগকারী আলতাব খান পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলেছেন। তার দাবি, ১০৩টি এজেন্সির মধ্যে ৫১টির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনা হলেও মানব পাচার আইনের অভিযোগ কেন প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে আলোচনা করেননি এবং তাকে কোনো বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে ফের সিন্ডিকেটবাজীর আশঙ্কা

আলতাব জানিয়েছেন, তার আইনজীবীরা আদালতে আপত্তি আবেদন বা নো-কনফিডেন্স পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে মানব পাচার আইনের অভিযোগ প্রত্যাহারের সুপারিশকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।

বিতর্কের শুরু কোথায়

বিতর্কের সূত্রপাত মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের আগের সরকারি চুক্তির অধীনে গঠিত কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাকে ঘিরে। ওই ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ১০৩টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে। কিন্তু এই সীমিত এজেন্সি ব্যবস্থাকে ঘিরে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল।

সাবেক শ্রমিক, মালয়েশীয় রাজনীতিক ও বিভিন্ন এনজিওর অভিযোগ—এই কাঠামো কার্যত একটি একচেটিয়া ব্যবস্থা তৈরি করে, যা পরে শ্রমিক নিয়োগ সিন্ডিকেটে রূপ নেয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আলতাব খান ১০৩টি এজেন্সি এবং মালয়েশিয়ার কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেন।

তার অভিযোগ, কর্মী নিয়োগের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভিসা প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি, শ্রমিকদের দুর্ভোগে ফেলা এবং বিদেশে মানুষকে জিম্মি করে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। আলতাব দাবি করেন, সরকারি নির্ধারিত ৭৮,৯৯০ টাকার বাইরে প্রতি কর্মীর জন্য অতিরিক্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত ৮৪১ জন কর্মী পাঠাতে তিনি মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

ঘটনাটি আগে কূটনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছিল। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে অভিযোগগুলোর তদন্ত বন্ধের অনুরোধ করেছিল বলে মালয়েশিয়াকিনি জানিয়েছে। তখন দাবি করেছিল, মানব পাচার ও অর্থপাচার-সংক্রান্ত বেশিরভাগ অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং এ ধরনের তদন্ত মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ও বিদেশি কর্মী প্রবেশ প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।