যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণার পর দলটির নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় সূত্র ও বিভিন্ন নেতার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হলে জুলাইয়ের মধ্যভাগেই তিনি লেবার নেতা এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যত এগোচ্ছে, ততই ব্রিটিশ রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং সরকারের ভবিষ্যৎ নীতির প্রশ্ন সামনে আসছে। মন্ত্রিসভার সদস্য নিক থমাস-সাইমন্ডস নেতৃত্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে “সুশৃঙ্খল রূপান্তরের” আহ্বান জানিয়েছেন এবং বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সময়ে কয়েকজন লেবার এমপি সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অর্থনীতি হবে বার্নহ্যামের প্রধান অঙ্গীকার
আগামী সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বার্নহ্যাম অর্থনীতি সম্প্রসারণ, জাতীয় ঋণ কমানো এবং সরকারি ঋণ গ্রহণের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দেবেন বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমান আর্থিক নীতিমালার মধ্যেই প্রবৃদ্ধি অর্জনের একটি “বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা” তুলে ধরতে চান।

ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুদিনের জন্য ধীর হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতির দিকনির্দেশনা নিয়েও ব্যবসায়ী মহলে আলোচনা চলছে।
বিরোধীদের নির্বাচনের দাবি
কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক এবং রিফর্ম ইউকের নেতারা নতুন নেতৃত্ব আসার পর সাধারণ নির্বাচনের দাবি তুলেছেন। তাদের যুক্তি, নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে জনগণের কাছ থেকে নতুন রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নেওয়া উচিত।
তবে লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি এ মুহূর্তে সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না। তার মতে, জনগণ নতুন প্রধানমন্ত্রীকে কাজ করার সুযোগ দিতে চায় এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কিছুটা স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।
লেবারের ভেতরে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা
যদিও বার্নহ্যামকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও কিছু এমপি বর্তমান মন্ত্রী ড্যারেন জোনসকে প্রার্থী হওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। তার সমর্থকদের দাবি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তার অভিজ্ঞতা দলকে নতুন আস্থা দিতে পারে।

অন্যদিকে সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসও নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেননি। তিনি কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের জল্পনা
নেতৃত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমান চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস তার পদ হারাতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এড মিলিব্যান্ড, ওয়েস স্ট্রিটিং এবং শাবানা মাহমুদের নাম উঠে এসেছে।
লেবার নেতৃত্ব নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে ৯ জুলাই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৬ জুলাই। যদি বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, তাহলে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যেই তিনি দলের নেতা হতে পারেন। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সেপ্টেম্বরের আগে নতুন নেতা নির্বাচনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্রিটেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া শুধু লেবার পার্টির ভবিষ্যৎই নয়, দেশের অর্থনীতি, ব্যবসায়িক আস্থা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















