মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব কাটাতে ভারত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেকর্ড পরিমাণ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির পথে রয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের এলপিজি আমদানি ১১ থেকে ১২ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ভারতে এলপিজি মূলত গৃহস্থালির রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতদিন দেশটির মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন উৎপাদক দেশের কাছ থেকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারত বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে।
সরবরাহ সংকটের ধাক্কা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এপ্রিল মাসে ভারতের এলপিজি আমদানি নেমে আসে মাত্র ৬ লাখ ৯৬ হাজার টনে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় মে মাসে তা বেড়ে ১১ লাখ ৫০ হাজার টনে পৌঁছায়।
![]()
সংকটের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নত করার অংশ হিসেবে ভারত মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সেই পরিকল্পনাকে আরও দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি ক্রয়
শিল্প সূত্রগুলোর ভাষ্য, রান্নার গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি না রাখতে ভারতীয় শোধনাগারগুলো স্পট মার্কেটে অতিরিক্ত দামে বিপুল পরিমাণ এলপিজি কিনেছে। এর বড় অংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টন এলপিজি আমদানি করেছে। জুনের প্রাথমিক হিসাব বলছে, এ সংখ্যা ১০ লাখ ৭০ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭০০ টন। জুনে তা বেড়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশীয় পদক্ষেপে কমছে চাহিদা
সরকার এলপিজি সংকট মোকাবিলায় শোধনাগারগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে গৃহস্থালি খাতে এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপের ফলে ভারতের এলপিজি ব্যবহার ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে শুরু করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ফিরছে
জুন মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টন এলপিজি সরবরাহ পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় শোধনাগারগুলোর সূত্র। এছাড়া কুয়েত থেকেও প্রায় ৪৫ হাজার টন এলপিজি পাওয়ার কথা রয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে ইরান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ২০০ টন এবং কুয়েত থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৬০০ টন এলপিজি আমদানির সূচি রয়েছে। পাশাপাশি ওমান, সৌদি আরব, আলজেরিয়া, কাতার ও নাইজেরিয়া থেকেও কিছু চালান আসার কথা।
দাম কমার আশা
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, হরমুজ প্রণালির আংশিক পুনরায় চালু হওয়ার ফলে আগামী মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলপিজি সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং বর্তমানে উচ্চ পর্যায়ে থাকা এলপিজির দামও কিছুটা কমতে পারে।
ভারতের সাম্প্রতিক আমদানি প্রবণতা দেখাচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি এখন আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় উৎসের ওপর নির্ভরতা গড়ে তুলছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঐতিহ্যগত সরবরাহকারীদের ভূমিকা আবারও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















