০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
জুলাইয়ে পর্দা কাঁপাতে আসছে ১০ নতুন সিরিজ, দর্শকদের নজরে রহস্য, কমেডি ও থ্রিলারের দারুণ মিশেল সিডনিতে হাঙরের হামলার পর আশার আলো, কোমা থেকে জেগে উঠলেন তরুণী মা চীনের সুপারকম্পিউটার আবার বিশ্বসেরা, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে এখনো চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের অভিবাসন আদালত গ্রেপ্তার নীতি বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইনি ধাক্কা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা, ঢাকায় গ্রেপ্তার ৪৪ শীঘ্রই খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, এমওইউ সংশোধনেই জোর বাংলাদেশের ডলারের দাপট বাড়ছেই: ১৩ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে মার্কিন মুদ্রা, চাপে ইয়েন ও ইউরো উদ্বোধনের আগেই ফাটল: রাবির বিজয়-৭১ হল ঘিরে উদ্বেগ, তদন্তে কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালি খুলতেই তেলবাহী ট্যাংকার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি ইরানে স্টারলিংক ডিভাইস পাচারের দাবি, স্বীকারোক্তিতে নতুন বিতর্ক

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদি সরকারকে সতর্ক করল কংগ্রেস

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের স্বার্থের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই বেশি সুবিধা দেবে। দলটির দাবি, এমন কোনো চুক্তি হলে দেশের কৃষক ও স্থানীয় শিল্পখাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

বাণিজ্য আলোচনায় বাড়ছে প্রশ্ন

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও কেন ভারত দ্রুত একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। তাদের মতে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতির ভবিষ্যৎ স্পষ্ট নয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রতিশ্রুতিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

দলটির অভিযোগ, পূর্বে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে ভারতকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ছিল মার্কিন কৃষি ও শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি। বিনিময়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কিছু শুল্ক হ্রাস করবে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল।

শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

Congress Has More Power Than It Thinks | Lawfare

কংগ্রেসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ফলে পূর্বে আলোচিত শুল্ক সুবিধাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য পরিবেশ আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

দলটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নতুন চুক্তি করলে ভারত প্রত্যাশিত সুবিধা নাও পেতে পারে। বরং দেশকে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিতে হতে পারে, যার বিপরীতে নিশ্চিত সুবিধা থাকবে না।

কৃষি ও শিল্পখাত নিয়ে উদ্বেগ

কংগ্রেস বলছে, ভারতের বাজার আরও বেশি উন্মুক্ত করা হলে কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা চাপে পড়বেন। বিশেষ করে ফল, শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে স্থানীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

Why are India's farmers protesting? It's economics—but also politics

একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পখাতও উদ্বেগের মধ্যে পড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ কম শুল্কে বিদেশি পণ্য প্রবেশ করলে স্থানীয় উৎপাদকদের বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

সরকারের প্রতি আহ্বান

বিরোধী দল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের মতে, শুধুমাত্র কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্দেশ্যে এমন কোনো সমঝোতা করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে কৃষক, শ্রমিক বা শিল্পখাতের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশই বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, শুল্কসংক্রান্ত বাধা কমানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ খুঁজছে। তবে এসব আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও সমানতালে বাড়ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ে পর্দা কাঁপাতে আসছে ১০ নতুন সিরিজ, দর্শকদের নজরে রহস্য, কমেডি ও থ্রিলারের দারুণ মিশেল

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদি সরকারকে সতর্ক করল কংগ্রেস

১১:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের স্বার্থের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই বেশি সুবিধা দেবে। দলটির দাবি, এমন কোনো চুক্তি হলে দেশের কৃষক ও স্থানীয় শিল্পখাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

বাণিজ্য আলোচনায় বাড়ছে প্রশ্ন

কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও কেন ভারত দ্রুত একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। তাদের মতে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতির ভবিষ্যৎ স্পষ্ট নয়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রতিশ্রুতিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

দলটির অভিযোগ, পূর্বে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে ভারতকে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ছিল মার্কিন কৃষি ও শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি। বিনিময়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কিছু শুল্ক হ্রাস করবে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল।

শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা

Congress Has More Power Than It Thinks | Lawfare

কংগ্রেসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ফলে পূর্বে আলোচিত শুল্ক সুবিধাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য পরিবেশ আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে।

দলটির মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নতুন চুক্তি করলে ভারত প্রত্যাশিত সুবিধা নাও পেতে পারে। বরং দেশকে বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি দিতে হতে পারে, যার বিপরীতে নিশ্চিত সুবিধা থাকবে না।

কৃষি ও শিল্পখাত নিয়ে উদ্বেগ

কংগ্রেস বলছে, ভারতের বাজার আরও বেশি উন্মুক্ত করা হলে কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকরা চাপে পড়বেন। বিশেষ করে ফল, শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে স্থানীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

Why are India's farmers protesting? It's economics—but also politics

একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পখাতও উদ্বেগের মধ্যে পড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ কম শুল্কে বিদেশি পণ্য প্রবেশ করলে স্থানীয় উৎপাদকদের বাজার ধরে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

সরকারের প্রতি আহ্বান

বিরোধী দল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো চুক্তিতে যাওয়ার আগে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের মতে, শুধুমাত্র কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্দেশ্যে এমন কোনো সমঝোতা করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে কৃষক, শ্রমিক বা শিল্পখাতের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশই বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, শুল্কসংক্রান্ত বাধা কমানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ খুঁজছে। তবে এসব আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও সমানতালে বাড়ছে।