বিশ্ববাজারে আবারও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে মার্কিন ডলার। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন, বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁক এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশার কারণে ডলার ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
বুধবার প্রধান কয়েকটি আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক ১০১.৫১ পয়েন্টে ওঠে, যা ২০২৫ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা এখনো ডলারকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখছেন।
প্রযুক্তি খাতের ধাক্কা
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারের ব্যাপক দরপতন বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে ডলার ও সরকারি বন্ডের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই অস্থিরতা ডলারের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মুদ্রাটির মূল্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
![]()
সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী থাকায় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও এক দফা সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা জোরালো হয়েছে। বর্তমানে জুলাই মাসের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আগের সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একইভাবে সেপ্টেম্বরেও হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারের এই প্রত্যাশা ডলারের জন্য বাড়তি সমর্থন তৈরি করছে। কারণ উচ্চ সুদের হার সাধারণত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রাকে শক্তিশালী করে।
ইউরো ও পাউন্ডের দুর্বলতা
ডলারের উত্থানের ফলে ইউরো এক বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ব্রিটিশ পাউন্ডও কিছুটা দুর্বল হয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সুদের হার দীর্ঘ সময় অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত আসার পর পাউন্ডের ওপর চাপ বেড়েছে।
অন্যদিকে ঝুঁকিনির্ভর মুদ্রা হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলারও দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড ডলার সাত মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
নিরাপদ সম্পদের প্রতি চাহিদা বাড়ার পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণও কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিও ডলারের প্রতি আগ্রহকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইয়েনের ওপর বাড়ছে চাপ
জাপানি ইয়েনও ডলারের বিপরীতে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ইয়েন দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী চাপে রয়েছে। জাপান সরকার ও কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তাও বাজারে বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চলতি বছরে আরও সুদের হার বাড়ায়, তাহলে ইয়েনের মূল্য আরও কমতে পারে। এ অবস্থায় জাপান সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্ববাজারে এখন নজর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। সুদের হার ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই আগামী মাসগুলোতে মুদ্রাবাজারের দিক নির্ধারিত হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















