ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলো রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় তেলবাহী ট্যাংকারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্যাংকার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে চলাচল এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কম। তবে পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নতুন করে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
ট্যাংকার সংকটে বেড়েছে ভাড়া
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ভেতরে এখনও প্রায় ১০০টি তেলবাহী ট্যাংকার বিভিন্ন কার্গো নিয়ে আটকে আছে। এতে ব্যবহারযোগ্য জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভাড়ার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে যেখানে একটি ট্যাংকার ভাড়া নিতে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ডলার খরচ হতো, এখন সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ডলারে। একই সঙ্গে বিশাল আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর দৈনিক আয়ও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের প্রয়োজন হবে। এ কারণে ট্যাংকার মালিকরা আরও বেশি মুনাফার আশা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকদের তৎপরতা
বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি বড় উৎপাদক দেশ সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে তেল বিক্রির প্রস্তাব আহ্বান করছে। তারা ক্রেতাদের উপসাগরের ভেতরের টার্মিনাল থেকে তেল উত্তোলনের জন্যও উৎসাহিত করছে।
এর ফলে নতুন নতুন ট্যাংকার উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করছে। অনেক জাহাজ বর্তমানে ইরাক ও অন্যান্য রপ্তানি টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা তেল পরিবহন কার্যক্রম বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতসহ এশিয়ার ক্রেতাদের আগ্রহ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর ভারতসহ এশিয়ার বড় বড় ক্রেতারা নতুন করে তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বড় পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অঞ্চলটির অপরিশোধিত তেলের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাহাজ সংকটও ভাড়া বাড়ার অন্যতম কারণ। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
যুদ্ধঝুঁকি বিমার খরচ কমছে
অন্যদিকে ইতিবাচক একটি দিক হলো যুদ্ধঝুঁকি বিমার খরচ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও জাহাজের মূল্যের প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত বিমা ব্যয় গুনতে হচ্ছিল। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
এর ফলে জাহাজ মালিক ও পরিচালনাকারীরা বিমা খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সামগ্রিকভাবে ট্যাংকার ভাড়া বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এখনও চাপের মধ্যেই রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তেল পরিবহন খরচ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















