০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে হামে প্রাণহানি বেড়ে ৬৮৯ নিয়োগের চার মাস পর পদত্যাগ, জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বললেন ব্যারিস্টার বাদল ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতি: শক্তির দম্ভ থেকে কূটনীতির সম্ভাবনার দিকে? বাংলাদেশের ভারসাম্যের কূটনীতি: দিল্লি না বেইজিং? শহরের রেলপথে ইতিহাসের চলমান পাঠশালা মস্তিষ্কের ব্যায়াম ছেড়ে দেবেন না: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আমাদের চিন্তার ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে? গ্রেপ্তারের একদিন পর চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু শুভেন্দু অধিকারীর দাবি: ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ দেশজুড়ে বৃষ্টির আভাস, কোথাও হতে পারে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলায় বগুড়ায় গ্রেপ্তার স্বাচিপ নেতা ডা. মিশু

ট্রাম্পের অভিবাসন আদালত গ্রেপ্তার নীতি বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইনি ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠোর করার লক্ষ্যে নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত অভিবাসন আদালত চত্বরে গ্রেপ্তার অভিযান সম্প্রসারণ এবং অস্থায়ী আটককেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে অভিবাসীদের আটকে রাখার নীতিকে আইনবহির্ভূত বলে রায় দিয়েছে।

রায়ের ফলে আগের তুলনায় কঠোর করা বেশ কয়েকটি অভিবাসন প্রয়োগ ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। আদালত বলেছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথাযথ ও যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

ফেডারেল বিচারক পি. কেসি পিটস তার রায়ে অভিবাসন আদালতে গ্রেপ্তারের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া এবং অস্থায়ী আটককেন্দ্রে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত আটক রাখার নীতি বাতিল করেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের অধীন অভিবাসন পর্যালোচনা দপ্তরের অনুরূপ নির্দেশনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

Federal immigration officers at U.S. Immigration Court in New York City

৭১ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়নি। সরকারি সংস্থাগুলো কেন আগের নীতি বাতিল করা প্রয়োজন ছিল, সে বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

আশ্রয়প্রার্থীর মামলায় এ রায়

এই মামলার সূত্রপাত হয় এক আশ্রয়প্রার্থীর অভিযোগ থেকে। তিনি সান ফ্রান্সিসকোর একটি অভিবাসন আদালতে নিয়মিত শুনানি শেষে বের হওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে বিষয়টি বিচারাধীন হয়।

রায়ের মাধ্যমে আদালত আগের প্রশাসনের সময়কার সীমিত নীতিগুলো কার্যত পুনর্বহাল করেছে। সেই নীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিংবা বিশেষ জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।

আটকের সময়সীমাও কমল

রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অস্থায়ী আটককেন্দ্রে অভিবাসীদের রাখার সময়সীমা। ট্রাম্প প্রশাসন এটি ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের ১২ ঘণ্টার সীমা কার্যকর হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে।

অভিবাসন নীতিতে নতুন বিতর্ক

U.S. Immigration Debate Recalls Restrictive 1924 Act That Harmed Economy

ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়, যার মধ্যে আদালত চত্বরে গ্রেপ্তারের সুযোগ বাড়ানো অন্যতম ছিল।

তবে মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীরা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, এসব পদক্ষেপের কারণে অনেক মানুষ আদালতে হাজির হতে ভয় পাচ্ছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারের আইন কর্মকর্তারা আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এটিকে বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে বিচারক তার রায়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই আইন অনুযায়ী সরকারি সংস্থাগুলোকে কোনো নীতি পরিবর্তনের আগে যুক্তিসংগত কারণ তুলে ধরতে হয়। সেই বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা হলে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়।

এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিবাসন বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর আরও আইনি চ্যালেঞ্জের পথ খুলে দিতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে হামে প্রাণহানি বেড়ে ৬৮৯

ট্রাম্পের অভিবাসন আদালত গ্রেপ্তার নীতি বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইনি ধাক্কা

০১:২১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠোর করার লক্ষ্যে নেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত অভিবাসন আদালত চত্বরে গ্রেপ্তার অভিযান সম্প্রসারণ এবং অস্থায়ী আটককেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরে অভিবাসীদের আটকে রাখার নীতিকে আইনবহির্ভূত বলে রায় দিয়েছে।

রায়ের ফলে আগের তুলনায় কঠোর করা বেশ কয়েকটি অভিবাসন প্রয়োগ ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। আদালত বলেছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যথাযথ ও যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

ফেডারেল বিচারক পি. কেসি পিটস তার রায়ে অভিবাসন আদালতে গ্রেপ্তারের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া এবং অস্থায়ী আটককেন্দ্রে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত আটক রাখার নীতি বাতিল করেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের অধীন অভিবাসন পর্যালোচনা দপ্তরের অনুরূপ নির্দেশনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

Federal immigration officers at U.S. Immigration Court in New York City

৭১ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নেওয়া হয়নি। সরকারি সংস্থাগুলো কেন আগের নীতি বাতিল করা প্রয়োজন ছিল, সে বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

আশ্রয়প্রার্থীর মামলায় এ রায়

এই মামলার সূত্রপাত হয় এক আশ্রয়প্রার্থীর অভিযোগ থেকে। তিনি সান ফ্রান্সিসকোর একটি অভিবাসন আদালতে নিয়মিত শুনানি শেষে বের হওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হলে বিষয়টি বিচারাধীন হয়।

রায়ের মাধ্যমে আদালত আগের প্রশাসনের সময়কার সীমিত নীতিগুলো কার্যত পুনর্বহাল করেছে। সেই নীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কিংবা বিশেষ জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।

আটকের সময়সীমাও কমল

রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অস্থায়ী আটককেন্দ্রে অভিবাসীদের রাখার সময়সীমা। ট্রাম্প প্রশাসন এটি ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের ১২ ঘণ্টার সীমা কার্যকর হওয়ার পথ খুলে দিয়েছে।

অভিবাসন নীতিতে নতুন বিতর্ক

U.S. Immigration Debate Recalls Restrictive 1924 Act That Harmed Economy

ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করতে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়, যার মধ্যে আদালত চত্বরে গ্রেপ্তারের সুযোগ বাড়ানো অন্যতম ছিল।

তবে মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইনজীবীরা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন, এসব পদক্ষেপের কারণে অনেক মানুষ আদালতে হাজির হতে ভয় পাচ্ছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারের আইন কর্মকর্তারা আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এটিকে বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে বিচারক তার রায়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই আইন অনুযায়ী সরকারি সংস্থাগুলোকে কোনো নীতি পরিবর্তনের আগে যুক্তিসংগত কারণ তুলে ধরতে হয়। সেই বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করা হলে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়।

এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিবাসন বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর আরও আইনি চ্যালেঞ্জের পথ খুলে দিতে পারে।