জুলাই সনদসহ বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে জামায়াতপন্থি ১৮ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি বলেছেন, সরকারের অধীনে কয়েক মাস দায়িত্ব পালন, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পর হঠাৎ রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে পদত্যাগ করা প্রত্যাশিত নয়।
বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ১৮ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সরকার পরিবর্তনের পর পদত্যাগ ‘প্রচলিত রীতি’
ব্যারিস্টার বাদল বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইন কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারীরা সাধারণত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

তার ভাষ্য, সম্প্রতি পদত্যাগ করা কর্মকর্তারাও বর্তমান সরকারের অধীনে প্রায় চার মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তারা সরকারি পদমর্যাদা ব্যবহার করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।
‘পদত্যাগের ব্যাখ্যা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, পদত্যাগের সময় রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে আনা অনাকাঙ্ক্ষিত। তার মতে, কর্মকর্তাদের পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে এবং তাদের দেওয়া বক্তব্যকে নিরপেক্ষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা কঠিন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের পুরো সময়জুড়ে তারা সরকারের হয়ে কাজ করেছেন কি না, নাকি সরকারের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ফাইল পর্যালোচনার আহ্বান
ব্যারিস্টার বাদল অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত চার মাসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেসব মামলার ফাইল ও আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, সেগুলো পর্যালোচনা করা উচিত। তার দাবি, সরকারের পক্ষে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি পরবর্তীতে সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়।
তিনি আরও বলেন, আইন কর্মকর্তাদের আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে তার কাছে মনে হয়েছে। এমন অবস্থান অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইন অঙ্গনে নতুন বিতর্ক
১৮ জন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের একযোগে পদত্যাগ এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া দেশের আইন অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। পদত্যাগের কারণ ও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















