১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান আমেরিকা কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? কারখানার মেঝেতেই জাপানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আসল লড়াই ২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের হিসাব জটিল করতে প্রতিরক্ষা জোট বাড়াচ্ছে জাপান দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের প্রধান কৌঁসুলির পদত্যাগ মেক্সিকোয় অস্ট্রেলীয় দুই সার্ফার ভাই হত্যার বিচার শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ফুটবল নায়ক অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের উত্থান

বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি গোল কখনও কখনও শুধু স্কোরলাইন বদলায় না, বদলে দেয় একজন খেলোয়াড়ের জীবনও। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করে তিনি শুধু নিজের দলকে নিখুঁত সূচনা এনে দেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন।

এই গল্পের বিশেষত্ব হলো, অ্যালেক্সের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার পরিবারের ক্রীড়া ঐতিহ্য। তার বাবা আন্তোনিও ফ্রিম্যান ছিলেন এনএফএলের বিখ্যাত ক্লাব গ্রিন বে প্যাকার্সের সাবেক তারকা ওয়াইড রিসিভার এবং সুপার বোলজয়ী খেলোয়াড়।

বাবা-ছেলের দুই প্রজন্মের সাফল্য

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোল করার মুহূর্তটি অ্যালেক্সের বাবা আন্তোনিওর কাছে ছিল আবেগঘন এক অভিজ্ঞতা। প্রায় তিন দশক আগে একই শহর সিয়াটলে আন্তোনিও তার এনএফএল ক্যারিয়ারের প্রথম একাধিক টাচডাউনের ম্যাচ খেলেছিলেন। এবার সেই শহরেই ছেলে বিশ্বকাপে গোল করে নতুন ইতিহাস লিখলেন।

He's Team USA's Rising World Cup Star—and the Son of a Super Bowl Legend - WSJ

আন্তোনিও বলেন, ছেলের গোলের পর স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাস শুনে তিনি আবেগে ভেসে যান। তার মতে, ক্লাবের হয়ে খেলা আর দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অ্যালেক্স পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খেলছে—এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে।

দ্রুত উত্থানের বিস্ময়

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অ্যালেক্সের ক্যারিয়ার অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে তিনি প্রথমবার মেজর লিগ সকারে অরল্যান্ডো সিটির হয়ে খেলেন। এর দুই মাস পর জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে। আর এক বছরের মধ্যেই তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলদাতা।

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো অ্যালেক্সের প্রশংসা করে বলেছেন, নিজের পজিশনে বিশ্বের সেরাদের একজন হওয়ার সামর্থ্য তার রয়েছে। এমন মন্তব্য আন্তোনিওকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি জানান, এত বড় কোচের কাছ থেকে এমন মূল্যায়ন পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত আবেগের বিষয়।

‘লিটল ট্রেন্ট’ থেকে জাতীয় দলের তারকা

অ্যালেক্সের ফুটবলপ্রেমের পেছনে পরিবারেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তার মা রোশেল ছিলেন লিভারপুল সমর্থক। ছোটবেলায় তিনি ছেলেকে আদর করে “লিটল ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড” বলে ডাকতেন। অন্যদিকে সৎবাবার মাধ্যমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতি আগ্রহ জন্মায়।

যদিও আমেরিকান ফুটবল বা বাস্কেটবল খেলার সুযোগও ছিল, অ্যালেক্স খুব অল্প বয়সেই ফুটবলকেই নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নেন। বাবা-মা তাকে কখনও চাপ দেননি; বরং তার পছন্দের খেলাতেই সমর্থন জুগিয়েছেন।

Alex Freeman breaks through with US soccer team, 27 years after father Antonio won Super Bowl | AP News

সুযোগ এলে প্রস্তুত থাকার শিক্ষা

আন্তোনিও ছেলেকে সবসময় একটি কথাই শিখিয়েছেন—সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার বিশ্বাস, গত ১৮ মাসে অ্যালেক্সের ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপ সেই প্রস্তুতিরই ফল।

১৫ বছর বয়সে অরল্যান্ডো সিটির একাডেমিতে যোগ দিতে বাড়ি ছেড়ে অন্য শহরে চলে যান অ্যালেক্স। পালক পরিবারের সঙ্গে থেকে নিজের দৈনন্দিন জীবন, অনুশীলন ও উন্নতির দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়েছে। সেই আত্মনির্ভরতা পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ারের বড় শক্তিতে পরিণত হয়।

মেসির বিপক্ষে থেকে ভিয়ারিয়ালে

অরল্যান্ডো সিটিতে নিজের অবস্থান পাকা করার পর গত বছর তিনি মাঠে মুখোমুখি হন নিজের আদর্শ ফুটবলার লিওনেল মেসির। সেই অভিজ্ঞতা পরিবারের কাছে ছিল স্মরণীয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালে যোগ দেন। জাতীয় দলের সতীর্থ ওয়েস্টন ম্যাককেনি এবং কোচ পোচেত্তিনোর পরামর্শও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

He's Team USA's Rising World Cup Star—and the Son of a Super Bowl Legend - tovima.com

বিশ্বকাপই এখন সবচেয়ে বড় মঞ্চ

সুপার বোলজয়ী আন্তোনিও ফ্রিম্যানের মতে, দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপই ফুটবলের সুপার বোল। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যের সঙ্গে ছেলের বিশ্বকাপ অর্জনকে তিনি এখন একই কাতারে দেখেন।

তার ভাষায়, একজন বাবা হিসেবে সন্তানের সাফল্যের চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই। অ্যালেক্স শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলার নন, তিনি এমন একজন তরুণ, যিনি নিজের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের মাধ্যমে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ফুটবল নায়ক অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের উত্থান

০৩:৪১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি গোল কখনও কখনও শুধু স্কোরলাইন বদলায় না, বদলে দেয় একজন খেলোয়াড়ের জীবনও। যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ডিফেন্ডার অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করে তিনি শুধু নিজের দলকে নিখুঁত সূচনা এনে দেননি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন।

এই গল্পের বিশেষত্ব হলো, অ্যালেক্সের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার পরিবারের ক্রীড়া ঐতিহ্য। তার বাবা আন্তোনিও ফ্রিম্যান ছিলেন এনএফএলের বিখ্যাত ক্লাব গ্রিন বে প্যাকার্সের সাবেক তারকা ওয়াইড রিসিভার এবং সুপার বোলজয়ী খেলোয়াড়।

বাবা-ছেলের দুই প্রজন্মের সাফল্য

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোল করার মুহূর্তটি অ্যালেক্সের বাবা আন্তোনিওর কাছে ছিল আবেগঘন এক অভিজ্ঞতা। প্রায় তিন দশক আগে একই শহর সিয়াটলে আন্তোনিও তার এনএফএল ক্যারিয়ারের প্রথম একাধিক টাচডাউনের ম্যাচ খেলেছিলেন। এবার সেই শহরেই ছেলে বিশ্বকাপে গোল করে নতুন ইতিহাস লিখলেন।

He's Team USA's Rising World Cup Star—and the Son of a Super Bowl Legend - WSJ

আন্তোনিও বলেন, ছেলের গোলের পর স্টেডিয়ামের উচ্ছ্বাস শুনে তিনি আবেগে ভেসে যান। তার মতে, ক্লাবের হয়ে খেলা আর দেশের প্রতিনিধিত্ব করার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। অ্যালেক্স পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খেলছে—এটাই তাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে।

দ্রুত উত্থানের বিস্ময়

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অ্যালেক্সের ক্যারিয়ার অবিশ্বাস্য গতিতে এগিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে তিনি প্রথমবার মেজর লিগ সকারে অরল্যান্ডো সিটির হয়ে খেলেন। এর দুই মাস পর জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে। আর এক বছরের মধ্যেই তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলদাতা।

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো অ্যালেক্সের প্রশংসা করে বলেছেন, নিজের পজিশনে বিশ্বের সেরাদের একজন হওয়ার সামর্থ্য তার রয়েছে। এমন মন্তব্য আন্তোনিওকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি জানান, এত বড় কোচের কাছ থেকে এমন মূল্যায়ন পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত আবেগের বিষয়।

‘লিটল ট্রেন্ট’ থেকে জাতীয় দলের তারকা

অ্যালেক্সের ফুটবলপ্রেমের পেছনে পরিবারেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তার মা রোশেল ছিলেন লিভারপুল সমর্থক। ছোটবেলায় তিনি ছেলেকে আদর করে “লিটল ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড” বলে ডাকতেন। অন্যদিকে সৎবাবার মাধ্যমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতি আগ্রহ জন্মায়।

যদিও আমেরিকান ফুটবল বা বাস্কেটবল খেলার সুযোগও ছিল, অ্যালেক্স খুব অল্প বয়সেই ফুটবলকেই নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নেন। বাবা-মা তাকে কখনও চাপ দেননি; বরং তার পছন্দের খেলাতেই সমর্থন জুগিয়েছেন।

Alex Freeman breaks through with US soccer team, 27 years after father Antonio won Super Bowl | AP News

সুযোগ এলে প্রস্তুত থাকার শিক্ষা

আন্তোনিও ছেলেকে সবসময় একটি কথাই শিখিয়েছেন—সুযোগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তার বিশ্বাস, গত ১৮ মাসে অ্যালেক্সের ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপ সেই প্রস্তুতিরই ফল।

১৫ বছর বয়সে অরল্যান্ডো সিটির একাডেমিতে যোগ দিতে বাড়ি ছেড়ে অন্য শহরে চলে যান অ্যালেক্স। পালক পরিবারের সঙ্গে থেকে নিজের দৈনন্দিন জীবন, অনুশীলন ও উন্নতির দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়েছে। সেই আত্মনির্ভরতা পরবর্তীতে তার ক্যারিয়ারের বড় শক্তিতে পরিণত হয়।

মেসির বিপক্ষে থেকে ভিয়ারিয়ালে

অরল্যান্ডো সিটিতে নিজের অবস্থান পাকা করার পর গত বছর তিনি মাঠে মুখোমুখি হন নিজের আদর্শ ফুটবলার লিওনেল মেসির। সেই অভিজ্ঞতা পরিবারের কাছে ছিল স্মরণীয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালে যোগ দেন। জাতীয় দলের সতীর্থ ওয়েস্টন ম্যাককেনি এবং কোচ পোচেত্তিনোর পরামর্শও এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

He's Team USA's Rising World Cup Star—and the Son of a Super Bowl Legend - tovima.com

বিশ্বকাপই এখন সবচেয়ে বড় মঞ্চ

সুপার বোলজয়ী আন্তোনিও ফ্রিম্যানের মতে, দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপই ফুটবলের সুপার বোল। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যের সঙ্গে ছেলের বিশ্বকাপ অর্জনকে তিনি এখন একই কাতারে দেখেন।

তার ভাষায়, একজন বাবা হিসেবে সন্তানের সাফল্যের চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই। অ্যালেক্স শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলার নন, তিনি এমন একজন তরুণ, যিনি নিজের পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধৈর্যের মাধ্যমে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।