ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলার বনতারা সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে একই পরিবারের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল প্রায় ৬টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের দুয়ারপাড়া এলাকায় ওই চারজনকে দেখা যায়। এলাকাটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।
আটক ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেন। স্থানীয়দের কাছে তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও প্রদর্শন করেন বলে জানা গেছে।

তবে স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন এবং দালালদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন। পরে বুধবার সকালে তাদের অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয়দের নজরে আসে।
পরিচয় যাচাইয়ে বিজিবি
বিজিবি-২৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুজ জামান আরিফ বলেন, আটক চার ব্যক্তি কখন, কোথা দিয়ে এবং কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা দালালদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছিলেন। তবে তাদের দেশে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট সময়, পদ্ধতি কিংবা সীমান্তপথ সম্পর্কে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই এবং তাদের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে বিজিবি কাজ করছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে
সীমান্ত এলাকায় চারজনের উপস্থিতি এবং তাদের বাংলাদেশি পরিচয়ের দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং পরিচয় যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দিনাজপুর সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশ ও পুশইন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এই ঘটনাটি নতুন করে নজর কাড়ছে। তবে আটক চারজনের পরিচয় ও বাংলাদেশে প্রবেশের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















