অস্ট্রেলিয়ার সিডনির জনপ্রিয় কুজি সমুদ্রসৈকতে হাঙরের হামলায় গুরুতর আহত হওয়া এক নারী দীর্ঘ চিকিৎসার পর প্রথমবারের মতো আশার খবর দিয়েছেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে কৃত্রিম কোমায় থাকা ওই নারী সাময়িকভাবে জেগে উঠে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন, যা তার স্বজনদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে।
লিয়া স্টুয়ার্ট নামের ৩৪ বছর বয়সী এই নারী গত ১৩ জুন সকালে সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙরের আক্রমণের শিকার হন। সৈকতের খুব কাছাকাছি পানিতে অবস্থান করার সময় হঠাৎ হামলার মুখে পড়েন তিনি। এতে তার হাত ও পায়ে একাধিক গুরুতর ক্ষত তৈরি হয় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
হামলার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে একাধিক অস্ত্রোপচার করেন। গুরুতর আঘাতের কারণে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। হামলার পর থেকে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরিবারের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত
লিয়ার ভাই জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা সম্প্রতি তার ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দিলে তিনি অল্প সময়ের জন্য জেগে ওঠেন। এ সময় তিনি তার মা ও সঙ্গীকে দেখে ভালোবাসার কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি তার ছোট মেয়ের খোঁজও নেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক ও স্বজনদের প্রত্যাশার তুলনায় এই অগ্রগতি অনেক দ্রুত এসেছে। গত কয়েক দিনের উদ্বেগ, প্রার্থনা ও অপেক্ষার পর এটি তাদের কাছে এক অলৌকিক ঘটনার মতো মনে হয়েছে।
এখনও সংকট কাটেনি
যদিও লিয়ার জ্ঞান ফেরার খবর ইতিবাচক, তবুও চিকিৎসকরা সতর্ক রয়েছেন। তিনি এখনও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন এবং গত এক সপ্তাহে তার ওপর একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সামনে আরও চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ পুনর্বাসনের পথ
পেশায় শিক্ষক লিয়া স্টুয়ার্টের সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, জ্ঞান ফিরে পাওয়া তার সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। এই অগ্রগতি ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসৈকতগুলোতে হাঙরের উপস্থিতি নতুন নয়। তবে এমন গুরুতর হামলার পরও বেঁচে থাকা এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















