বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি আবারও উন্মুক্ত হওয়াকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে ডোভাল বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সময় অতিক্রম করছে। সামরিক সংঘাত, জটিল নিরাপত্তা সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিগত বাস্তবতা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আশাবাদ
ডোভাল বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌযান চলাচল পুনরায় নিশ্চিত হওয়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেও সহায়তা করবে। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলের স্বাধীনতা বজায় থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি প্রবাহ আরও স্থিতিশীল হবে।
বিশ্ব ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
বৈঠকে ডোভাল বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন সংকট একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। প্রচলিত কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অনেক ক্ষেত্রেই এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য আরও কার্যকর সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
নিরাপত্তা ইস্যুতে বিস্তৃত আলোচনা

দুই দিনের এই বৈঠকে সম্প্রসারিত ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকের আলোচনায় সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামোর ঝুঁকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট নতুন হুমকি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সদস্য দেশগুলো উদীয়মান হুমকির বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রে
বৈঠকের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন অজিত ডোভাল। আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ব্রিকস কাঠামোর আওতায় সমন্বয় জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এ সময় ভারত ও চীনের সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এবং স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে মত দেয়।
বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















