১২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত

ইতালি থেকে দেশে ফিরল পাকিস্তানের সাত প্রাচীন নিদর্শন

ইতালিতে উদ্ধার হওয়া সাতটি মূল্যবান প্রাচীন প্রত্নসম্পদ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সব ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিদর্শনগুলো ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই প্রত্যাবর্তনকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন সাফল্য

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করা এসব প্রত্নবস্তু প্রথমে মিলানে পাকিস্তানের কনস্যুলেটের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেগুলো নিরাপদে পাকিস্তানে পাঠানো হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইতালি থেকে আরও ৯০টি প্রত্নসম্পদ পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বহু বছর আগে অবৈধভাবে পাচার হওয়ার পর ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংস্থা জব্দ করেছিল। সর্বশেষ এই সাতটি নিদর্শনের প্রত্যাবর্তন সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

দুই দেশের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক

পাকিস্তান ও ইতালির মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। উভয় দেশই তাদের প্রাচীন সভ্যতা, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সমৃদ্ধ জাদুঘরের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

This collage shows ancient artefacts recovered in Italy and returned to Pakistan in November 2025. — Pakistans Embassy in Rome

বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণবিষয়ক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই অংশীদারিত্ব শুধু নিদর্শন উদ্ধারেই নয়, ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ইতালির অবদান

পাকিস্তানের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ইতালীয় বিশেষজ্ঞদের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৫৫ সালে সোয়াত অঞ্চলে ইতালীয় প্রত্নতাত্ত্বিক মিশনের কার্যক্রম শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পথ তৈরি করে।

এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ইতালীয় গবেষক ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

প্রাচীন সভ্যতার গর্ব

পাকিস্তান নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে। বেলুচিস্তানের মেহেরগড়, সিন্ধু সভ্যতার ঐতিহাসিক নিদর্শন, মোহেঞ্জোদারো, হরপ্পা এবং গান্ধারা বৌদ্ধ ঐতিহ্য দেশটির ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

এছাড়া পাঞ্জাব অঞ্চলের বহু প্রাচীন নগরী, বিশেষ করে মুলতান ও লাহোর, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার, নথিভুক্তকরণ এবং সফল প্রত্যাবর্তন সম্ভব হওয়ায় পাকিস্তান ইতালির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

ইতালি থেকে দেশে ফিরল পাকিস্তানের সাত প্রাচীন নিদর্শন

১২:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইতালিতে উদ্ধার হওয়া সাতটি মূল্যবান প্রাচীন প্রত্নসম্পদ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সব ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিদর্শনগুলো ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এই প্রত্যাবর্তনকে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষায় নতুন সাফল্য

পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করা এসব প্রত্নবস্তু প্রথমে মিলানে পাকিস্তানের কনস্যুলেটের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সেগুলো নিরাপদে পাকিস্তানে পাঠানো হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইতালি থেকে আরও ৯০টি প্রত্নসম্পদ পাকিস্তানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বহু বছর আগে অবৈধভাবে পাচার হওয়ার পর ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংস্থা জব্দ করেছিল। সর্বশেষ এই সাতটি নিদর্শনের প্রত্যাবর্তন সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

দুই দেশের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক

পাকিস্তান ও ইতালির মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। উভয় দেশই তাদের প্রাচীন সভ্যতা, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সমৃদ্ধ জাদুঘরের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

This collage shows ancient artefacts recovered in Italy and returned to Pakistan in November 2025. — Pakistans Embassy in Rome

বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণবিষয়ক প্রশিক্ষণে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এই অংশীদারিত্ব শুধু নিদর্শন উদ্ধারেই নয়, ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ইতালির অবদান

পাকিস্তানের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় ইতালীয় বিশেষজ্ঞদের অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৫৫ সালে সোয়াত অঞ্চলে ইতালীয় প্রত্নতাত্ত্বিক মিশনের কার্যক্রম শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পথ তৈরি করে।

এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ইতালীয় গবেষক ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

প্রাচীন সভ্যতার গর্ব

পাকিস্তান নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছে। বেলুচিস্তানের মেহেরগড়, সিন্ধু সভ্যতার ঐতিহাসিক নিদর্শন, মোহেঞ্জোদারো, হরপ্পা এবং গান্ধারা বৌদ্ধ ঐতিহ্য দেশটির ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।

এছাড়া পাঞ্জাব অঞ্চলের বহু প্রাচীন নগরী, বিশেষ করে মুলতান ও লাহোর, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় উদ্ধার, নথিভুক্তকরণ এবং সফল প্রত্যাবর্তন সম্ভব হওয়ায় পাকিস্তান ইতালির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।