০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তিন বছরে বন্ধ ৪০২ পোশাক কারখানা, রপ্তানিতে বড় চ্যালেঞ্জের শঙ্কা মৌমাছি যেভাবে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পুরো বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ১১১ হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন-নিশ্চিত মৃত ৯৮৬ ২০২৬ সালে জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের বাড়তি ব্যয় ২৮০ কোটি ডলার বাগানে টেরেস বানাতে গিয়ে মিলল ডেনমার্কের সবচেয়ে বড় ভাইকিং যুগের রুপার ভাণ্ডার থমাস গেইনসবোরোর তুলিতে ফ্যাশনের চিরন্তন গল্প বিড়ালের অ্যালার্জি: কোন কোন কারণে হয়, লক্ষণ কী এবং কী করবেন সিঙ্গাপুরের অরচার্ড রোডে নাচ ও মার্শাল আর্ট দেখাল মানবাকৃতির রোবট, চলছে টিকটক শপের ৯.৯ প্রচারণা গ্লোবাল সাউথের পরিবহন সংযোগ: অবকাঠামোর চেয়ে বড় যে রাজনৈতিক পরীক্ষা

লেবাননে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে ইসরায়েল, বাড়ছে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

দক্ষিণ লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় হিজবুল্লাহর বড় ধরনের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে রেখেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজারো সেনা ওই স্থাপনাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ভেতরে থাকা কয়েক ডজন যোদ্ধা কার্যত আটকা পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই এলাকাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বাড়লে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন চাপে পড়বে।

আলি আল-তাহের পাহাড়কে ঘিরে উত্তেজনা

সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের কফার তেবনিত শহরের উত্তরে অবস্থিত আলি আল-তাহের নামের একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তারপরও সেখানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সম্প্রতি দুটি পৃথক অভিযানে তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহপন্থী সূত্রগুলো বলছে, নিহতরা সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির গুরুত্ব

লেবাননের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আলি আল-তাহের পাহাড়ের নিচে হিজবুল্লাহ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি বিস্তৃত টানেল ও বাংকার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এটি সংগঠনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইসরায়েলের অভিযোগ, এই ঘাঁটি থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য হামলার পরিকল্পনা করা হতো। সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভেতরে অবস্থানকারীরা খাদ্য ও পানির সংকটে পড়তে পারেন, কারণ তাদের চারপাশ কার্যত অবরুদ্ধ।

পাহাড়টির অবস্থানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয় এবং সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।

Israel's Military Is Caught in a Political No Man's Land in Lebanon - WSJ

যুদ্ধের নতুন অধ্যায়?

গত মে মাস থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের চিহ্ন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে পাহাড়ের আশপাশে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণও পাওয়া গেছে। অনেক ভবন, অবকাঠামো এবং বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েল সম্প্রতি তাদের নির্ধারিত নিরাপত্তা বাফার জোনের সীমানা আরও উত্তরে সম্প্রসারণ করে আলি আল-তাহের এলাকাকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর পরপরই সংঘর্ষের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে একটি ট্যাংক বিস্ফোরণে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ইসরায়েল ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়।

আত্মসমর্পণ নাকি দীর্ঘ অবরোধ

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধারণা, অবরুদ্ধ যোদ্ধারা এখন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। তারা লড়াই চালিয়ে যাবে, আত্মসমর্পণ করবে নাকি কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের কিছু অবরোধ অভিযানের মিল খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে বর্তমান অচলাবস্থার পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনার ওপর।

দক্ষিণ লেবাননের এই নতুন উত্তেজনা শুধু সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তাকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যকেও নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে ইসরায়েলের অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাড়ছে সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন বছরে বন্ধ ৪০২ পোশাক কারখানা, রপ্তানিতে বড় চ্যালেঞ্জের শঙ্কা

লেবাননে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে ইসরায়েল, বাড়ছে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

০৬:১০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় হিজবুল্লাহর বড় ধরনের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে রেখেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজারো সেনা ওই স্থাপনাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ভেতরে থাকা কয়েক ডজন যোদ্ধা কার্যত আটকা পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই এলাকাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বাড়লে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন চাপে পড়বে।

আলি আল-তাহের পাহাড়কে ঘিরে উত্তেজনা

সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের কফার তেবনিত শহরের উত্তরে অবস্থিত আলি আল-তাহের নামের একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তারপরও সেখানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সম্প্রতি দুটি পৃথক অভিযানে তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহপন্থী সূত্রগুলো বলছে, নিহতরা সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।

ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির গুরুত্ব

লেবাননের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আলি আল-তাহের পাহাড়ের নিচে হিজবুল্লাহ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি বিস্তৃত টানেল ও বাংকার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এটি সংগঠনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইসরায়েলের অভিযোগ, এই ঘাঁটি থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য হামলার পরিকল্পনা করা হতো। সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভেতরে অবস্থানকারীরা খাদ্য ও পানির সংকটে পড়তে পারেন, কারণ তাদের চারপাশ কার্যত অবরুদ্ধ।

পাহাড়টির অবস্থানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয় এবং সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।

Israel's Military Is Caught in a Political No Man's Land in Lebanon - WSJ

যুদ্ধের নতুন অধ্যায়?

গত মে মাস থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের চিহ্ন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে পাহাড়ের আশপাশে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণও পাওয়া গেছে। অনেক ভবন, অবকাঠামো এবং বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েল সম্প্রতি তাদের নির্ধারিত নিরাপত্তা বাফার জোনের সীমানা আরও উত্তরে সম্প্রসারণ করে আলি আল-তাহের এলাকাকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর পরপরই সংঘর্ষের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে একটি ট্যাংক বিস্ফোরণে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ইসরায়েল ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়।

আত্মসমর্পণ নাকি দীর্ঘ অবরোধ

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধারণা, অবরুদ্ধ যোদ্ধারা এখন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। তারা লড়াই চালিয়ে যাবে, আত্মসমর্পণ করবে নাকি কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের কিছু অবরোধ অভিযানের মিল খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে বর্তমান অচলাবস্থার পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনার ওপর।

দক্ষিণ লেবাননের এই নতুন উত্তেজনা শুধু সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তাকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যকেও নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে ইসরায়েলের অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাড়ছে সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা।