দক্ষিণ লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় হিজবুল্লাহর বড় ধরনের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে রেখেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজারো সেনা ওই স্থাপনাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং ভেতরে থাকা কয়েক ডজন যোদ্ধা কার্যত আটকা পড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই এলাকাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বাড়লে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন চাপে পড়বে।
আলি আল-তাহের পাহাড়কে ঘিরে উত্তেজনা
সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের কফার তেবনিত শহরের উত্তরে অবস্থিত আলি আল-তাহের নামের একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তারপরও সেখানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, সম্প্রতি দুটি পৃথক অভিযানে তারা হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। তবে হিজবুল্লাহপন্থী সূত্রগুলো বলছে, নিহতরা সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।
ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির গুরুত্ব
লেবাননের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আলি আল-তাহের পাহাড়ের নিচে হিজবুল্লাহ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি বিস্তৃত টানেল ও বাংকার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এটি সংগঠনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসরায়েলের অভিযোগ, এই ঘাঁটি থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য হামলার পরিকল্পনা করা হতো। সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভেতরে অবস্থানকারীরা খাদ্য ও পানির সংকটে পড়তে পারেন, কারণ তাদের চারপাশ কার্যত অবরুদ্ধ।
পাহাড়টির অবস্থানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয় এবং সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
যুদ্ধের নতুন অধ্যায়?
গত মে মাস থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের চিহ্ন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে পাহাড়ের আশপাশে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণও পাওয়া গেছে। অনেক ভবন, অবকাঠামো এবং বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েল সম্প্রতি তাদের নির্ধারিত নিরাপত্তা বাফার জোনের সীমানা আরও উত্তরে সম্প্রসারণ করে আলি আল-তাহের এলাকাকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর পরপরই সংঘর্ষের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এক পর্যায়ে একটি ট্যাংক বিস্ফোরণে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ইসরায়েল ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায়।
আত্মসমর্পণ নাকি দীর্ঘ অবরোধ
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধারণা, অবরুদ্ধ যোদ্ধারা এখন কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। তারা লড়াই চালিয়ে যাবে, আত্মসমর্পণ করবে নাকি কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় থাকবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের কিছু অবরোধ অভিযানের মিল খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে বর্তমান অচলাবস্থার পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনার ওপর।
দক্ষিণ লেবাননের এই নতুন উত্তেজনা শুধু সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তাকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যকেও নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ঘিরে ইসরায়েলের অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাড়ছে সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















