০৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও নো-পুশইন নীতি: সীমান্তে কাউকে ঢুকতে দেয়নি বাংলাদেশ, দাবি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার একটি স্মৃতি, একটি নৈতিক সিদ্ধান্ত: আশুরার চিরন্তন শিক্ষা চীনের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন বাস্তবতা: ‘চায়না অপারচুনিটি ২.০’-এর অর্থ কী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানিতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা কিশোরী নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে আদালতে ১৪ বছরের কিশোর মাগদালেনা নদীর বুকে ইতিহাস, স্মৃতি ও পরিচয়ের কলম্বিয়া যুদ্ধ জেতা আর লক্ষ্য অর্জন এক জিনিস নয়: ইরান যুদ্ধের কঠিন শিক্ষা এআই চিপের জোয়ারে বদলে যাওয়া শহর: তাইওয়ানের হসিনচুতে সম্পদের বিস্ফোরণ, বাড়ছে জন্মহারও

ইসরায়েল ইস্যুতে বদলাচ্ছে ডেমোক্র্যাট রাজনীতি, নিউইয়র্কে সমালোচকদের বড় জয়ে নতুন বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে ইসরায়েলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে ইসরায়েলের নীতির প্রকাশ্য সমালোচক তিন প্রার্থী জয় পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীরা ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থানকে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাদের এই সাফল্য শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক ফল নয়, বরং ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিজয়

নিউইয়র্কের বিভিন্ন আসনে জয় পাওয়া ব্র্যাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। বিশেষ করে আভিলা শেভালিয়ের এমন এক প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিজয়ের পর তার সমর্থকদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগানও শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, এই ফলাফল নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

বদলে যাওয়া ভোটার মনোভাব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এখন মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে আগের তুলনায় ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে যেখানে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে প্রায় স্বতঃসিদ্ধ ছিল, এখন সেখানে নীতিগত প্রশ্ন, মানবিক সংকট এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে খোলামেলা বিতর্ক দেখা যাচ্ছে।

Darializa Avila Chevalier, a Mamdani Ally, Ousts Espaillat in Primary - The New  York Times

প্রভাবশালী লবিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ

ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং তহবিলনির্ভর প্রচারযন্ত্র নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। অনেক প্রার্থী প্রকাশ্যেই এসব সংগঠনের প্রভাবের সমালোচনা করেছেন এবং নিজেদের স্বাধীন অবস্থান তুলে ধরেছেন।

যদিও কিছু আসনে ইসরায়েলপন্থী প্রার্থীরা সফল হয়েছেন, তবুও সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে আগের ঐকমত্য আর নেই।

ওয়াশিংটনে কী প্রভাব পড়তে পারে

আগামী বছর কংগ্রেসে নতুন সদস্যরা যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই ফলাফল শুধু কয়েকটি আসনের পরিবর্তন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত বহন করছে।

ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েল নিয়ে বদলে যাওয়া মনোভাব নিউইয়র্কের নির্বাচনে স্পষ্ট হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি

ইসরায়েল ইস্যুতে বদলাচ্ছে ডেমোক্র্যাট রাজনীতি, নিউইয়র্কে সমালোচকদের বড় জয়ে নতুন বার্তা

০৬:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে ইসরায়েলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে ইসরায়েলের নীতির প্রকাশ্য সমালোচক তিন প্রার্থী জয় পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীরা ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থানকে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাদের এই সাফল্য শুধু স্থানীয় রাজনৈতিক ফল নয়, বরং ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিজয়

নিউইয়র্কের বিভিন্ন আসনে জয় পাওয়া ব্র্যাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের নির্বাচনী প্রচারে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। বিশেষ করে আভিলা শেভালিয়ের এমন এক প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিজয়ের পর তার সমর্থকদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী স্লোগানও শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, এই ফলাফল নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

বদলে যাওয়া ভোটার মনোভাব

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এখন মধ্যপ্রাচ্য প্রশ্নে আগের তুলনায় ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে যেখানে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে প্রায় স্বতঃসিদ্ধ ছিল, এখন সেখানে নীতিগত প্রশ্ন, মানবিক সংকট এবং সামরিক সহায়তা নিয়ে খোলামেলা বিতর্ক দেখা যাচ্ছে।

Darializa Avila Chevalier, a Mamdani Ally, Ousts Espaillat in Primary - The New  York Times

প্রভাবশালী লবিগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ

ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং তহবিলনির্ভর প্রচারযন্ত্র নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও সব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। অনেক প্রার্থী প্রকাশ্যেই এসব সংগঠনের প্রভাবের সমালোচনা করেছেন এবং নিজেদের স্বাধীন অবস্থান তুলে ধরেছেন।

যদিও কিছু আসনে ইসরায়েলপন্থী প্রার্থীরা সফল হয়েছেন, তবুও সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে আগের ঐকমত্য আর নেই।

ওয়াশিংটনে কী প্রভাব পড়তে পারে

আগামী বছর কংগ্রেসে নতুন সদস্যরা যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাটদের অনেকেই ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই ফলাফল শুধু কয়েকটি আসনের পরিবর্তন নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দলের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত বহন করছে।

ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েল নিয়ে বদলে যাওয়া মনোভাব নিউইয়র্কের নির্বাচনে স্পষ্ট হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতেও।