১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্বে সন্তান, এশিয়াজুড়ে বাড়ছে আইনি বাধ্যবাধকতা জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপে পোশাক শিল্প, বাড়ছে চাকরি হারানোর শঙ্কা পণের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, দিল্লিতে তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু রাম মন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি বিতর্কে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার ৮ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেন ,হতাশায় বিদায় নিল উরুগুয়ে মেসিকে বিশ্রাম, জর্ডানের বিপক্ষে বেঞ্চে শুরু করবেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃত ৯২০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৫১ হাজারের বেশি কাটাবনের বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল দুই যুবকের ফরিদপুরে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, এলাকায় উত্তেজনা ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতা: শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ, আপত্তিতে হিজবুল্লাহ

ভুলে যাওয়া কারুশিল্পে নতুন প্রাণ, হাতে তৈরি বিশেষ বিশ্বগোলক নিয়ে আলোচনায় ইতালীয় শিল্পী

ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে যখন অধিকাংশ মানচিত্র ও গ্লোব তৈরি হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে, তখন এক ইতালীয় কারুশিল্পী শতাব্দীপ্রাচীন পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করছেন হাতে বানানো বিশ্বগোলক। তাঁর এই অনন্য কাজ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

ইতালির ছোট শহর থেকে যাত্রা

লিওনার্দো ফ্রিগোর শিল্পযাত্রা শুরু হয়েছিল ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট শহরে। অল্প বয়সেই তিনি শিল্পকর্ম সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে মার্বেল শিল্পের প্রতি ছিল তাঁর গভীর টান। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি আবিষ্কার করেন বহু পুরোনো এক গ্লোব নির্মাণ ঐতিহ্য, যা তাঁর জীবন ও কর্মপথ বদলে দেয়।

সেই পথ ধরেই তিনি কয়েক শতাব্দী আগের এক বিখ্যাত মানচিত্র নির্মাতার কাজ ও পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, হারিয়ে যেতে বসা এই কারুশিল্পকে নতুন করে জীবন্ত করাই তাঁর প্রকৃত লক্ষ্য।

A hand holding a black fine-point pen points to wording on a map.

পুরোনো পদ্ধতিতে আধুনিক বিশ্বের মানচিত্র

বর্তমানে ফ্রিগো কাঠ, প্লাস্টার ও প্রাকৃতিক তন্তুর মতো উপকরণ ব্যবহার করে বিশ্বগোলক তৈরি করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় হাতে। প্রথমে দুটি অর্ধগোলক তৈরি করে সেগুলো জোড়া লাগানো হয়। এরপর নিখুঁত গোলাকৃতি নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় ধরে মসৃণ করা হয়।

বিশ্বগোলকের মানচিত্রও তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী মুদ্রণ কৌশলে। খোদাই করা তামার পাতের ওপর মানচিত্রের নকশা তৈরি করা হয়। তারপর বিশেষ কাগজে তা ছাপিয়ে ছোট ছোট অংশে কেটে গোলকের ওপর বসানো হয়। সবশেষে জলরঙে রঙ করা এবং বার্নিশের প্রলেপ দেওয়ার মাধ্যমে কাজ শেষ হয়।

সীমিত সংস্করণের বিশেষ আয়োজন

সম্প্রতি একটি বিলাসবহুল ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের ২৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্রিগো একটি বিশেষ সীমিত সংস্করণের বিশ্বগোলক তৈরি করেছেন। এই সিরিজে মাত্র কয়েকটি গ্লোব তৈরি করা হবে, যা আগ্রহী সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বিশ্বগোলকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং সম্পূর্ণ হাতে তৈরি হওয়া। আধুনিক যন্ত্রনির্ভর উৎপাদনের বিপরীতে প্রতিটি ধাপ শিল্পীর নিজস্ব দক্ষতা ও সময়ের ছাপ বহন করে।

A selection of globe making elements, including several gores, the term for the long, diamond-shape strips of the map that are applied to the globe sphere.

ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক প্রচেষ্টা

ফ্রিগোর মতে, তিনি শুধু একটি পণ্য তৈরি করছেন না; বরং একটি প্রায় হারিয়ে যাওয়া কারুশিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর বিশ্বাস, অতীতের জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

শিল্পপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের মধ্যেও তাঁর কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কারণ প্রতিটি গ্লোব শুধু একটি মানচিত্র নয়, বরং ইতিহাস, শিল্প এবং কারুশিল্পের এক অনন্য সমন্বয়।

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে লিওনার্দো ফ্রিগোর মতো কারুশিল্পীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের হাতে তৈরি শিল্পকর্মের আবেদন এখনো অমলিন। তাঁদের কাজ প্রমাণ করে, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে অতীতকে নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্বে সন্তান, এশিয়াজুড়ে বাড়ছে আইনি বাধ্যবাধকতা

ভুলে যাওয়া কারুশিল্পে নতুন প্রাণ, হাতে তৈরি বিশেষ বিশ্বগোলক নিয়ে আলোচনায় ইতালীয় শিল্পী

১১:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে যখন অধিকাংশ মানচিত্র ও গ্লোব তৈরি হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে, তখন এক ইতালীয় কারুশিল্পী শতাব্দীপ্রাচীন পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করছেন হাতে বানানো বিশ্বগোলক। তাঁর এই অনন্য কাজ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

ইতালির ছোট শহর থেকে যাত্রা

লিওনার্দো ফ্রিগোর শিল্পযাত্রা শুরু হয়েছিল ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট শহরে। অল্প বয়সেই তিনি শিল্পকর্ম সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে মার্বেল শিল্পের প্রতি ছিল তাঁর গভীর টান। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি আবিষ্কার করেন বহু পুরোনো এক গ্লোব নির্মাণ ঐতিহ্য, যা তাঁর জীবন ও কর্মপথ বদলে দেয়।

সেই পথ ধরেই তিনি কয়েক শতাব্দী আগের এক বিখ্যাত মানচিত্র নির্মাতার কাজ ও পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি উপলব্ধি করেন, হারিয়ে যেতে বসা এই কারুশিল্পকে নতুন করে জীবন্ত করাই তাঁর প্রকৃত লক্ষ্য।

A hand holding a black fine-point pen points to wording on a map.

পুরোনো পদ্ধতিতে আধুনিক বিশ্বের মানচিত্র

বর্তমানে ফ্রিগো কাঠ, প্লাস্টার ও প্রাকৃতিক তন্তুর মতো উপকরণ ব্যবহার করে বিশ্বগোলক তৈরি করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় হাতে। প্রথমে দুটি অর্ধগোলক তৈরি করে সেগুলো জোড়া লাগানো হয়। এরপর নিখুঁত গোলাকৃতি নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় ধরে মসৃণ করা হয়।

বিশ্বগোলকের মানচিত্রও তৈরি হয় ঐতিহ্যবাহী মুদ্রণ কৌশলে। খোদাই করা তামার পাতের ওপর মানচিত্রের নকশা তৈরি করা হয়। তারপর বিশেষ কাগজে তা ছাপিয়ে ছোট ছোট অংশে কেটে গোলকের ওপর বসানো হয়। সবশেষে জলরঙে রঙ করা এবং বার্নিশের প্রলেপ দেওয়ার মাধ্যমে কাজ শেষ হয়।

সীমিত সংস্করণের বিশেষ আয়োজন

সম্প্রতি একটি বিলাসবহুল ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের ২৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্রিগো একটি বিশেষ সীমিত সংস্করণের বিশ্বগোলক তৈরি করেছেন। এই সিরিজে মাত্র কয়েকটি গ্লোব তৈরি করা হবে, যা আগ্রহী সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বিশ্বগোলকটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং সম্পূর্ণ হাতে তৈরি হওয়া। আধুনিক যন্ত্রনির্ভর উৎপাদনের বিপরীতে প্রতিটি ধাপ শিল্পীর নিজস্ব দক্ষতা ও সময়ের ছাপ বহন করে।

A selection of globe making elements, including several gores, the term for the long, diamond-shape strips of the map that are applied to the globe sphere.

ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক প্রচেষ্টা

ফ্রিগোর মতে, তিনি শুধু একটি পণ্য তৈরি করছেন না; বরং একটি প্রায় হারিয়ে যাওয়া কারুশিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর বিশ্বাস, অতীতের জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

শিল্পপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের মধ্যেও তাঁর কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কারণ প্রতিটি গ্লোব শুধু একটি মানচিত্র নয়, বরং ইতিহাস, শিল্প এবং কারুশিল্পের এক অনন্য সমন্বয়।

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে লিওনার্দো ফ্রিগোর মতো কারুশিল্পীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মানুষের হাতে তৈরি শিল্পকর্মের আবেদন এখনো অমলিন। তাঁদের কাজ প্রমাণ করে, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে অতীতকে নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব।