চীনের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স এয়ারবাসের ২৫টি এ৩৩০নিও দূরপাল্লার উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ বাড়ার ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উড়োজাহাজগুলোর তালিকাভুক্ত মূল্য প্রায় ৯.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বড় আকারের এই অর্ডারের ক্ষেত্রে এয়ারবাসের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড় পাওয়া গেছে। ফলে প্রকৃত ক্রয়মূল্য তালিকাভুক্ত দামের তুলনায় অনেক কম হবে।
আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সাংহাইভিত্তিক এই বিমান সংস্থার মতে, নতুন প্রজন্মের এ৩৩০নিও উড়োজাহাজগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় পরিচালন ব্যয় কমবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য অর্জনেও সহায়তা করবে।
চায়না ইস্টার্ন তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করতে চায়। নতুন উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘ দূরত্বের রুটে পরিচালনার মাধ্যমে সংস্থাটির বৈশ্বিক উপস্থিতি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৯ থেকে সরবরাহ শুরু
চুক্তিটি এখনও সংশ্লিষ্ট চীনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর ২০২৯ সাল থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ করা হবে।
বিমান শিল্পে বড় অর্ডারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড় দেওয়া একটি সাধারণ বিষয়। এই চুক্তিতেও একই ধরনের সুবিধা পাওয়ায় সংস্থাটি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এয়ারবাসের প্রতি ঝুঁকছে চীনা বাজার
গত বছর থেকে চীনের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো শত শত এয়ারবাস উড়োজাহাজের অর্ডার দিয়েছে। তবে সেসব অর্ডারের বেশিরভাগই ছিল স্বল্প ও মধ্যপাল্লার সরু কাঠামোর বিমান। এবার দূরপাল্লার প্রশস্ত কাঠামোর এ৩৩০নিও উড়োজাহাজ কেনার মাধ্যমে চীনা বাজারে এয়ারবাসের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী উড়োজাহাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণেই এ ধরনের বিনিয়োগ বাড়ছে। নতুন এই বহর যুক্ত হলে চায়না ইস্টার্ন ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















