ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায় একটি তেল শোধনাগারের ন্যাফথাবাহী পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে আগুনের সূত্রপাত হয়। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অননুমোদিত ন্যাফথা চুরির স্থানের কাছে দুর্ঘটনা
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (এইচপিএল) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কারখানার আশপাশে একটি অননুমোদিত ন্যাফথা চুরির স্থানের কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ ন্যাফথা
এইচপিএল জানিয়েছে, ন্যাফথা অত্যন্ত দাহ্য ও দ্রুত জ্বলে ওঠা হাইড্রোকার্বন। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরেই অনুমতি ছাড়া পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সংস্পর্শে না যেতে এবং এসব সামগ্রী স্পর্শ বা ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করা হয়ে আসছে। কারণ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, মানুষের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে এবং যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে তা জানানো হবে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে, তদন্ত চলছে
অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকাটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানা যাবে।
পাইপলাইনে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং অননুমোদিত কার্যকলাপের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















