গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডের ইউনিট-২ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ঘটনাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার (১ জুলাই) সকালে কারখানায় এসে শ্রমিকরা প্রধান ফটকে টাঙানো বন্ধের নোটিশ দেখতে পান।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকরা ধারাবাহিকভাবে কাজে অংশ না নিয়ে অবৈধ ধর্মঘট ও কর্মবিরতির মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করেছেন। এ কারণে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নোটিশ দিয়ে পুনরায় কারখানা চালুর তারিখ জানানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

কারখানা কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ জুন শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং কর্মস্থল ত্যাগ করেন। পরদিন ২৯ জুন শ্রমিকরা হাজিরা দিলেও কাজে যোগ না দিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। ৩০ জুনও একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা কিছু সময় কাজ শুরু করলেও পরে আবার কাজ বন্ধ করে দেন। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড অবৈধ ধর্মঘটের শামিল হওয়ায় কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।
শ্রমিকদের অভিযোগ ভিন্ন
অন্যদিকে শ্রমিকদের দাবি, ২৭ জুন তাদের সহকর্মী রুবিনা বেগম কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে কারখানার মেডিক্যাল সেন্টারে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কোনাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
পরদিন সকালে সহকর্মীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই রুবিনা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
নিহত শ্রমিকের পরিচয়

নিহত রুবিনা বেগম (৪৫) সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইসলাম গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্ত চলছে
ঘটনার বিষয়ে কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তানভীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলার অনুরোধ করেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, অসুস্থ শ্রমিককে সময়মতো ছুটি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা ছিল কি না কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে হাসপাতালে নিতে বিলম্ব করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী, ওই শ্রমিক আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
তিনি আরও জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সে কারণেই তারা কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















