০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
নকআউট লড়াই শুরু আজ: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেসিদের সামনে মিসর, মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল প্রকাশ্যেই থামিয়ে দিল উইম্বলডন: ‘যথেষ্ট সাদা নয়’ বলে মাত্তেও বেরেত্তিনির পোশাক বাতিল উইম্বলডনের আকাশের অঘোষিত প্রহরী ‘রুফাস’: এআই ও ড্রোন কি কেড়ে নেবে তার ১৮ বছরের দায়িত্ব? টেলর সুইফট–ট্রাভিস কেলসির বিয়ে: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জমকালো আয়োজনে পরিণতি দীর্ঘ জল্পনার বিশ্ববাজারে নতুন মোড়: তেল, প্রযুক্তি, তামা ও ইয়েনের সংকেত কী বলছে? চীনের নতুন কোস্ট গার্ড টহলে উত্তেজনা, তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে বিরোধ আরও তীব্র আপসের ইঙ্গিতে জাপানে আবারও ইরানের তেল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ বাড়ানোর অপেক্ষায় ক্রেতারা সপ্তাহজুড়ে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য, তেহরানে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জুলাই আন্দোলন নিয়ে অবমাননার অভিযোগে শাওন-মাহির বিরুদ্ধে জিডি মেসির জোড়া রেকর্ডে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা, লড়াকু কেপ ভার্দের স্বপ্নভঙ্গ

আপত্তিকর গোল বাতিলে প্রযুক্তির জয়: বিশ্বকাপে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিল ‘স্মার্ট’ ফুটবল

ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার নাটকীয় ম্যাচে শেষ মুহূর্তের একটি গোল বাতিলের পেছনে নির্ধারক ভূমিকা রেখেছে ম্যাচ বলের ভেতরে থাকা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মানবচোখ বা সাধারণ ভিডিও রিপ্লেতে ধরা না পড়া ক্ষুদ্রতম স্পর্শ শনাক্ত করে এই প্রযুক্তিই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে (VAR) সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।

শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া সমতাসূচক গোল করেছে বলে মনে হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। পরে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল। তবে এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

প্রযুক্তি কীভাবে সিদ্ধান্ত বদলে দিল

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচে ব্যবহৃত অ্যাডিডাসের অফিসিয়াল ‘ট্রিওন্ডা’ বলে সংযুক্ত ছিল ‘কানেক্টেড বল প্রযুক্তি’। বলের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর বলে হওয়া অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্পর্শও শনাক্ত করতে পারে, যা খালি চোখে বা প্রচলিত ভিডিও ফুটেজে বোঝা সম্ভব নয়।

Ganashakti-নতুন পরিকল্পনা ফিফার

ঘটনায় দেখা যায়, বলটি মারিও পাসালিচের কাছে পৌঁছানোর আগে ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচের মাথায় খুব সামান্য স্পর্শ লাগে। এরপর পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে বল পেয়ে গোল করেন। সেন্সরের তথ্য সেই স্পর্শ নিশ্চিত করায় গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি

বলের ভেতরে থাকা ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU) নামের সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করে। স্টেডিয়ামে স্থাপিত একাধিক ক্যামেরার সঙ্গে সমন্বয় করে এটি রিয়েল-টাইম তথ্য ভিএআর কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়।

এর মাধ্যমে বলে স্পর্শের সঠিক মুহূর্ত নির্ধারণ করা যায়। একই সঙ্গে অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা পেনাল্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় প্রযুক্তিটি সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক মানোস টেনজেরিসের মতে, বল যত দ্রুতই চলুক বা যত বেশি ঘুরুক না কেন, এই প্রযুক্তি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে কাজ করতে সক্ষম।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নতুন ৪ নিয়ম

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি বলের অবস্থান প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নির্ভুলতায় নির্ধারণ করতে পারে। এমনকি খুব কাছাকাছি অফসাইড পরিস্থিতিতেও খেলোয়াড়ের জুতার অগ্রভাগ পর্যন্ত শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে।

আগেও বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল

ফিফা ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। পরে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। ২০২৪ সালের উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও একই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

ইউরো ২০২৪-এ জার্মানি ও ডেনমার্কের ম্যাচে বলের সেন্সর শনাক্ত করেছিল যে ডেনমার্কের ডিফেন্ডার ইয়োয়াখিম অ্যান্ডারসেন পেনাল্টি এলাকায় হ্যান্ডবল করেছিলেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর জার্মানি পেনাল্টি পায় এবং কাই হাভার্টজ সেটি থেকে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

তবে প্রযুক্তিনির্ভর এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সেই ম্যাচের পর ডেনমার্কের কোচ কাসপার হিউলমান্দ মন্তব্য করেছিলেন, ফুটবল এভাবে খেলার জন্য তৈরি হয়নি। একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফুটবলের স্বাভাবিক আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নকআউট লড়াই শুরু আজ: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মেসিদের সামনে মিসর, মুখোমুখি স্পেন-পর্তুগাল

আপত্তিকর গোল বাতিলে প্রযুক্তির জয়: বিশ্বকাপে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিল ‘স্মার্ট’ ফুটবল

০১:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার নাটকীয় ম্যাচে শেষ মুহূর্তের একটি গোল বাতিলের পেছনে নির্ধারক ভূমিকা রেখেছে ম্যাচ বলের ভেতরে থাকা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মানবচোখ বা সাধারণ ভিডিও রিপ্লেতে ধরা না পড়া ক্ষুদ্রতম স্পর্শ শনাক্ত করে এই প্রযুক্তিই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে (VAR) সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।

শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে ক্রোয়েশিয়া সমতাসূচক গোল করেছে বলে মনে হলেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। পরে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল। তবে এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েন ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

প্রযুক্তি কীভাবে সিদ্ধান্ত বদলে দিল

ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচে ব্যবহৃত অ্যাডিডাসের অফিসিয়াল ‘ট্রিওন্ডা’ বলে সংযুক্ত ছিল ‘কানেক্টেড বল প্রযুক্তি’। বলের ভেতরে থাকা বিশেষ সেন্সর বলে হওয়া অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্পর্শও শনাক্ত করতে পারে, যা খালি চোখে বা প্রচলিত ভিডিও ফুটেজে বোঝা সম্ভব নয়।

Ganashakti-নতুন পরিকল্পনা ফিফার

ঘটনায় দেখা যায়, বলটি মারিও পাসালিচের কাছে পৌঁছানোর আগে ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচের মাথায় খুব সামান্য স্পর্শ লাগে। এরপর পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে বল পেয়ে গোল করেন। সেন্সরের তথ্য সেই স্পর্শ নিশ্চিত করায় গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি

বলের ভেতরে থাকা ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট (IMU) নামের সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করে। স্টেডিয়ামে স্থাপিত একাধিক ক্যামেরার সঙ্গে সমন্বয় করে এটি রিয়েল-টাইম তথ্য ভিএআর কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়।

এর মাধ্যমে বলে স্পর্শের সঠিক মুহূর্ত নির্ধারণ করা যায়। একই সঙ্গে অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা পেনাল্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় প্রযুক্তিটি সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক মানোস টেনজেরিসের মতে, বল যত দ্রুতই চলুক বা যত বেশি ঘুরুক না কেন, এই প্রযুক্তি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে কাজ করতে সক্ষম।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নতুন ৪ নিয়ম

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি বলের অবস্থান প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নির্ভুলতায় নির্ধারণ করতে পারে। এমনকি খুব কাছাকাছি অফসাইড পরিস্থিতিতেও খেলোয়াড়ের জুতার অগ্রভাগ পর্যন্ত শনাক্ত করার সক্ষমতা রয়েছে।

আগেও বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল

ফিফা ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। পরে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। ২০২৪ সালের উয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও একই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।

ইউরো ২০২৪-এ জার্মানি ও ডেনমার্কের ম্যাচে বলের সেন্সর শনাক্ত করেছিল যে ডেনমার্কের ডিফেন্ডার ইয়োয়াখিম অ্যান্ডারসেন পেনাল্টি এলাকায় হ্যান্ডবল করেছিলেন। ভিএআর পর্যালোচনার পর জার্মানি পেনাল্টি পায় এবং কাই হাভার্টজ সেটি থেকে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে জয় এনে দেন।

তবে প্রযুক্তিনির্ভর এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সেই ম্যাচের পর ডেনমার্কের কোচ কাসপার হিউলমান্দ মন্তব্য করেছিলেন, ফুটবল এভাবে খেলার জন্য তৈরি হয়নি। একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফুটবলের স্বাভাবিক আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।