বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে আরও একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন লিওনেল মেসি। শুক্রবার কেপ ভার্দের বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে গোল করে ক্যারিয়ারের ২০তম বিশ্বকাপ গোলের দেখা পান আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সর্বকালের গোলদাতার তালিকায় ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে দুই গোলের ব্যবধান তৈরি করেছেন মেসি। একই সঙ্গে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানের সময় শুরু হওয়া ধারাবাহিক গোল করার রেকর্ডও বাড়িয়ে টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন তিনি।
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় কেপ ভার্দে
ফলাফলে জয় পেলেও ম্যাচটি মোটেই সহজ ছিল না আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে একাধিকবার সমতায় ফিরে এসে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ম্যাচ শেষে মেসিও স্বীকার করেন, দলের ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি উন্নতিরও সুযোগ আছে। একই সঙ্গে তিনি প্রতিপক্ষের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে
বর্তমানে টুর্নামেন্টে সাত গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে রয়েছেন মেসি। তার ঠিক পেছনে ছয় গোল নিয়ে আছেন এমবাপ্পে। টানা আট বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার এই ধারাবাহিকতায় মেসি মোট ১২ বার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছেন, যা আর্জেন্টিনার সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছে।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের সঙ্গে একই দলে খেলতে পারা এবং এমন স্মরণীয় মুহূর্তের অংশ হওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়।
আরেকটি রেকর্ডগড়া পারফরম্যান্স
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন মেসি। ১৫ মিনিটে তার বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে একটি ফ্রি-কিকও সহজেই ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা।
২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের উঁচু পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল তার ১২৪তম গোল। এ তালিকায় তার সামনে রয়েছেন শুধু পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ১৪৬।
গোল করার পর সতীর্থ মার্তিনেজের দিকে ইঙ্গিত করে উদযাপন করেন মেসি। পরে সতীর্থরা তাকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন।
শেষ পর্যন্ত লড়ে জয়

ম্যাচের পুরো সময় জুড়েই কেপ ভার্দে দুইবার সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়, ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে মেসির নেওয়া কর্নার থেকেই শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে জয়সূচক গোলটি আসে আর্জেন্টিনার পক্ষে।
ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত দল লড়াই চালিয়ে গেছে এবং সেই মানসিকতাই জয় এনে দিয়েছে।
জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াই
নকআউট পর্ব শুরু হওয়ায় টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সাত গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন মেসি। ছয় গোল নিয়ে তার পেছনে এমবাপ্পে। পাঁচ গোল করে আছেন নরওয়ের এরলিং হলান্ড ও ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। চার গোল করে রয়েছেন উসমান দেম্বেলে, মিকেল ওইয়ারসাবাল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইসমাইলা সার। তবে সেনেগাল বিদায় নেওয়ায় সার আর এই লড়াইয়ে নেই।
আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও নরওয়ে শেষ ষোলোতে ওঠায় গোল্ডেন বুটের প্রধান দাবিদারদের বেশিরভাগই এখনও টুর্নামেন্টে টিকে আছেন।

কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা পরাজয় সত্ত্বেও দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করে বলেন, জয়ের জন্য খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসি এখনও বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। ২০২২ সালে সাত গোল করেও এমবাপ্পের পেছনে থেকে রানারআপ হন তিনি। আর ২০১৪ বিশ্বকাপে চার গোল করে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সমান গোল হলে প্রথমে অ্যাসিস্ট এবং পরে কম সময় মাঠে খেলার ভিত্তিতে গোল্ডেন বুটের বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। ম্যাচের আগে অ্যাসিস্টে এগিয়ে ছিলেন এমবাপ্পে, তবে এখন গোলের হিসেবে এককভাবে শীর্ষে রয়েছেন মেসি।
আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, এই ম্যাচ আবারও মনে করিয়ে দিল যে বিশ্বকাপে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















