আফ্রিকার বহু দেশে ধীরগতির ও অনির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা, শিক্ষা এবং সরকারি সেবার বড় বাধা। সেই সংকট কাটাতে এখন অনেক সরকার, উদ্যোক্তা ও উচ্চ আয়ের মানুষ স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকছেন। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফাইবার সংযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে এই নতুন প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যদিও এর খরচ এখনও তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট শুধু বিকল্প সংযোগই দিচ্ছে না, বরং প্রচলিত ইন্টারনেট সেবাদাতাদেরও আরও ভালো সেবা দিতে চাপ তৈরি করছে।
নেটওয়ার্ক সংকটে থমকে উন্নয়ন
নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক এলাকায় পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে মোবাইল টাওয়ার স্থাপন এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে বহু অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সরকারি দপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। দুর্গম এলাকায় যেখানে প্রচলিত অবকাঠামো পৌঁছায়নি, সেখানে এই প্রযুক্তি দ্রুত সংযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
আফ্রিকার ইন্টারনেট অবকাঠামোর বড় ঘাটতি
আফ্রিকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর বড় অংশ মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভিডিও স্ট্রিমিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা এবং বাড়তি তথ্য ব্যবহারের কারণে বিদ্যমান নেটওয়ার্কের ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে তথ্য ব্যবহারের পরিমাণ অন্তত তিন গুণ বেড়ে যেতে পারে। অথচ মহাদেশজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের বিস্তার সেই গতিতে এগোয়নি। বহু দেশে এখনও বিপুল পরিমাণ নতুন ফাইবার সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের দ্রুত বিস্তার
২০২৩ সালে আফ্রিকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর পর থেকে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে মহাদেশের ২৭টি দেশে এই ধরনের সেবা পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে নাইজেরিয়া ও জিম্বাবুয়েতে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, আগামী বছরের শুরুতেই আফ্রিকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে।
দুর্গম এলাকায় কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং স্থিতিশীল সংযোগের প্রয়োজন থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তির বড় গ্রাহক হয়ে উঠছে।
সব সমস্যার সমাধান নয়
যদিও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর বিকল্প, তবুও এটি সব সমস্যার সমাধান নয়। এর মাসিক খরচ মোবাইল ইন্টারনেটের তুলনায় অনেক বেশি এবং অনেক ক্ষেত্রেই ফাইবার ব্রডব্যান্ডের চেয়েও ব্যয়বহুল।
এ ছাড়া অতিরিক্ত গ্রাহকের চাপ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সংযোগের মানেও প্রভাব পড়তে পারে। ভারী বৃষ্টির সময় অনেক এলাকায় সেবার মান কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।
বাড়ছে প্রতিযোগিতা, মিলতে পারে সুবিধা
স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বিস্তারের ফলে আফ্রিকার টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। নতুন এই চ্যালেঞ্জের মুখে প্রচলিত ইন্টারনেট ও মোবাইল অপারেটররা সেবার মান উন্নয়ন এবং মূল্য কমানোর উদ্যোগ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
একই সঙ্গে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিভিন্ন দেশ নিজেদের স্যাটেলাইট প্রকল্পেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে আফ্রিকার ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সুফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের কাছেই পৌঁছাতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















