০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
ইরানে খামেনির গণশেষকৃত্য শুরু, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় উত্তাল তেহরান মালয়েশিয়ায় দুরিয়ানের বাম্পার ফলন, ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে দাম পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো মেশিন: ভুল পরিকল্পনায় বিপাকে হাজারো কৃষক জেলার চিকিৎসা ব্যর্থ, ঢাকায় শেষ ভরসা: হামের রোগীতে উপচে পড়ছে শিশু হাসপাতাল প্রিপেইড মিটারের ভাড়া বহাল, প্রত্যাহারের খবর ছিল গুজব দেশের ৯ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি, গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে আতঙ্ক জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার ভিসুভিয়াসের আগুনে পুড়ে যাওয়া দুই হাজার বছরের পাণ্ডুলিপি অবশেষে পড়া যাচ্ছে, ইতিহাসে নতুন দিগন্তের আশা আপনার টমেটো সসের বোতলে কেন এখনও রাজত্ব করছে হেইঞ্জ, দেড় শতকের সাফল্যের নেপথ্যের গল্প

উগান্ডায় সংবাদমাধ্যমের ওপর সামরিক চাপ, উত্তরাধিকার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা

উগান্ডায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সেনা মোতায়েন এবং কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার প্রশ্নে ক্ষমতার লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

গভীর রাতে সামরিক অভিযান

গত ২৭ জুন গভীর রাতে সেনাপ্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র এবং একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাসদস্যরা দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সাংবাদিক ও কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা কার্যত সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা আইনি মামলা করা হয়নি। তবু তাদের কার্যালয়ে সেনা উপস্থিতি অব্যাহত থাকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Under siege': Uganda's army chief clamps down on the press | News24

আচরণ বদলালে খুলতে পারে কার্যালয়

প্রথমে সেনাপ্রধান ঘোষণা দেন, সংবাদমাধ্যম দুটি স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। পরে তিনি অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম ও প্রতিবেদন প্রকাশের ধরন পরিবর্তন করলে পুনরায় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠীর মালিকের সঙ্গে সেনাপ্রধান বৈঠক করেন। বৈঠকে উগান্ডায় পরিচালিত সংবাদ কার্যক্রম নিয়ে সরকারের অভিযোগ ও আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার প্রক্রিয়া এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরাধিকার রাজনীতির ছায়া

এই ঘটনার পেছনে শুধু সংবাদমাধ্যমের বিষয় নয়, দেশের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উগান্ডার নেতৃত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।

Uganda army chief shuts down media group amid widespread curb on free  speech - RFI

সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্টের ছেলে হওয়ায় তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি দেশের রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন। ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো হয়তো তাঁর শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার অন্যদের মতে, ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও বিরোধ থেকেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এমনও ধারণা রয়েছে যে ক্ষমতাসীন বলয়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর দ্রুত উত্থান নিয়ে স্বস্তিতে নেই। ফলে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উগান্ডায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে খামেনির গণশেষকৃত্য শুরু, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় উত্তাল তেহরান

উগান্ডায় সংবাদমাধ্যমের ওপর সামরিক চাপ, উত্তরাধিকার রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা

১২:১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

উগান্ডায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদপত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে সেনা মোতায়েন এবং কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার প্রশ্নে ক্ষমতার লড়াই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

গভীর রাতে সামরিক অভিযান

গত ২৭ জুন গভীর রাতে সেনাপ্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র এবং একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনাসদস্যরা দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সাংবাদিক ও কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা কার্যত সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা আইনি মামলা করা হয়নি। তবু তাদের কার্যালয়ে সেনা উপস্থিতি অব্যাহত থাকায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Under siege': Uganda's army chief clamps down on the press | News24

আচরণ বদলালে খুলতে পারে কার্যালয়

প্রথমে সেনাপ্রধান ঘোষণা দেন, সংবাদমাধ্যম দুটি স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। পরে তিনি অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করে জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম ও প্রতিবেদন প্রকাশের ধরন পরিবর্তন করলে পুনরায় কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠীর মালিকের সঙ্গে সেনাপ্রধান বৈঠক করেন। বৈঠকে উগান্ডায় পরিচালিত সংবাদ কার্যক্রম নিয়ে সরকারের অভিযোগ ও আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার প্রক্রিয়া এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

উত্তরাধিকার রাজনীতির ছায়া

এই ঘটনার পেছনে শুধু সংবাদমাধ্যমের বিষয় নয়, দেশের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উগান্ডার নেতৃত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।

Uganda army chief shuts down media group amid widespread curb on free  speech - RFI

সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্টের ছেলে হওয়ায় তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি দেশের রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন। ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো হয়তো তাঁর শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার অন্যদের মতে, ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও বিরোধ থেকেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এমনও ধারণা রয়েছে যে ক্ষমতাসীন বলয়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাঁর দ্রুত উত্থান নিয়ে স্বস্তিতে নেই। ফলে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উগান্ডায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে।