০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
ইরানে খামেনির গণশেষকৃত্য শুরু, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় উত্তাল তেহরান মালয়েশিয়ায় দুরিয়ানের বাম্পার ফলন, ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে দাম পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো মেশিন: ভুল পরিকল্পনায় বিপাকে হাজারো কৃষক জেলার চিকিৎসা ব্যর্থ, ঢাকায় শেষ ভরসা: হামের রোগীতে উপচে পড়ছে শিশু হাসপাতাল প্রিপেইড মিটারের ভাড়া বহাল, প্রত্যাহারের খবর ছিল গুজব দেশের ৯ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি, গ্রামাঞ্চলে বাড়ছে আতঙ্ক জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার ভিসুভিয়াসের আগুনে পুড়ে যাওয়া দুই হাজার বছরের পাণ্ডুলিপি অবশেষে পড়া যাচ্ছে, ইতিহাসে নতুন দিগন্তের আশা আপনার টমেটো সসের বোতলে কেন এখনও রাজত্ব করছে হেইঞ্জ, দেড় শতকের সাফল্যের নেপথ্যের গল্প

আজ কেন মুখোমুখি তুরস্ক ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নতুন শক্তির লড়াই

একসময় মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। কূটনৈতিক বক্তব্য, নিরাপত্তা উদ্বেগ, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা এখনও সীমিত, তবু বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতি আর একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান ক্রমেই বিপরীতমুখী হয়ে উঠছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে।

সম্পর্কে উত্তেজনার মূল কারণ

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তুরস্ক ও ইসরায়েলের ভাষার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলছে। ইসরায়েল মনে করছে, আঞ্চলিক রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে এবং তা ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যদিকে তুরস্কের অভিযোগ, গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তুরস্কের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই ইসরায়েলের অবস্থান তাদের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

2023-2024 Hostilities and Escalating Violence in the oPt I Account of Events

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও উত্তেজনা বাড়ানোর একটি বড় কারণ। ইসরায়েলের নেতৃত্ব নিরাপত্তা হুমকিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে চাইছে। অন্যদিকে তুরস্কে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে জাতীয়তাবাদী বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফলে কঠোর ভাষা ও পারস্পরিক দোষারোপ অনেক ক্ষেত্রেই নিজ নিজ দেশের জনমতকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিরিয়াকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

দুই দেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সংঘর্ষের ক্ষেত্র এখন সিরিয়া। উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, আর দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ইসরায়েল।

তুরস্ক একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সিরীয় রাষ্ট্র দেখতে চায়। বিপরীতে ইসরায়েল এমন একটি পরিস্থিতি চায়, যাতে সিরিয়া ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে না পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের একাধিক হামলা হয়েছে। তবে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ভূমধ্যসাগর ও কুর্দি প্রশ্নে বিরোধ

Global trade chessboard: Israel and Turkey compete to control future supply  routes

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে জ্বালানি সম্পদ, সমুদ্রসীমা এবং সামরিক সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের বিরোধ বাড়ছে। একই সঙ্গে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থানও একেবারে ভিন্ন।

তুরস্কের মতে, এসব গোষ্ঠীর প্রতি বাইরের সমর্থন তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। অন্যদিকে ইসরায়েল আঞ্চলিক নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখে।

ইরান যুদ্ধের পর নতুন সমীকরণ

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংকটের পর তুরস্ক আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সময়ে তারা বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ হলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত সুবিধা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে তুরস্কের জন্য উন্নত যুদ্ধবিমান সরবরাহের সম্ভাবনা ইসরায়েলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

The next Iran? Why Israel's Turkey anxiety is becoming doctrine – Middle  East Monitor

তবু সম্পর্ক পুরোপুরি ভাঙেনি

তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দূতাবাস কার্যক্রম সীমিত আকারে বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বাণিজ্যও অব্যাহত আছে। জ্বালানি পরিবহনেও কিছু সহযোগিতা এখনও বজায় রয়েছে।

ভবিষ্যতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। কারণ আঞ্চলিক বাস্তবতায় দুই দেশই পশ্চিমাপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের অ-আরব শক্তি হিসেবে অনেক কৌশলগত স্বার্থ ভাগাভাগি করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্পরিক অবিশ্বাস এতটাই গভীর যে সামান্য ভুল হিসাবও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, আঞ্চলিক জোট এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে খামেনির গণশেষকৃত্য শুরু, লাখো মানুষের শোকযাত্রায় উত্তাল তেহরান

আজ কেন মুখোমুখি তুরস্ক ও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নতুন শক্তির লড়াই

১২:১৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

একসময় মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। কূটনৈতিক বক্তব্য, নিরাপত্তা উদ্বেগ, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা এখনও সীমিত, তবু বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতি আর একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অবস্থান ক্রমেই বিপরীতমুখী হয়ে উঠছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে।

সম্পর্কে উত্তেজনার মূল কারণ

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তুরস্ক ও ইসরায়েলের ভাষার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলছে। ইসরায়েল মনে করছে, আঞ্চলিক রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে এবং তা ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

অন্যদিকে তুরস্কের অভিযোগ, গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তুরস্কের নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই ইসরায়েলের অবস্থান তাদের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

2023-2024 Hostilities and Escalating Violence in the oPt I Account of Events

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও উত্তেজনা বাড়ানোর একটি বড় কারণ। ইসরায়েলের নেতৃত্ব নিরাপত্তা হুমকিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতে চাইছে। অন্যদিকে তুরস্কে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে জাতীয়তাবাদী বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফলে কঠোর ভাষা ও পারস্পরিক দোষারোপ অনেক ক্ষেত্রেই নিজ নিজ দেশের জনমতকে প্রভাবিত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিরিয়াকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

দুই দেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সংঘর্ষের ক্ষেত্র এখন সিরিয়া। উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, আর দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ইসরায়েল।

তুরস্ক একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সিরীয় রাষ্ট্র দেখতে চায়। বিপরীতে ইসরায়েল এমন একটি পরিস্থিতি চায়, যাতে সিরিয়া ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে না পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের একাধিক হামলা হয়েছে। তবে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকায় এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ভূমধ্যসাগর ও কুর্দি প্রশ্নে বিরোধ

Global trade chessboard: Israel and Turkey compete to control future supply  routes

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে জ্বালানি সম্পদ, সমুদ্রসীমা এবং সামরিক সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের বিরোধ বাড়ছে। একই সঙ্গে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থানও একেবারে ভিন্ন।

তুরস্কের মতে, এসব গোষ্ঠীর প্রতি বাইরের সমর্থন তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি। অন্যদিকে ইসরায়েল আঞ্চলিক নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখে।

ইরান যুদ্ধের পর নতুন সমীকরণ

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংকটের পর তুরস্ক আঞ্চলিক কূটনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সময়ে তারা বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্ক নতুন করে ঘনিষ্ঠ হলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত সুবিধা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে তুরস্কের জন্য উন্নত যুদ্ধবিমান সরবরাহের সম্ভাবনা ইসরায়েলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

The next Iran? Why Israel's Turkey anxiety is becoming doctrine – Middle  East Monitor

তবু সম্পর্ক পুরোপুরি ভাঙেনি

তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দূতাবাস কার্যক্রম সীমিত আকারে বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বাণিজ্যও অব্যাহত আছে। জ্বালানি পরিবহনেও কিছু সহযোগিতা এখনও বজায় রয়েছে।

ভবিষ্যতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। কারণ আঞ্চলিক বাস্তবতায় দুই দেশই পশ্চিমাপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের অ-আরব শক্তি হিসেবে অনেক কৌশলগত স্বার্থ ভাগাভাগি করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্পরিক অবিশ্বাস এতটাই গভীর যে সামান্য ভুল হিসাবও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, আঞ্চলিক জোট এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।