০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে? তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠি: কিছু কথা রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান বইয়ের পাতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্বের ৭ অপূর্ব গ্রন্থাগার লুলুলেমন আনল ‘বিগ-অ্যাস ব্যাগ’, ৮০ লিটারের বিশাল টোট ব্যাগে ঢুকবে যেন পুরো সংসার শিশুদের মুখে নতুন হাসি, মিশিগানে ম্যাগির উইগস ৪ কিডস-এর ২৩তম বার্ষিক গালা নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ‘কিউটি পাই’ গোলাপ, ছোট বাগান সাজাতে দারুণ প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি বাড়িতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়

আপসের আশা, বাস্তবের সংঘাত: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে থামছে না উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে এখন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন বাস্তবতা চলছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, নতুন সমঝোতা এবং শান্তির আশাবাদ। অন্যদিকে সমুদ্রপথে হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় এবং সীমান্তজুড়ে সামরিক অভিযান। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, আলোচনার টেবিল যতই সক্রিয় থাকুক না কেন, বাস্তবে সংঘাতের আগুন এখনও নিভে যায়নি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও, নতুন করে সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশক পর একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চুক্তি হলেও সীমান্তে সংঘর্ষ বন্ধ হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বৈত বাস্তবতা

সাম্প্রতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এমনকি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থাও নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

How the new Israel-Lebanon agreement changes the rules of the game-opinion  | The Jerusalem Post

অন্যদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া নতুন চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখা গেলেও বাস্তবে সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা

পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় যখন হরমুজ প্রণালি ছেড়ে যাওয়ার সময় একটি কনটেইনারবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

এরপর উভয় পক্ষ সংঘর্ষ সীমিত রাখার ইঙ্গিত দিলেও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প নৌপথ ব্যবহার নিয়ে ইরান ও অন্যান্য পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে।

লেবানন-ইসরায়েল চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

Lebanon army says phase one of disarming non-state groups in south complete

ইসরায়েল ও লেবাননের নতুন চুক্তিতে লেবাননের সরকারের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে চুক্তিতে সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় লেবাননের ভেতরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বৈধতা পেতে পারে। আবার সমর্থকদের মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাইরের প্রভাব বজায় রাখার পরিবর্তে সরাসরি কূটনৈতিক পথই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেশি কার্যকর হতে পারে।

বাস্তবায়ন নিয়ে বাড়ছে সংশয়

চুক্তির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর বাস্তবায়ন। লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিরস্ত্রীকরণ সহজ হবে না। এমনকি এ ধরনের উদ্যোগ দেশকে নতুন অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকেও ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Back to bad beginnings: The Iran-US Memorandum of Understanding – Middle  East Monitor

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও বহুবার এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। ফলে এবারও পুরো চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।

পারমাণবিক আলোচনাও অনিশ্চয়তায়

লেবাননের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত পারমাণবিক আলোচনাকেও প্রভাবিত করছে। ইরান জানিয়েছে, সমঝোতার সব শর্ত বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যে নতুন সম্পর্কের আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এখন আবার পুরোনো অবিশ্বাস, নিরাপত্তা সংকট এবং সামরিক উত্তেজনার ছায়ায় ঢাকা পড়ছে। কূটনীতি চললেও বাস্তবতা এখনো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ দীর্ঘ এবং অনিশ্চিত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে?

আপসের আশা, বাস্তবের সংঘাত: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে থামছে না উত্তেজনা

১২:২০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে এখন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন বাস্তবতা চলছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা, নতুন সমঝোতা এবং শান্তির আশাবাদ। অন্যদিকে সমুদ্রপথে হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময় এবং সীমান্তজুড়ে সামরিক অভিযান। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, আলোচনার টেবিল যতই সক্রিয় থাকুক না কেন, বাস্তবে সংঘাতের আগুন এখনও নিভে যায়নি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চললেও, নতুন করে সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশক পর একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চুক্তি হলেও সীমান্তে সংঘর্ষ বন্ধ হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বৈত বাস্তবতা

সাম্প্রতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এমনকি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থাও নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো যায়।

How the new Israel-Lebanon agreement changes the rules of the game-opinion  | The Jerusalem Post

অন্যদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া নতুন চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখা গেলেও বাস্তবে সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা

পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় যখন হরমুজ প্রণালি ছেড়ে যাওয়ার সময় একটি কনটেইনারবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

এরপর উভয় পক্ষ সংঘর্ষ সীমিত রাখার ইঙ্গিত দিলেও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প নৌপথ ব্যবহার নিয়ে ইরান ও অন্যান্য পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে।

লেবানন-ইসরায়েল চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

Lebanon army says phase one of disarming non-state groups in south complete

ইসরায়েল ও লেবাননের নতুন চুক্তিতে লেবাননের সরকারের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে চুক্তিতে সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় লেবাননের ভেতরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, এতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বৈধতা পেতে পারে। আবার সমর্থকদের মতে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাইরের প্রভাব বজায় রাখার পরিবর্তে সরাসরি কূটনৈতিক পথই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেশি কার্যকর হতে পারে।

বাস্তবায়ন নিয়ে বাড়ছে সংশয়

চুক্তির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর বাস্তবায়ন। লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের নিরস্ত্রীকরণ সহজ হবে না। এমনকি এ ধরনের উদ্যোগ দেশকে নতুন অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকেও ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Back to bad beginnings: The Iran-US Memorandum of Understanding – Middle  East Monitor

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও বহুবার এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। ফলে এবারও পুরো চুক্তি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।

পারমাণবিক আলোচনাও অনিশ্চয়তায়

লেবাননের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত পারমাণবিক আলোচনাকেও প্রভাবিত করছে। ইরান জানিয়েছে, সমঝোতার সব শর্ত বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যে নতুন সম্পর্কের আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা এখন আবার পুরোনো অবিশ্বাস, নিরাপত্তা সংকট এবং সামরিক উত্তেজনার ছায়ায় ঢাকা পড়ছে। কূটনীতি চললেও বাস্তবতা এখনো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ দীর্ঘ এবং অনিশ্চিত।