সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে। দিনের শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক DSEX ৪৩ পয়েন্ট বেড়েছে। শরিয়াহভিত্তিক DSES সূচক বেড়েছে ৯ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ সূচক DS30 বেড়েছে ২৯ পয়েন্ট।
রোববার ডিএসইতে মোট ১,৫৩০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। ব্লক মার্কেটে ৫৩ কোম্পানির ৪৮ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দিনের লেনদেনে ১৭৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৯টির দাম।
সূচকের উত্থান, কিন্তু বাজারে মিশ্রতা রয়ে গেছে
সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও বাজারকে এক দিনের লেনদেন দিয়ে বিচার করা যায় না। কারণ দাম বাড়া কোম্পানির সংখ্যা বেশি হলেও কমা কোম্পানির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তাই সামগ্রিক বাজারে আস্থা ফিরছে কি না, তা বুঝতে কয়েক দিনের ধারাবাহিকতা, লেনদেনের গুণগত মান এবং খাতভিত্তিক অংশগ্রহণ দেখতে হবে।
পুঁজিবাজারে অনেক সময় বড় মূলধনি কোম্পানি বা নির্দিষ্ট খাতের উত্থানে সূচক বাড়ে, কিন্তু সব বিনিয়োগকারী সমানভাবে লাভবান হন না। তাই সূচক বাড়লেই বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
শীর্ষে ইউনিক হোটেল, দরপতনে ফ্যামিলিটেক্স
দিনের লেনদেনে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসি শীর্ষ দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ফ্যামিলিটেক্স বিডি লিমিটেড ছিল দিনের সবচেয়ে বেশি দরপতনকারী কোম্পানি। এর দাম কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ।
একটি কোম্পানির দর দ্রুত বাড়া বা কমা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে শুধু দিনের শীর্ষ দরবৃদ্ধি দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন, আয়, ঋণ, ব্যবসার প্রকৃতি, লভ্যাংশের ইতিহাস এবং বাজারের সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও উত্থান
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও দিন শেষে ইতিবাচক লেনদেন হয়েছে। CSE-র সার্বিক সূচক CASPI ৮ পয়েন্ট বেড়েছে। সেখানে ১৪১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৯৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির দাম। CSE-তে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬ কোটি টাকা, যা আগের সেশনের ৬০ কোটি টাকার তুলনায় বেশি।
Phoenix Finance 1st Mutual Fund, Eastern Cables Limited এবং IFIL Islamic Mutual Fund-1 প্রায় ১০ শতাংশ করে বেড়ে দরবৃদ্ধির তালিকায় এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে Meghna Life Insurance PLC প্রায় ১০ শতাংশ দর হারিয়ে শীর্ষ দরপতনকারী হয়েছে।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অনেক সময় খবর, নীতি, তারল্য, সুদহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। তাই এই উত্থানকে ইতিবাচক সূচনা বলা যায়, তবে স্থায়ী পুনরুদ্ধারের জন্য ধারাবাহিকতা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















