দেশে হামসদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তর এসব মৃত্যুকে এখনো সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৮।
জনস্বাস্থ্যের জন্য এই সংখ্যা শুধু একটি রোগতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান নয়, বরং টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবার বিষয়। হাম সাধারণত প্রতিরোধযোগ্য রোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, সংক্রমণ ছড়ালে শিশুদের মধ্যে জটিলতা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলেই পরিবার, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় জরুরি।
সন্দেহজনক মৃত্যু বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু অপরিবর্তিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, সর্বশেষ ৭ মৃত্যুর পর দেশে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫ হয়েছে। অন্যদিকে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩-এ অপরিবর্তিত রয়েছে। এর অর্থ হলো, মৃত্যুর বড় অংশ এখনো পরীক্ষাগার-নিশ্চিত নয়, তবে উপসর্গ ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে সেগুলোকে হামসদৃশ হিসেবে গণনা করা হচ্ছে।
রোগতাত্ত্বিক নজরদারির ক্ষেত্রে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চিত রোগী ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা আলাদা করে দেখা হলে বোঝা যায়, কোথায় পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো দরকার, কোথায় দ্রুত নমুনা সংগ্রহ প্রয়োজন এবং কোন এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে আছে।
নতুন সন্দেহভাজন রোগী ৯২৫
একই ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৯২৫ জন নতুন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে চলতি বছরে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৬১৮। একই সময়ে নতুন করে ১০৬ জন ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ফলে নিশ্চিত সংক্রমণের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৬৩২।
এই ব্যবধানও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় মাঠপর্যায়ে উপসর্গভিত্তিক সেবা, পৃথকীকরণ, টিকাদান কাভারেজ যাচাই এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, গায়ে র্যাশ, চোখ লাল হওয়া, কাশি বা সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ৮৮ হাজার ৮৪৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৫ হাজার ১২২ জন সুস্থ হয়েছে। সুস্থতার সংখ্যা আশ্বাসজনক হলেও মোট সংক্রমণ ও মৃত্যুর ধারা উদ্বেগ কমাচ্ছে না।
বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে শিশুদের টিকাদান কাভারেজে সামান্য ফাঁকও বড় সংক্রমণচক্র তৈরি করতে পারে। তাই স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, স্কুল, পরিবার এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামসদৃশ উপসর্গকে সাধারণ জ্বর বা চর্মরোগ ভেবে অবহেলা করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশুদের টিকা হালনাগাদ আছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করাও এখন পরিবারগুলোর জন্য জরুরি কাজ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















