দেশের ছয় বিভাগে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের ওপর অবস্থানরত মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষায়, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি অতি ভারী হিসেবে ধরা হয়। ফলে পূর্বাভাসটি শুধু সাধারণ বর্ষার খবর নয়, নগরজীবন, পাহাড়ি এলাকা ও নৌপথের জন্য সতর্কতার বিষয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ভারী বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দ্রুত জনজীবনে প্রভাব ফেলে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ী, গণপরিবহন যাত্রী এবং জরুরি সেবা ব্যবহারকারীরা এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। নর্দমা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, নির্মাণকাজের ধীরগতি এবং নিচু সড়কগুলো শহরের দুর্বলতা বাড়িয়ে দেয়।
ঢাকায় বৃষ্টি হলে মিরপুর, কাজীপাড়া, মালিবাগ, শান্তিনগর, বাড্ডা, রামপুরা, পুরান ঢাকার কিছু অংশ এবং নিচু সড়কগুলোতে যানজট ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেয়। চট্টগ্রামেও ভারী বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমার আশঙ্কা থাকে। তাই এই পূর্বাভাসকে নগর ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতির সঙ্গেও দেখতে হবে।

পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা
চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কা করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাহাড় কেটে তৈরি বসতি, দুর্বল মাটির ঢাল, অপরিকল্পিত রাস্তা এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অভাব ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের পাহাড়ি বসতিতে সতর্কতা প্রয়োজন।
ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের আগাম সতর্কতা, নিরাপদ আশ্রয়, মাইকিং এবং জরুরি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দেখা গেছে, রাতভর ভারী বৃষ্টির পর ভোরের দিকে পাহাড়ি ঢালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুধু বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর নয়, পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়াই নিরাপদ।
সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহারিক সতর্কতা
এই সময়ে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানো, জলাবদ্ধ সড়কে যানবাহন সাবধানে চালানো, বিদ্যুতের খোলা তার বা ডুবে থাকা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এড়িয়ে চলা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের জলাবদ্ধ এলাকায় যেতে না দেওয়া উচিত। পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ঢালের নিচে বা পাশে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা দরকার।
বর্ষাকালের বৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক হলেও, অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বড় হয়। নগরের যানজট, পণ্য পরিবহন, বাজারদর, শ্রমজীবী মানুষের আয় এবং চিকিৎসা নিতে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় কাজও এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই এই পূর্বাভাসকে শুধু আবহাওয়ার খবর হিসেবে নয়, নাগরিক প্রস্তুতির সংকেত হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















