০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
কাবুলে পানির সংকট নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা, শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নও ঝুঁকিতে ‘দ্য ওডিসি’ প্রচারে দেবী-প্রেরণার সাজে জেনডায়া, ফ্যাশনে চরিত্রের ভাষা কঙ্গোয় ইবোলা চিকিৎসায় প্রথম ট্রায়াল শুরু, ১৪০০ জন আক্রান্ত অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করতে দিল না মিয়ানমার জান্তা থাই বিমানসেবিকার মাধ্যমে হেরোইন পাচার, উৎস মিয়ানমার সন্দেহ পঁচিশ বছর পর তাইওয়ান সেনায় ফিরল কমিউনিস্ট বিরোধী শিক্ষা আমির খানের ব্যক্তিগত আয়োজনে বিয়ে, গৌরী স্প্রাটের সঙ্গে নতুন অধ্যায় এআই এখনো বাস্তব পৃথিবী বোঝে না, গবেষকদের নতুন সতর্কবার্তা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু, বাংলা সাহিত্য ও চিন্তাজগতে শূন্যতা তাইওয়ানের পূর্বে চীনা কোস্টগার্ডের দ্বিতীয় টহল, তাইপের প্রতিবাদ

তুরাগ নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু, নদীপাড়ে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার মিরাশপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো ১১ বছর বয়সী শামীম এবং ১৩ বছর বয়সী আফনান। শামীম ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, তার বাবার নাম আনিসুর রহমান। আফনান সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, তার বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। তারা পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকার বাসিন্দা।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহীন আলমের তথ্য অনুযায়ী, শামীম ও আফনান তাদের বন্ধু শিপনকে নিয়ে মিরাশপাড়া এলাকায় তুরাগ নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। এক পর্যায়ে শামীম ও আফনান নদীতে ডুবে যায়। শিপন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে।

বর্ষায় নদী, খাল ও জলাশয়ের ঝুঁকি বাড়ে

বাংলাদেশে বর্ষাকালে নদী ও খালের পানি বেড়ে গেলে শিশু-কিশোরদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি হয়। স্রোত, গভীরতা, কাদা, ভাঙন, পানির ঘূর্ণি এবং নদীর নিচের অসমতল অংশ অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। শিশুরা সাঁতার জানলেও নদীর স্রোত বা গভীরতা সামলাতে পারে না। আর যারা পুরোপুরি সাঁতার জানে না, তাদের জন্য সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারে।

তুরাগ নদী রাজধানী ও গাজীপুরের জনজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও এর বিভিন্ন অংশে নিরাপদ সাঁতারের ব্যবস্থা নেই। নদীপাড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, স্থানীয় নজরদারি বা শিশুদের জন্য নিরাপদ জলক্রীড়া অবকাঠামোও সাধারণত দেখা যায় না।

বন্ধুরা একসঙ্গে গেলে ঝুঁকি কমে না

অনেক পরিবার মনে করে, শিশুরা দল বেঁধে নদীতে গেলে তারা একে অন্যকে সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে পানিতে দুর্ঘটনার সময় সমবয়সী বন্ধুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একজন ডুবতে থাকলে আরেকজন তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই নদীতে শিশু-কিশোরদের সাঁতার বা গোসলের ক্ষেত্রে বড়দের উপস্থিতি অপরিহার্য।

শামীম ও আফনানের ঘটনায়ও দেখা গেছে, তিন বন্ধু একসঙ্গে নদীতে গেলেও দুজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। যে বন্ধু তীরে উঠতে পেরেছে, তার জন্যও এই ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত হয়ে থাকতে পারে।

পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের করণীয়

নদী, খাল, পুকুর বা জলাশয়ের কাছে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের পানিতে নামা নিয়ে পরিষ্কার নিয়ম থাকা জরুরি। শুধু “সাবধানে যেও” বলা যথেষ্ট নয়। কোথায় নামা যাবে না, কখন নামা যাবে না এবং বড় কেউ সঙ্গে না থাকলে পানিতে নামা যাবে না, এসব কথা শিশুদের বারবার বোঝাতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাট চিহ্নিত করা, সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো, স্কুলে জলনিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া এবং বর্ষায় অভিভাবকদের সতর্ক করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ডুবে মৃত্যু এখনও বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই নদীপাড়ের প্রতিটি দুর্ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে শিশু নিরাপত্তার বড় আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা দরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাবুলে পানির সংকট নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা, শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়নও ঝুঁকিতে

তুরাগ নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু, নদীপাড়ে শিশু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

০৭:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। রোববার মিরাশপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো ১১ বছর বয়সী শামীম এবং ১৩ বছর বয়সী আফনান। শামীম ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, তার বাবার নাম আনিসুর রহমান। আফনান সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, তার বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। তারা পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকার বাসিন্দা।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহীন আলমের তথ্য অনুযায়ী, শামীম ও আফনান তাদের বন্ধু শিপনকে নিয়ে মিরাশপাড়া এলাকায় তুরাগ নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। এক পর্যায়ে শামীম ও আফনান নদীতে ডুবে যায়। শিপন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে।

বর্ষায় নদী, খাল ও জলাশয়ের ঝুঁকি বাড়ে

বাংলাদেশে বর্ষাকালে নদী ও খালের পানি বেড়ে গেলে শিশু-কিশোরদের জন্য ঝুঁকি অনেক বেশি হয়। স্রোত, গভীরতা, কাদা, ভাঙন, পানির ঘূর্ণি এবং নদীর নিচের অসমতল অংশ অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। শিশুরা সাঁতার জানলেও নদীর স্রোত বা গভীরতা সামলাতে পারে না। আর যারা পুরোপুরি সাঁতার জানে না, তাদের জন্য সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারে।

তুরাগ নদী রাজধানী ও গাজীপুরের জনজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও এর বিভিন্ন অংশে নিরাপদ সাঁতারের ব্যবস্থা নেই। নদীপাড়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, স্থানীয় নজরদারি বা শিশুদের জন্য নিরাপদ জলক্রীড়া অবকাঠামোও সাধারণত দেখা যায় না।

বন্ধুরা একসঙ্গে গেলে ঝুঁকি কমে না

অনেক পরিবার মনে করে, শিশুরা দল বেঁধে নদীতে গেলে তারা একে অন্যকে সাহায্য করতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে পানিতে দুর্ঘটনার সময় সমবয়সী বন্ধুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। একজন ডুবতে থাকলে আরেকজন তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই নদীতে শিশু-কিশোরদের সাঁতার বা গোসলের ক্ষেত্রে বড়দের উপস্থিতি অপরিহার্য।

শামীম ও আফনানের ঘটনায়ও দেখা গেছে, তিন বন্ধু একসঙ্গে নদীতে গেলেও দুজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। যে বন্ধু তীরে উঠতে পেরেছে, তার জন্যও এই ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক আঘাত হয়ে থাকতে পারে।

পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের করণীয়

নদী, খাল, পুকুর বা জলাশয়ের কাছে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য শিশুদের পানিতে নামা নিয়ে পরিষ্কার নিয়ম থাকা জরুরি। শুধু “সাবধানে যেও” বলা যথেষ্ট নয়। কোথায় নামা যাবে না, কখন নামা যাবে না এবং বড় কেউ সঙ্গে না থাকলে পানিতে নামা যাবে না, এসব কথা শিশুদের বারবার বোঝাতে হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাট চিহ্নিত করা, সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো, স্কুলে জলনিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া এবং বর্ষায় অভিভাবকদের সতর্ক করা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ডুবে মৃত্যু এখনও বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই নদীপাড়ের প্রতিটি দুর্ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে শিশু নিরাপত্তার বড় আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা দরকার।