কক্সবাজারের দুই সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান ও ফাতেমা আক্তার প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বলে চ্যানেল নিউজ এশিয়া জানিয়েছে। জাপানে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই আসরে কক্সবাজারের সার্ফার এশিয়ান গেমস ইতিহাসে প্রথম উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। ২৫ বছর বয়সী মান্নান ও ১৬ বছর বয়সী ফাতেমা প্রতিদিন ভোরে কলাতলী পয়েন্টে অনুশীলন করেন।
বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে কলাতলী পয়েন্টে প্রতিদিন প্রায় ৭০ জন সার্ফার অনুশীলন করেন, যাদের মধ্যে ১৭ জন নারী। ক্রিকেট ও ফুটবলের ছায়ায় ঢাকা পড়া এই খেলায় কক্সবাজারের সার্ফার এশিয়ান গেমস অংশগ্রহণ নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ মো. সাইফুল্লাহ সিফাত বলেছেন, একাধিক প্রতিষ্ঠানে সহায়তার জন্য আবেদন করা হলেও এখনও কোনো নিশ্চিত স্পনসরশিপ মেলেনি।
বিদেশে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা তাই এখনও অনিশ্চিত, যদিও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছে সংগঠন। কক্সবাজারের সার্ফার এশিয়ান গেমস স্বপ্ন তাই কেবল প্রতিভার লড়াই নয়, অর্থ ও অবকাঠামোর লড়াইও। উপকরণের অভাবে বেশিরভাগ বোর্ড আসে বিদেশি পর্যটকদের অনুদান থেকে, যা এই খেলার সীমাবদ্ধতাকেও স্পষ্ট করে।
বাংলাদেশের ক্রীড়া অর্থনীতিতে এই অর্জন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ক্রিকেট-ফুটবলের বাইরে বিকল্প সম্ভাবনার প্রমাণ। কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রতট, পর্যটন ও তরুণ প্রতিভা একসঙ্গে মিললে নতুন ক্রীড়া অর্থনীতি তৈরি হতে পারে। কক্সবাজারের সার্ফার এশিয়ান গেমস অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, সরকারি বিনিয়োগ ছাড়াও তরুণদের নিজস্ব উদ্যোগে খেলাধুলায় জায়গা তৈরি সম্ভব।
মান্নান ও ফাতেমার প্রশিক্ষণ বাজেট এখনও নির্ভর করছে স্পনসরের সাড়ায়, আর সময় ফুরিয়ে আসছে সেপ্টেম্বরের আগে। কলাতলীর ৭০ জন সার্ফারের মধ্যে এই দুজনের সাফল্যই বলে দেবে, বাংলাদেশে সার্ফিং একটি মৌসুমি খবর, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া বিনিয়োগের শুরু।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















