ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করে।
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় দুই দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ, সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থা এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
তামিলনাড়ুতে আটক, আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রত্যাবাসন
ভারতের প্রশাসনিক ও সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক হওয়া এসব বাংলাদেশিকে সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সের একটি বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল। নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ৩ জুলাই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনটি বিশেষ পুলিশ ভ্যানে করে তাদের তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ট্রেনে পশ্চিমবঙ্গে আনার পর পেট্রাপোল সীমান্তে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরানো হয়।
৪৪ পুরুষ, ৬ নারী
বেনাপোল চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যাবাসন হওয়া ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তারা বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে অবস্থান করছিলেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছিল।
প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, নড়াইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের নামে পৃথক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতেই তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
যাচাই শেষে পরিবারের কাছে পাঠানো হবে
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি সংস্থাগুলো প্রত্যাবাসিতদের পরিচয় ও ঠিকানা পুনরায় যাচাই করছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে বেনাপোল পোর্ট থানা তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাদের থানায় নেওয়া হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে।
দালালের প্রলোভনে ভারতে গিয়েছিলেন
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই দালালের প্রলোভনে ভালো কাজের আশায় ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তারা পুলিশের হাতে আটক হন। পরে ২ থেকে ৫ বছর সাজাভোগ শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ পান।
তিনি আরও জানান, ইমিগ্রেশন ও পোর্ট থানার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ২৫ জন এবং রাইটস যশোর ২৫ জনকে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















