পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক নারীকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক। ঘটনার মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছেন ইসলামাবাদের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) আলী নাসির রিজভি।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আইজি জানান, দ্রুত তদন্ত, ডিজিটাল নজরদারি এবং শতাধিক কর্মকর্তার সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সন্দেহভাজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
নারীকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান কর্মকর্তা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক সরকারি দায়িত্বে রাওয়ালপিন্ডির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তিনি দেখতে পান, এক ব্যক্তি একটি নারীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
পরিস্থিতি দেখে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে যান, নিজের পরিচয় দিয়ে অভিযুক্তকে নারীটির কাছ থেকে সরে যেতে বলেন। প্রথমে অভিযুক্ত মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেও পরে ফিরে এসে কর্মকর্তার গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে পিস্তল থেকে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক।
![]()
এদিকে নারীটি তখন কর্মকর্তার গাড়ির যাত্রীপাশে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গুলি চালানোর পর অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট
আইজি আলী নাসির রিজভি জানান, নিহত নারী নন, বরং তিনি একটি প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি। অভিযুক্তও একই এলাকার একটি ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে হিমায়িত খাদ্যপণ্যের একটি ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করতেন।
তদন্তে জানা যায়, নারীটি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে অভিযুক্তের মোটরসাইকেলে তিনবার কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। সেদিনও তিনি ধারণা করেছিলেন যে তাকে আগের মতোই দোকানে নিয়ে যাওয়া হবে।
কিন্তু পথে অভিযুক্ত তাকে অন্য কোথাও, একটি পার্ক বা নির্জন স্থানে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি আপত্তি জানান এবং কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য জোর দেন। এ নিয়ে ৯ নম্বর অ্যাভিনিউ এলাকায় দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। সেই সময় ঘটনাটি দেখে হস্তক্ষেপ করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক।
৯ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার, তদন্তে বড় চ্যালেঞ্জ
পুলিশ প্রধান জানান, অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সহজ ছিল না। কারণ ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের বাড়ির ঠিকানাও জানতেন না।
এ জন্য ১১টি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। ডিজিটাল নজরদারি ইউনিট, সেফ সিটি ক্যামেরা টিম এবং অন্যান্য তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের ২৭৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি ১৩৭টি কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত পোশাক বদলে ফেলে, মোবাইল ফোন বন্ধ করে এবং বাসযোগে পালানোর চেষ্টা করছিল।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের বাড়ি অ্যাবোটাবাদে। তাকে ধরতে ইসলামাবাদে ১৩টি অভিযান চালানোর পাশাপাশি লাহোর, ডেরা ইসমাইল খানসহ বিভিন্ন এলাকায়ও দল পাঠানো হয়। শতাধিক কর্মকর্তার অংশগ্রহণে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আগেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল
আইজি রিজভি জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্ত অতীতেও আরেক নারীকে একই ধরনেরভাবে জোর করে নিয়ে গিয়েছিল। তবে সে সময় বিষয়টি থানায় না গিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এবার ঘটনার সব দিক আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি পুরো অভিযান তদারকি করেছেন বলেও তিনি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















