০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
কর্ণাটকে ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে নতুন বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চাইল বিরোধী জোট ইরানের অটুট সভ্যতা ও চার হাজার বছরের সাইপ্রাস গাছ সংগঠন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের জবাব, বিদ্রোহী শিবিরের দাবি সম্পূর্ণ খারিজ ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত, স্তন ক্যানসারের ওষুধে বড় সাফল্যের আশা আজ পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাচীন কোয়াসার আবিষ্কার, মহাবিশ্বের শৈশব নিয়ে নতুন রহস্য ওয়ানাড়ে ভয়াবহ ভূমিধস: নিহত ২, নিখোঁজ ৭; ভারী বৃষ্টিতে জারি লাল সতর্কতা দামেস্কে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল হোটেল এলাকা, সফরে থাকা ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিরাপদ ঘরের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা, প্রিমিয়াম সাজসজ্জার পণ্য কেনার আগে যা জানা জরুরি এমআরএনএ টিকা নিয়ে বড় স্বস্তি, কোটি কোটি ডোজের তথ্য বিশ্লেষণে নিরাপত্তার প্রমাণ আরও জোরালো জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তেই জাকার্তায় ট্রান্সজাকার্তা বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাবে যাত্রীদের উদ্বেগ

শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় ২৩ জন নিহত, আহত শতাধিক

শ্রীলঙ্কার নেগম্বো কারাগারে দুটি মাদক চক্রের বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন কারারক্ষী রয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক বন্দি ও রক্ষী। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগম্বো হাসপাতালে আহতদের দ্রুত স্থানান্তর করা হয়, হাসপাতাল পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানিয়েছেন, সেখানে ২৩টি মরদেহ আনা হয়েছে এবং শতাধিক বন্দি ও রক্ষী চিকিৎসাধীন।

শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে ধারণক্ষমতার তুলনায় বহুগুণ বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে বাইরের রেষারেষি প্রায়ই কারাগারের ভেতরেও প্রবেশ করে, আর সীমিত জনবল দিয়ে এত বড় বন্দি জনগোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করা রক্ষীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অতীতেও শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার ছোট আকারের ঘটনা ঘটেছে, তবে এবারের হতাহতের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ, যা কারাগার প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ-সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক সংকটের বছরগুলোয় মাদক-সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে, অথচ কারাগার সম্প্রসারণে বরাদ্দ বাড়েনি, ফলে একই ব্যারাকে বিবদমান গোষ্ঠীর সদস্যদের একসঙ্গে রাখা ছাড়া উপায় থাকে না বলে কারা কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন।

এই দাঙ্গা শ্রীলঙ্কার সংশোধন ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই আবার সামনে নিয়ে এল। কারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বহু বছর ধরে দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন সীমিত থেকেছে, আর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কারা প্রশাসনে বিনিয়োগও কমেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্দিদের ঘনবসতি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সতর্ক করে আসছিল, শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার এই ঘটনা সেই সতর্কবার্তারই বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্ষীর অনুপাত না বাড়িয়ে শুধু নজরদারি ক্যামেরা বসিয়ে এই ধরনের সংঘর্ষ ঠেকানো সম্ভব নয়।

শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৩, আহত শতাধিক

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা তুলনামূলক শিক্ষা দেয়। বাংলাদেশের কারাগারগুলোতেও ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি, আর মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের একই কারাগারে রাখার প্রবণতা একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার এই অভিজ্ঞতা তাই আঞ্চলিক পর্যায়ে কারা সংস্কার নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। কারা সংস্কার বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দিদের অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী পৃথক ওয়ার্ডে ভাগ করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যদের একই ভবনে না রাখার নীতিই দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের সংঘর্ষ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, যদিও তার জন্য প্রয়োজন বাড়তি অবকাঠামো ও জনবল।

চারজন রক্ষীসহ নিহতের সংখ্যা তেইশে পৌঁছানোর এই ঘটনা প্রমাণ করে, শুধু নিরাপত্তা বাড়ালেই কারাগারে শৃঙ্খলা ফেরানো যায় না, যতক্ষণ না ভেতরের সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের গোড়ায় হাত দেওয়া হচ্ছে। নেগম্বো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শতাধিক আহতের মধ্যে কতজন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন তা এখনো অনিশ্চিত, আর ততদিন পর্যন্ত এই কারাগারের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। সরকার তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলেও তার প্রতিবেদন কবে প্রকাশ পাবে এবং কী সুপারিশ আসবে, তা নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্ণাটকে ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে নতুন বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চাইল বিরোধী জোট

শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় ২৩ জন নিহত, আহত শতাধিক

০৮:০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

শ্রীলঙ্কার নেগম্বো কারাগারে দুটি মাদক চক্রের বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন কারারক্ষী রয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক বন্দি ও রক্ষী। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগম্বো হাসপাতালে আহতদের দ্রুত স্থানান্তর করা হয়, হাসপাতাল পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানিয়েছেন, সেখানে ২৩টি মরদেহ আনা হয়েছে এবং শতাধিক বন্দি ও রক্ষী চিকিৎসাধীন।

শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে ধারণক্ষমতার তুলনায় বহুগুণ বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে বাইরের রেষারেষি প্রায়ই কারাগারের ভেতরেও প্রবেশ করে, আর সীমিত জনবল দিয়ে এত বড় বন্দি জনগোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করা রক্ষীদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অতীতেও শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার ছোট আকারের ঘটনা ঘটেছে, তবে এবারের হতাহতের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ, যা কারাগার প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ-সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির অর্থনৈতিক সংকটের বছরগুলোয় মাদক-সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে, অথচ কারাগার সম্প্রসারণে বরাদ্দ বাড়েনি, ফলে একই ব্যারাকে বিবদমান গোষ্ঠীর সদস্যদের একসঙ্গে রাখা ছাড়া উপায় থাকে না বলে কারা কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন।

এই দাঙ্গা শ্রীলঙ্কার সংশোধন ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই আবার সামনে নিয়ে এল। কারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বহু বছর ধরে দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন সীমিত থেকেছে, আর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কারা প্রশাসনে বিনিয়োগও কমেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্দিদের ঘনবসতি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে সতর্ক করে আসছিল, শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার এই ঘটনা সেই সতর্কবার্তারই বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্ষীর অনুপাত না বাড়িয়ে শুধু নজরদারি ক্যামেরা বসিয়ে এই ধরনের সংঘর্ষ ঠেকানো সম্ভব নয়।

শ্রীলঙ্কায় কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ২৩, আহত শতাধিক

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা তুলনামূলক শিক্ষা দেয়। বাংলাদেশের কারাগারগুলোতেও ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি, আর মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের একই কারাগারে রাখার প্রবণতা একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গার এই অভিজ্ঞতা তাই আঞ্চলিক পর্যায়ে কারা সংস্কার নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। কারা সংস্কার বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দিদের অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী পৃথক ওয়ার্ডে ভাগ করা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যদের একই ভবনে না রাখার নীতিই দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের সংঘর্ষ ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, যদিও তার জন্য প্রয়োজন বাড়তি অবকাঠামো ও জনবল।

চারজন রক্ষীসহ নিহতের সংখ্যা তেইশে পৌঁছানোর এই ঘটনা প্রমাণ করে, শুধু নিরাপত্তা বাড়ালেই কারাগারে শৃঙ্খলা ফেরানো যায় না, যতক্ষণ না ভেতরের সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের গোড়ায় হাত দেওয়া হচ্ছে। নেগম্বো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শতাধিক আহতের মধ্যে কতজন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন তা এখনো অনিশ্চিত, আর ততদিন পর্যন্ত এই কারাগারের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। সরকার তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলেও তার প্রতিবেদন কবে প্রকাশ পাবে এবং কী সুপারিশ আসবে, তা নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।