০৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
শ্রীলঙ্কার কারাগারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৬, আহত শতাধিক যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ভারতীয় কর্মী, কারণ জানলে অবাক হবেন ভারতের সঙ্গে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া, বাড়ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জ্বলতে শেখার মধ্যেই দীপ্তির জন্ম আপারেশন সাগরে ট্রলারডুবি: পটুয়াখালীর উপকূলে নিখোঁজ ৬ জেলে সংযুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার অনুমোদন, নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ডেও সবুজ সংকেত জুনে ৯.৯ পয়েন্ট কমল বাংলাদেশের পিএমআই, ব্যবসায়িক আস্থায় দুর্বলতার ইঙ্গিত আপসে আফগান ক্রিকেটের পথিকৃৎ শাপুর জাদরান আর নেই, ৩৮ বছরেই জীবনাবসান টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন কক্সবাজারে পাহাড়ধসে আরও এক নারীর মৃত্যু, আহত স্বামী-সন্তান

শান্তির আহ্বান যথেষ্ট নয়, গণতন্ত্রের সংকটও সমাধান করতে হবে

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ইতিহাসে শান্তির আহ্বান নতুন কিছু নয়। দুই দেশের সাবেক কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারণী পরিমণ্ডলের অনেকেই আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, বাণিজ্য চালু, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং ভিসা সহজ করার মতো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব সামনে এনেছেন। যুক্তিটিও সহজ—অবিরাম বৈরিতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে।

এই দাবিগুলো যুক্তিসঙ্গত এবং দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উপেক্ষিত থেকে যায়। দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা যদি ক্রমেই আরও সংকুচিত হয়, তবে কেবল শান্তির আবেদন কতটা কার্যকর হতে পারে?

গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হলে পররাষ্ট্রনীতিও কঠোর হয়ে ওঠে। যখন বিরোধী মতকে সীমিত করা হয়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনতা হারায় এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অসম হয়ে পড়ে, তখন প্রতিবেশীর সঙ্গে সমঝোতার রাজনৈতিক সাহসও কমে যায়। কারণ আপসের ভাষা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য, আর সংঘাতের ভাষা অনেক সময় অভ্যন্তরীণ সংকট ঢাকার সহজতম রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত হওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের বিস্তার এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে শান্তি নিয়ে জনপরিসরে খোলামেলা আলোচনা করাও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

এই বাস্তবতায় শান্তিকামীদের মধ্যেও দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। একদল মনে করেন, সীমান্তের উত্তেজনা কমানোই প্রধান কাজ। সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে অন্য সমস্যার সমাধানের পথও খুলবে। অন্য পক্ষের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, গণতন্ত্র দুর্বল রেখে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই প্রতিবেশী দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিও নৈতিক সংহতি প্রকাশ জরুরি। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয় নয়; এটি স্বাধীনতা, অধিকার ও জবাবদিহির মতো অভিন্ন মূল্যবোধেরও প্রশ্ন।

India, Pakistan Leaders Urge Revival of Kashmir Peace Talks

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এমন সংহতির নজির রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সীমান্তের দুই পাশে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন পরস্পরকে অনুপ্রাণিত করেছে। লেখক, কবি, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের বাইরে গিয়ে মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই ঐতিহ্যের মধ্যেও মতপার্থক্য ছিল। কেউ মনে করেছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অবস্থান নেওয়া উচিত নয়; আবার কেউ বিশ্বাস করেছেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ভৌগোলিক সীমান্তে আটকে থাকে না।

আজ সেই বিতর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ বর্তমান সংকট শুধু কূটনৈতিক নয়, নিরাপত্তাগতও। ২০২৫ সালের সামরিক সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা, পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং যুদ্ধংদেহী বক্তব্য দেখিয়েছে, যে কোনো ভুল হিসাব দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

এর পাশাপাশি পানিবণ্টন প্রশ্নটিও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বহু দশক ধরে বিদ্যমান নদীর পানি ভাগাভাগির কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তানে নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা, পানি এবং সীমান্ত—এই তিনটি ইস্যু এখন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জটিল।

এই বাস্তবতায় অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদী হবে। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়িয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোই আপাতত বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। ইতিহাস বলছে, অনেক সময় আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি ছাড়াও সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক পরিবেশও দুই দেশে এক নয়। পাকিস্তানে মূলধারার গণমাধ্যমে এখনও ভিন্নমত কিছুটা হলেও প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে ভারতে বিকল্প মতামত ক্রমশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, আর সেই পরিসরও নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি। ফলে শান্তির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার সুযোগও অসম হয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাধা শুধু সীমান্ত নয়; আস্থার সংকট। আর সেই আস্থার সংকটের শিকড় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গভীরভাবে প্রোথিত। তাই কেবল কূটনৈতিক সংলাপ বা বাণিজ্য পুনরায় চালুর আহ্বান যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে এমন রাজনৈতিক পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মতভিন্নতা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়, গণতন্ত্রের স্বাভাবিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির পথ কোনো অলৌকিক সমাধানের অপেক্ষায় নেই। এটি নির্ভর করবে রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার এবং জনগণের পারস্পরিক আস্থাকে পুনর্গঠনের ওপর। এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে শান্তির প্রতিটি নতুন আহ্বান আবারও কেবল একটি অপূর্ণ প্রত্যাশায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিই বহন করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কার কারাগারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ২৬, আহত শতাধিক

শান্তির আহ্বান যথেষ্ট নয়, গণতন্ত্রের সংকটও সমাধান করতে হবে

০৫:৪৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ইতিহাসে শান্তির আহ্বান নতুন কিছু নয়। দুই দেশের সাবেক কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারণী পরিমণ্ডলের অনেকেই আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, বাণিজ্য চালু, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং ভিসা সহজ করার মতো বাস্তবসম্মত প্রস্তাব সামনে এনেছেন। যুক্তিটিও সহজ—অবিরাম বৈরিতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে।

এই দাবিগুলো যুক্তিসঙ্গত এবং দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উপেক্ষিত থেকে যায়। দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা যদি ক্রমেই আরও সংকুচিত হয়, তবে কেবল শান্তির আবেদন কতটা কার্যকর হতে পারে?

গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হলে পররাষ্ট্রনীতিও কঠোর হয়ে ওঠে। যখন বিরোধী মতকে সীমিত করা হয়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনতা হারায় এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অসম হয়ে পড়ে, তখন প্রতিবেশীর সঙ্গে সমঝোতার রাজনৈতিক সাহসও কমে যায়। কারণ আপসের ভাষা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য, আর সংঘাতের ভাষা অনেক সময় অভ্যন্তরীণ সংকট ঢাকার সহজতম রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিরোধী রাজনীতির পরিসর সংকুচিত হওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের বিস্তার এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে শান্তি নিয়ে জনপরিসরে খোলামেলা আলোচনা করাও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।

এই বাস্তবতায় শান্তিকামীদের মধ্যেও দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। একদল মনে করেন, সীমান্তের উত্তেজনা কমানোই প্রধান কাজ। সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে অন্য সমস্যার সমাধানের পথও খুলবে। অন্য পক্ষের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, গণতন্ত্র দুর্বল রেখে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই প্রতিবেশী দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিও নৈতিক সংহতি প্রকাশ জরুরি। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেবল সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয় নয়; এটি স্বাধীনতা, অধিকার ও জবাবদিহির মতো অভিন্ন মূল্যবোধেরও প্রশ্ন।

India, Pakistan Leaders Urge Revival of Kashmir Peace Talks

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এমন সংহতির নজির রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সীমান্তের দুই পাশে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন পরস্পরকে অনুপ্রাণিত করেছে। লেখক, কবি, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের বাইরে গিয়ে মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে এই ঐতিহ্যের মধ্যেও মতপার্থক্য ছিল। কেউ মনে করেছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অবস্থান নেওয়া উচিত নয়; আবার কেউ বিশ্বাস করেছেন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ভৌগোলিক সীমান্তে আটকে থাকে না।

আজ সেই বিতর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ বর্তমান সংকট শুধু কূটনৈতিক নয়, নিরাপত্তাগতও। ২০২৫ সালের সামরিক সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা, পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া এবং যুদ্ধংদেহী বক্তব্য দেখিয়েছে, যে কোনো ভুল হিসাব দ্রুত বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

এর পাশাপাশি পানিবণ্টন প্রশ্নটিও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বহু দশক ধরে বিদ্যমান নদীর পানি ভাগাভাগির কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তানে নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা, পানি এবং সীমান্ত—এই তিনটি ইস্যু এখন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জটিল।

এই বাস্তবতায় অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা হয়তো অতিরিক্ত আশাবাদী হবে। বরং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়িয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোই আপাতত বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। ইতিহাস বলছে, অনেক সময় আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি ছাড়াও সংঘাত নিয়ন্ত্রণ করে দীর্ঘ সময় উত্তেজনা সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক পরিবেশও দুই দেশে এক নয়। পাকিস্তানে মূলধারার গণমাধ্যমে এখনও ভিন্নমত কিছুটা হলেও প্রকাশের সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে ভারতে বিকল্প মতামত ক্রমশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, আর সেই পরিসরও নানা ধরনের নিয়ন্ত্রণের মুখোমুখি। ফলে শান্তির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার সুযোগও অসম হয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাধা শুধু সীমান্ত নয়; আস্থার সংকট। আর সেই আস্থার সংকটের শিকড় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গভীরভাবে প্রোথিত। তাই কেবল কূটনৈতিক সংলাপ বা বাণিজ্য পুনরায় চালুর আহ্বান যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে এমন রাজনৈতিক পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মতভিন্নতা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়, গণতন্ত্রের স্বাভাবিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির পথ কোনো অলৌকিক সমাধানের অপেক্ষায় নেই। এটি নির্ভর করবে রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার এবং জনগণের পারস্পরিক আস্থাকে পুনর্গঠনের ওপর। এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে শান্তির প্রতিটি নতুন আহ্বান আবারও কেবল একটি অপূর্ণ প্রত্যাশায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিই বহন করবে।