বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মূলধন সংকটে থাকা বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী ইউনিটগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার রিভলভিং প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম পরিচালনার বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-৩ (বিআরপিডি-৩) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার পাঠায়। এতে স্কিমের আওতায় অর্থ বিতরণ, অংশগ্রহণ, তদারকি ও প্রতিবেদন দাখিলের পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।
বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবনে প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম
‘ক্লোজড ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিস সেক্টর ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম’ নামে তিন বছর মেয়াদি এই রিভলভিং তহবিল তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠন করা হবে।
স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি-৩ বিভাগের সঙ্গে একটি ‘পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করতে হবে। এরপর নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নির্ধারিত আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রি-ফাইন্যান্স সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে। ঋণগ্রহীতাদের কাছে ঋণ বিতরণের আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
আবেদন যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা যদি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো রিফাইন্যান্স বা প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় কার্যকরী মূলধন সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে তার প্রকৃত অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে একই প্রতিষ্ঠানের জন্য অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত অর্থায়ন এড়ানোর পাশাপাশি স্কিমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কঠোর শর্ত
আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর জন্য বেশ কয়েকটি বাধ্যতামূলক শর্ত নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আবেদনকারীর কাছ থেকে নিয়মিত কাগজপত্রের পাশাপাশি একটি ঘোষণাপত্র নিতে হবে, যেখানে তিনি নিশ্চিত করবেন যে তিনি কখনও অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিল অপব্যবহার বা ঋণের অপপ্রয়োগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বা সেবা প্রদানের সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র, বিক্রয় ও আয়ের প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে তার প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার অঙ্গীকারও করতে হবে।
ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা বাধ্যতামূলক
স্কিমের আওতায় বিতরণ করা ঋণ এবং ঋণ আদায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার মাধ্যমে বন্ধ ও মূলধন-সংকটে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি, কার্যকর তদারকি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী খাতকে পুনরায় সচল করার উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিমে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবনে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















