বিশ্বের এক নম্বর নারী টেনিস খেলোয়াড় আরিনা সাবালেঙ্কার উইম্বলডন জয়ের স্বপ্ন আরও এক বছরের জন্য পিছিয়ে গেল। শেষ ষোলোতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নাওমি ওসাকার কাছে সরাসরি দুই সেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন সাবালেঙ্কা। তিনি বলেন, টেনিস থেকে কিছুটা দূরে সরে সবকিছু ভুলে যেতে চান।
ওসাকার দাপটে থেমে গেল সাবালেঙ্কা
দুই খেলোয়াড়েরই চারটি করে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা থাকায় ম্যাচটি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক টেনিস খেলেন ১৪তম বাছাই নাওমি ওসাকা। শক্তিশালী সার্ভিস ও গতিময় শটে তিনি সাবালেঙ্কাকে চাপে রাখেন এবং ৬-২, ৭-৬ (৭-২) ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচজুড়ে সাবালেঙ্কাকে অস্বস্তিতে দেখা যায়। প্রথম সেটে হতাশায় চিৎকার করেন তিনি। দ্বিতীয় সেটেও নিজের ওপর বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। শেষ পয়েন্ট হারানোর পর ক্ষোভে বল গ্যালারির বাইরে পাঠিয়ে দেন এবং দ্রুত সংবাদ সম্মেলনে চলে যান।

নিজের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ বিশ্ব এক নম্বর
ম্যাচ শেষে সাবালেঙ্কা স্বীকার করেন, এদিন তার খেলার মান মোটেই বিশ্বসেরাদের মতো ছিল না। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও এবার নিজের খেলায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। আগামী বছর আরও ভালোভাবে ফিরে আসার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান।
তার ভাষায়, এদিন নিজের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার অনেক নিচে। তাই বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা নিয়ে এই মুহূর্তে তিনি ভাবতে চান না। বরং কিছু সময় টেনিস থেকে দূরে থেকে নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নতুন করে প্রস্তুত করার ইচ্ছার কথাই জানান।
কঠিন মৌসুম পার করছেন সাবালেঙ্কা
চলতি মৌসুমে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে প্রত্যাশামতো ফল পাননি সাবালেঙ্কা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারের পর ফরাসি ওপেনেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় তাকে। সেই হতাশার ধারাবাহিকতায় এবার উইম্বলডন থেকেও শেষ ষোলোতেই বিদায় নিলেন বেলারুশের এই তারকা।
তবে উইম্বলডনের পরও তিনি বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান ধরে রাখবেন। কিন্তু তার মতে, র্যাঙ্কিং নয়, নিজের খেলার মানই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়।
সিনারের আত্মবিশ্বাস, গরম নিয়ে নেই উদ্বেগ
পুরুষ এককে বিশ্ব এক নম্বর ইয়ানিক সিনার অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। লন্ডনে তাপমাত্রা বাড়লেও সেটি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। অতীতে গরম আবহাওয়ায় শারীরিক সমস্যায় পড়লেও এবার ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।
জাপানের শিনতারো মোচিজুকিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সিনার বলেন, অতীতের সমস্যাগুলো এখন আর ভাবছেন না। প্রস্তুতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং সামনের ম্যাচগুলোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন।
নারী এককে জমে উঠছে লড়াই
নারী এককের আরেক ম্যাচে ইউক্রেনের মার্তা কোস্তিউক প্রথমবারের মতো উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাশলিন ক্রুগারকে হারিয়ে শেষ আটে ওঠেন। সেখানে তার প্রতিপক্ষ ইতালির জাসমিন পাওলিনি, যিনি কঠিন লড়াইয়ে আলেকজান্দ্রা ইয়ালাকে পরাজিত করে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছেন।
উইম্বলডনের দ্বিতীয় সপ্তাহে শিরোপার লড়াই আরও জমে উঠেছে। পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই এখন প্রতিটি ম্যাচেই বাড়ছে উত্তেজনা, আর সবার নজর এখন কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ের দিকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















