হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নতুন আঘাতকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সংযমের পথে না গিয়ে সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে ইরান—এমন মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তা।
হরমুজে একের পর এক হামলা
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার পরই তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালায়।
হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ, সৌদি আরবের পতাকাবাহী আরেকটি ট্যাংকার এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।

উপসাগরীয় দেশগুলোও লক্ষ্যবস্তু
ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার জবাবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মোট ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং বাহরাইন ও কুয়েতের বিরুদ্ধে বারবার আক্রমণ প্রমাণ করে যে, তেহরান এখনো উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেনি এবং যুদ্ধের অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার অবস্থায় নেই।
ওমান উপকূলের কাছে হামলা
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজের কাছে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর তাতে আগুন ধরে যায়। পরে আরও দুটি জাহাজ হামলার মুখে পড়ে, যার অন্তত একটিতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তিনটি জাহাজই ওমান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থানে আক্রান্ত হয়। এর আগে ওমান নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে নিজেদের উপকূল ঘেঁষে একটি অস্থায়ী চলাচল করিডর চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগে ইরান আপত্তি জানায়।

কাতারের প্রতিবাদ, ইরানের অস্বীকৃতি
হামলার শিকার জাহাজগুলোর একটি কাতারের হওয়ায় দোহা আন্তর্জাতিক নৌপথে এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইরানের একজন কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
অন্যদিকে ইরান কাতারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এসব অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং তারা এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তেলের বাজারে নতুন চাপ
হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। এশিয়ার লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনেই সাত শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, যা দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার স্থায়িত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















