০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
ডলি পার্টনের মৃত্যু, ৮০ বছরেই থামল কিংবদন্তি সংগীতজীবন এ৬৬ সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত: সংঘবদ্ধ অপরাধের তদন্তে ১২ জন গ্রেপ্তার ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব, অন্টারিও হ্রদের নাম হতে পারে ‘আমেরিকা হ্রদ’ ডেভনে বন্ধ টাংস্টেন খনি ফের চালু করতে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ ব্রিটিশ সরকারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি গণিতের ভবিষ্যৎ শেষ করে দেবে? এখনই নয় ২৩ বছর পর ফিরছে ‘হাউ টু লুজ আ গাই ইন ১০ ডেজ’, প্রযোজনায় কেট হাডসন মাওয়ের ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য নির্মাণের দায়ে চীনা শিল্পীর তিন বছরের কারাদণ্ড সংস্কারের ভূত: অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে আসার কঠিন পরীক্ষা রাজনৈতিক প্রভাব কেনার বিল এবার বড় ব্যবসাকেই দিতে হবে প্রদেশ নয়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণই পাকিস্তানের প্রকৃত সংস্কার

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন কূটনীতি, ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও তীব্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌচলাচল নিয়ে আলোচনা করতে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, এই জলপথের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে। মাসকাটে আরাঘচির সফরও মূলত এই বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং বলেছে, ওয়াশিংটন সামরিক হামলা চালানো ও ইরানের তেল রপ্তানির সুবিধা প্রত্যাহারের মাধ্যমে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। তবে তেহরান এখনই নতুন আলোচনা না চাইলেও মধ্যস্থতাকারীদের গ্রহণে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।

মাঠে উত্তেজনা, কূটনীতিতে তৎপরতা

ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান সংকটেও দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একই সময়ে কাতার ও পাকিস্তানও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপে উভয় পক্ষকে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আহ্বান জানান।

Live updates: Iran foreign minister in Oman to discuss Strait of Hormuz |  CNN

তেহরানে বিস্ফোরণ নিয়ে ধোঁয়াশা

শনিবার তেহরান প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অবশিষ্ট গোলাবারুদ পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে জননিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। এর আগে ফার্স নিউজ এজেন্সি বিস্ফোরণের খবর দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানায়নি।

সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি বার্তা

ইরান জানিয়েছে, দেশের উপকূল, দ্বীপ ও সীমান্তজুড়ে সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিরাপদ রাখার ওপর জোর দিচ্ছে এবং ইরানের কাছে প্রকাশ্যে নিশ্চয়তা চেয়েছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি'

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

চুক্তি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে মার্কিন পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক আবারও সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ডলি পার্টনের মৃত্যু, ৮০ বছরেই থামল কিংবদন্তি সংগীতজীবন

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন কূটনীতি, ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও তীব্র

০২:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌচলাচল নিয়ে আলোচনা করতে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সামরিক প্রস্তুতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, এই জলপথের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে। মাসকাটে আরাঘচির সফরও মূলত এই বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই দেশের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং বলেছে, ওয়াশিংটন সামরিক হামলা চালানো ও ইরানের তেল রপ্তানির সুবিধা প্রত্যাহারের মাধ্যমে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে। তবে তেহরান এখনই নতুন আলোচনা না চাইলেও মধ্যস্থতাকারীদের গ্রহণে আগ্রহী বলে জানিয়েছে।

মাঠে উত্তেজনা, কূটনীতিতে তৎপরতা

ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান সংকটেও দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একই সময়ে কাতার ও পাকিস্তানও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপে উভয় পক্ষকে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আহ্বান জানান।

Live updates: Iran foreign minister in Oman to discuss Strait of Hormuz |  CNN

তেহরানে বিস্ফোরণ নিয়ে ধোঁয়াশা

শনিবার তেহরান প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অবশিষ্ট গোলাবারুদ পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে জননিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। এর আগে ফার্স নিউজ এজেন্সি বিস্ফোরণের খবর দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানায়নি।

সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টাপাল্টি বার্তা

ইরান জানিয়েছে, দেশের উপকূল, দ্বীপ ও সীমান্তজুড়ে সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল নিরাপদ রাখার ওপর জোর দিচ্ছে এবং ইরানের কাছে প্রকাশ্যে নিশ্চয়তা চেয়েছে যে বাণিজ্যিক জাহাজে আর হামলা হবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি'

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।

চুক্তি নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই চুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে মার্কিন পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক আবারও সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।