০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা? ২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে

কারাগারে মৃত্যুর মিছিল থামছে না, ৬ মাসে ৬১ প্রাণহানির তালিকায় যোগ হলো যুবলীগ নেতা

জামিন শুনানির জন্য দিন গুনছিলেন। আদালতে নিজের পক্ষে দাঁড়িয়ে মুক্তির আবেদন জানানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই থেমে গেল জীবনের পথচলা। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির মাতুব্বর (৪০) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে জামিন শুনানির আগের রাতেই তার মৃত্যু নতুন করে কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জামিনের আগেই নিভে গেল জীবন

কারা সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মনিরুজ্জামান মনির অসুস্থ হয়ে মারা যান। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান মনির ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মোহাম্মদপুরের শহীদ সিটি পার্ক মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

অজ্ঞাত লাশ ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি; বাংলাদেশের আইন নিয়ে জনমনে  সন্দেহ | বাংলাদেশ | মুনা বুলেটিন

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। কয়েক মাস পর একবার জামিনে মুক্তি পেলেও কারাফটক থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে। পরে দ্বিতীয়বার জামিন পেলেও নতুন মামলায় পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার তার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সেই শুনানির আগের রাতেই মৃত্যু হয় তার।

পরিবারের বক্তব্য

মনিরুজ্জামান মনিরের ছোট চাচা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসার মাতুব্বর জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও অতিরিক্ত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। পরিবার আশা করেছিল, জামিন শুনানির মাধ্যমে তিনি অন্তত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

৬ মাসে ৬১ মৃত্যু

মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৬১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন এবং ২৪ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। অর্থাৎ, মৃত্যুবরণকারীদের বড় একটি অংশ এমন মানুষ, যাদের বিচারিক প্রক্রিয়াই তখনও শেষ হয়নি।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৬১ মৃত্যু, ৬০ শতাংশই বিচারাধীন  বন্দি: আসক

অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম তিন মাসেই কারাগারে ৩৯ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এবং পাবনার আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পী প্রলয় চাকীর কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্দিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা এবং বিচারাধীন বন্দিদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর ঘটনাও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জামিন শুনানির আগের রাতে কেন্দ্রীয় কারাগারে যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যু এমন সময়ে ঘটলো, যখন চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশের কারাগারগুলোতে ৬১ জন বন্দির মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আসক।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়ানো: প্রশাসনিক সমাধান, নাকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরীক্ষা?

কারাগারে মৃত্যুর মিছিল থামছে না, ৬ মাসে ৬১ প্রাণহানির তালিকায় যোগ হলো যুবলীগ নেতা

০৩:০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

জামিন শুনানির জন্য দিন গুনছিলেন। আদালতে নিজের পক্ষে দাঁড়িয়ে মুক্তির আবেদন জানানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই থেমে গেল জীবনের পথচলা। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মনির মাতুব্বর (৪০) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় মারা গেছেন। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে জামিন শুনানির আগের রাতেই তার মৃত্যু নতুন করে কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জামিনের আগেই নিভে গেল জীবন

কারা সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মনিরুজ্জামান মনির অসুস্থ হয়ে মারা যান। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান মনির ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মোহাম্মদপুরের শহীদ সিটি পার্ক মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

অজ্ঞাত লাশ ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি; বাংলাদেশের আইন নিয়ে জনমনে  সন্দেহ | বাংলাদেশ | মুনা বুলেটিন

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। কয়েক মাস পর একবার জামিনে মুক্তি পেলেও কারাফটক থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে। পরে দ্বিতীয়বার জামিন পেলেও নতুন মামলায় পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার তার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সেই শুনানির আগের রাতেই মৃত্যু হয় তার।

পরিবারের বক্তব্য

মনিরুজ্জামান মনিরের ছোট চাচা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাসার মাতুব্বর জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও অতিরিক্ত ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। পরিবার আশা করেছিল, জামিন শুনানির মাধ্যমে তিনি অন্তত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

৬ মাসে ৬১ মৃত্যু

মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৬১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন এবং ২৪ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। অর্থাৎ, মৃত্যুবরণকারীদের বড় একটি অংশ এমন মানুষ, যাদের বিচারিক প্রক্রিয়াই তখনও শেষ হয়নি।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৬১ মৃত্যু, ৬০ শতাংশই বিচারাধীন  বন্দি: আসক

অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম তিন মাসেই কারাগারে ৩৯ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন এবং পাবনার আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পী প্রলয় চাকীর কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্দিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা এবং বিচারাধীন বন্দিদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যুর ঘটনাও সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জামিন শুনানির আগের রাতে কেন্দ্রীয় কারাগারে যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের মৃত্যু এমন সময়ে ঘটলো, যখন চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশের কারাগারগুলোতে ৬১ জন বন্দির মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আসক।