স্পেনের আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলের মধ্যে একটি খাদ থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় এক ব্রিটিশ দম্পতিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
খাদ থেকে ভেসে আসে সাহায্যের আর্তনাদ
জানা গেছে, দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময় ওই দম্পতি পাহাড়ি পথে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। আগুনের তীব্রতায় তারা একটি গভীর খাদে আটকে পড়েন। পরে উদ্ধার অভিযানে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দূর থেকে তাদের সাহায্যের আর্তনাদ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
উদ্ধারকারীরা দুর্গম ঢাল বেয়ে নিচে নেমে তাদের খুঁজে পান। তখন তারা আধা-চেতন অবস্থায় ছিলেন এবং শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাদের চিকিৎসা চলছে।
দাবানলে মৃত্যু ১২, বহু এলাকা পুড়ে ছাই
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দাবানলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন বলে ধারণা করা হলেও তাদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
আগুনে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। শত শত অগ্নিনির্বাপক কর্মী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং আকাশপথের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ঝুঁকির মাত্রাও কমানো হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নিরাপদ বিবেচনায় সরিয়ে নেওয়া বহু বাসিন্দার মধ্যে কয়েক শত মানুষকে ইতোমধ্যে বাড়িতে ফিরতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক মানুষ এখনো উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের অনেকেই জানেন না, নিজেদের বাড়িঘর আগুন থেকে রক্ষা পেয়েছে কি না।

সতর্কবার্তা নিয়ে প্রশ্ন
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও মোবাইলে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়নি। তাদের দাবি, সময়মতো বার্তা পাঠানো হলে আরও মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে পারতেন।
অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাখ্যা, ওই সময়ে ব্যাপকভাবে সতর্কবার্তা পাঠালে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে যেতে পারত।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট
চলতি গ্রীষ্মে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালে একের পর এক দাবানলের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন দাবানলের ঝুঁকি এবং তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা ডিএনএ পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, তল্লাশি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
স্পেনের সাম্প্রতিক এই দাবানল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী দাবানলের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
স্পেনের ভয়াবহ দাবানলে খাদ থেকে গুরুতর দগ্ধ ব্রিটিশ দম্পতি উদ্ধার, মৃত্যু বেড়ে ১২। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্বেগ কাটেনি ক্ষতিগ্রস্তদের।
Sarakhon Report 



















