১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্স-আলজেরিয়া সম্পর্কের শিক্ষা: সংঘাত নয়, কূটনীতির পথই কি শেষ পর্যন্ত জয়ী? নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আরও এক সন্দেহভাজন হামে শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫৯ কর্ণাটকের মুকাম্বিকা মন্দিরে হাতি চেয়ে কেরালাকে অনুরোধ, নতুন আলোচনা দুই রাজ্যে ওলি রবিনসের আইনি লড়াই, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্ক চীনের বিমানবাহী রণতরী শক্তি বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা, পাইলট ও নাবিক তৈরিতে বড় পরিবর্তন জাপানে বিদেশি কর্মী বাড়ায় রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে বিদেশে পাঠানো হলো ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন ভিয়েতনামে ৩০ কোটি ডলারের বিশাল কারখানা খুলল সানটোরি পেপসিকো, লক্ষ্য স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বাড়তি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের দখলে হিলিয়াম বাজার, ইরান যুদ্ধ ও চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় চাপে এশিয়ার চিপ শিল্প

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন!

শিরোনামে আশ্চর্যবোধক চিহ্ন বা নোট অফ এক্সক্লামেশন দেখে অনেকেই হয়তো বলবেন কেন এটা ব্যবহার করেছি।
সত্যি কথা বলতে কি পতনের মাত্র দু বছরের মাথায় এক ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসকের নির্বাসন থেকে দেশে ফেরা নিয়ে লিখতে হবে এটা চিন্তা করতে পারিনি। ভেবেছিলাম বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার শেষ জীবনটা হয়তো সেখানেই কাটাতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকদের দীর্ঘদিন হাহুতাস করতে হবে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক পরিণতিতে। তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের বিভীষিকাময় সময়ের কথা আমার মত যারা অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন তারা অনেকেই হয়তো এখনো শিউরে ওঠেন। সেই কথাগুলো ভুলতে দুই দশক লেগেছিল এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে ছিল ২১ বছর।
প্রশ্ন হল মাত্র দু বছরের মাথায় মানুষ শেখ হাসিনার ১৭ বছরের দূঃশাসনের কথা কিভাবে ভুলে গেল? শুধু তাই না, এখন তার দেশে ফেরাটাও মনে হচ্ছে খুব বেশি দূরে নয়। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফেরত আসবেন।
এ নিয়ে নানা আলোচনা এবং বিশ্লেষণ আপনারা সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন এটা তার স্ট্যানটবাজি এবং তিনি আর বাংলাদেশে এসে রাজনীতি করতে পারবেন না এবং আসলেও তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে।
আমার ধারণা শেখ হাসিনা ফিরলে মৃত্যুদণ্ড তো দূরের কথা, তাকে হয়তো জেলেও নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও মাঝে মাঝেই দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায় তাদের নেত্রীর পক্ষে স্লোগান দিয়ে সমর্থকরা মাঠে নামছে এবং গ্রেপ্তার হচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলে তার সরব এবং নীরব সমর্থকরা চাঙ্গা হয়ে উঠবেন বলে আমার ধারণা। সেই সঙ্গে দেশে এক মারাত্মক অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করি।
চার মাস আগে দেশে মোটামুটি একটা নির্বাচনের পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও জনমনে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে।
এই আশঙ্কা এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরেই। হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশে অন্যায়-অবিচার বন্ধ হবে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং ঘুষ দুর্নীতি দেশ থেকে বিদায় নেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে জাতি দেখল ইউনুসের শাসনের মাত্র চার মাসের মাথায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কোন আশাই পূরণ হয়নি। উল্টো তার স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিস্বার্থ এবং দুর্নীতির কারণে মানুষ বলতে শুরু করলো, আগেই ভালো ছিলাম। ছয় মাসের মাথায় শুরু হলো তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র। একই সঙ্গে দেশের মানুষ দেখল তিনি আসলে দেশের কোনো ভালো করতে আসেননি, এসেছেন তার বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গোপনে বন্দর ইযারা দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আমেরিকার সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি। ফলশ্রুতিতে একসময় দেশ এবং বিদেশে সম্মানিত এই ব্যক্তি এখন মনে হয় সবচেয়ে ঘৃণিত।
চার মাস আগে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ ভেবেছিল এবার সত্যিকার অর্থে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হবে এবং চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেটা তো হলোই না; উল্টো অনেকের কাছে মনে হচ্ছে এটা ইউনূসের এক্সটেনশন সরকার। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব দুর্নীতি হয়েছে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার এস এস এফ এর প্রোটেকশনসহ তাকে নানাভাবে রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে। এমনকি উচ্চ আদালতে তার বিরুদ্ধে করা কোন মামলার শুনানি পর্যন্ত বিচারক এলাউ করছেন না। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল দেশব্যাপী হামের প্রকোপে ৭০০ এর উপর শিশুর মৃত্যুর জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করা হলেও, ইউনূসের বিরুদ্ধে কোন মামলা করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকাশ্যে পার্লামেন্টে বলেছিলেন, আগের সরকার ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে এই ব্যাপারে। তারপরও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। আরো উল্লেখ করি দুর্নীতি দমন কমিশনে ইউনূস এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু দুদক এখন অকার্যকর।
এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন খুব একটা অবাস্তব মনে হচ্ছে না। তবে তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কবে নাগাদ সেটা নির্ভর করছে দুটো ফ্যাক্টরের উপর। এক, ইন্ডিয়ার ক্যালকুলেশন এবং দূই, দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা। ইন্ডিয়া চেষ্টা করবে বাংলাদেশের ভিতরে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে তার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। সেটা করা খুব একটা ডিফিকাল্ট হবে বলে মনে হয় না। কারণ এই হাইলি পোলারাইজড দেশে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ আমরা আগেও দেখেছি। এতদিন ছিলাম ভারতের আধিপত্যে। আর হাসিনার পতনের পর পাকিস্তান এবং আমেরিকার দৌরাত্ম বেড়েছে।
দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত কোন শাসক দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণেই স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পর দেখতে পাই কে ভারতপন্থী; কে পাকিস্তানপন্থী; আর কে আমেরিকানপন্থী। বাংলাদেশ পন্থী আর কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।
জানিনা অদূর ভবিষ্যতে এরকম কোন নেতা আমরা পাব কিনা যিনি কোন দেশ বা বিদেশি প্রভুর তোষামোদি না করে দেশের জনগণকে সত্যিকার অর্থে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্স-আলজেরিয়া সম্পর্কের শিক্ষা: সংঘাত নয়, কূটনীতির পথই কি শেষ পর্যন্ত জয়ী?

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন!

০৭:০০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
শিরোনামে আশ্চর্যবোধক চিহ্ন বা নোট অফ এক্সক্লামেশন দেখে অনেকেই হয়তো বলবেন কেন এটা ব্যবহার করেছি।
সত্যি কথা বলতে কি পতনের মাত্র দু বছরের মাথায় এক ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসকের নির্বাসন থেকে দেশে ফেরা নিয়ে লিখতে হবে এটা চিন্তা করতে পারিনি। ভেবেছিলাম বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার শেষ জীবনটা হয়তো সেখানেই কাটাতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকদের দীর্ঘদিন হাহুতাস করতে হবে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক পরিণতিতে। তার সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের বিভীষিকাময় সময়ের কথা আমার মত যারা অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন তারা অনেকেই হয়তো এখনো শিউরে ওঠেন। সেই কথাগুলো ভুলতে দুই দশক লেগেছিল এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে ছিল ২১ বছর।
প্রশ্ন হল মাত্র দু বছরের মাথায় মানুষ শেখ হাসিনার ১৭ বছরের দূঃশাসনের কথা কিভাবে ভুলে গেল? শুধু তাই না, এখন তার দেশে ফেরাটাও মনে হচ্ছে খুব বেশি দূরে নয়। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফেরত আসবেন।
এ নিয়ে নানা আলোচনা এবং বিশ্লেষণ আপনারা সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন এটা তার স্ট্যানটবাজি এবং তিনি আর বাংলাদেশে এসে রাজনীতি করতে পারবেন না এবং আসলেও তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে।
আমার ধারণা শেখ হাসিনা ফিরলে মৃত্যুদণ্ড তো দূরের কথা, তাকে হয়তো জেলেও নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও মাঝে মাঝেই দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায় তাদের নেত্রীর পক্ষে স্লোগান দিয়ে সমর্থকরা মাঠে নামছে এবং গ্রেপ্তার হচ্ছে। তিনি দেশে ফিরলে তার সরব এবং নীরব সমর্থকরা চাঙ্গা হয়ে উঠবেন বলে আমার ধারণা। সেই সঙ্গে দেশে এক মারাত্মক অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করি।
চার মাস আগে দেশে মোটামুটি একটা নির্বাচনের পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও জনমনে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে।
এই আশঙ্কা এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে মুহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পরেই। হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশে অন্যায়-অবিচার বন্ধ হবে; আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং ঘুষ দুর্নীতি দেশ থেকে বিদায় নেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে জাতি দেখল ইউনুসের শাসনের মাত্র চার মাসের মাথায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কোন আশাই পূরণ হয়নি। উল্টো তার স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিস্বার্থ এবং দুর্নীতির কারণে মানুষ বলতে শুরু করলো, আগেই ভালো ছিলাম। ছয় মাসের মাথায় শুরু হলো তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র। একই সঙ্গে দেশের মানুষ দেখল তিনি আসলে দেশের কোনো ভালো করতে আসেননি, এসেছেন তার বিদেশি প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গোপনে বন্দর ইযারা দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং আমেরিকার সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি। ফলশ্রুতিতে একসময় দেশ এবং বিদেশে সম্মানিত এই ব্যক্তি এখন মনে হয় সবচেয়ে ঘৃণিত।
চার মাস আগে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষ ভেবেছিল এবার সত্যিকার অর্থে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হবে এবং চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেটা তো হলোই না; উল্টো অনেকের কাছে মনে হচ্ছে এটা ইউনূসের এক্সটেনশন সরকার। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব দুর্নীতি হয়েছে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার এস এস এফ এর প্রোটেকশনসহ তাকে নানাভাবে রক্ষা করার চেষ্টা হচ্ছে। এমনকি উচ্চ আদালতে তার বিরুদ্ধে করা কোন মামলার শুনানি পর্যন্ত বিচারক এলাউ করছেন না। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হল দেশব্যাপী হামের প্রকোপে ৭০০ এর উপর শিশুর মৃত্যুর জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করা হলেও, ইউনূসের বিরুদ্ধে কোন মামলা করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকাশ্যে পার্লামেন্টে বলেছিলেন, আগের সরকার ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে এই ব্যাপারে। তারপরও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। আরো উল্লেখ করি দুর্নীতি দমন কমিশনে ইউনূস এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু দুদক এখন অকার্যকর।
এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন খুব একটা অবাস্তব মনে হচ্ছে না। তবে তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কবে নাগাদ সেটা নির্ভর করছে দুটো ফ্যাক্টরের উপর। এক, ইন্ডিয়ার ক্যালকুলেশন এবং দূই, দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা। ইন্ডিয়া চেষ্টা করবে বাংলাদেশের ভিতরে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে তার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। সেটা করা খুব একটা ডিফিকাল্ট হবে বলে মনে হয় না। কারণ এই হাইলি পোলারাইজড দেশে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ আমরা আগেও দেখেছি। এতদিন ছিলাম ভারতের আধিপত্যে। আর হাসিনার পতনের পর পাকিস্তান এবং আমেরিকার দৌরাত্ম বেড়েছে।
দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত কোন শাসক দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কোন উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণেই স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পর দেখতে পাই কে ভারতপন্থী; কে পাকিস্তানপন্থী; আর কে আমেরিকানপন্থী। বাংলাদেশ পন্থী আর কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।
জানিনা অদূর ভবিষ্যতে এরকম কোন নেতা আমরা পাব কিনা যিনি কোন দেশ বা বিদেশি প্রভুর তোষামোদি না করে দেশের জনগণকে সত্যিকার অর্থে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।