০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
মানব উন্নয়নে বিনিয়োগ ছাড়া জনসংখ্যা চ্যালেঞ্জের সমাধান অসম্ভব পাঁচ বছরের শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ, জীবিত উদ্ধার মা-মেয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পিছিয়ে যাচ্ছে বিয়ে-সন্তানের সিদ্ধান্ত, জানালো ইউএনএফপিএ কর্ণফুলীর ঝোপে উদ্ধার ব্রাজিলের ৯ এমএম পিস্তল, ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় মিলবে উৎসের তথ্য পাকিস্তান এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সৌর প্যানেল আমদানিকারক, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় লক্ষ্য বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ জোরদার, আরও ৯ জঙ্গি নিহত; ৫ জুলাই থেকে নিহতের সংখ্যা ৮৮ ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা হলে ‘ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করবে যুক্তরাষ্ট্র, কঠোর হুঁশিয়ারি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে পিআইডির অনুরোধ, আদালতের নির্দেশনা মানার আহ্বান কারাগারে মৃত্যুর মিছিল থামছে না, ৬ মাসে ৬১ প্রাণহানির তালিকায় যোগ হলো যুবলীগ নেতা  অ্যান্ডি বার্নহ্যাম  কি ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? লেবারে বিপুল সমর্থনে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে ক্ষতির মুখে আমদানিকৃত পণ্য

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। বন্দরের একাধিক গুদামে পানি ঢুকে আমদানিকৃত পণ্য আংশিকভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমদানিকারকদের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। শনিবারও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা এলেই একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ হলেও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার পণ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

জলাবদ্ধতায় গুদাম ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি সংরক্ষণ শেড পানিতে ডুবে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। এতে বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষিত আমদানিকৃত পণ্য আংশিকভাবে পানিতে নিমজ্জিত হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও বন্দর ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে বেনাপোল স্থলবন্দর: তলিয়েছে কোটি কোটি টাকার পণ্য  || Bahanno News

আমদানিকারকদের অভিযোগ

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, শেড, ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতির মুখে পড়ে।

তাদের ভাষ্য, বন্দর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বহুবার তুলে ধরা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত কমিটিও কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বন্দরসংশ্লিষ্টদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে প্রায় ১০০ জন আমদানিকারক পণ্য নষ্ট হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তবে এসব পণ্যের বীমা না থাকায় তারা কোনো ক্ষতিপূরণও পাননি।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

ব্যবসায়ী আবদুল আলীম বলেন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বন্দরের ভেতরে চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক গুদামে বৃষ্টির পানি ঢুকে আমদানিকারকদের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তার অভিযোগ, প্রতি বছর বন্দর চার্জ বাড়লেও অবকাঠামোর মানোন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের কারণেই বর্ষা মৌসুমে একই সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা: হাঁটুপানিতে নষ্ট হচ্ছে আমদানি পণ্য

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তার মতে, বেনাপোল কাস্টমসের মাধ্যমে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব পেলেও এত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে একই সমস্যা বছরের পর বছর রয়ে যাওয়া হতাশাজনক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৃষ্টির পানিতে আমদানিকৃত পণ্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর সাড়া মেলেনি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ করেছে এবং কিছু আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে বিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি জানান, বৃষ্টি থামলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মানব উন্নয়নে বিনিয়োগ ছাড়া জনসংখ্যা চ্যালেঞ্জের সমাধান অসম্ভব

বেনাপোল স্থলবন্দরে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, পানিতে তলিয়ে ক্ষতির মুখে আমদানিকৃত পণ্য

০২:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। বন্দরের একাধিক গুদামে পানি ঢুকে আমদানিকৃত পণ্য আংশিকভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমদানিকারকদের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। শনিবারও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বর্ষা এলেই একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ হলেও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার পণ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

জলাবদ্ধতায় গুদাম ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি সংরক্ষণ শেড পানিতে ডুবে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকে। এতে বিভিন্ন গুদামে সংরক্ষিত আমদানিকৃত পণ্য আংশিকভাবে পানিতে নিমজ্জিত হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও বন্দর ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

টানা বর্ষণে পানিতে ভাসছে বেনাপোল স্থলবন্দর: তলিয়েছে কোটি কোটি টাকার পণ্য  || Bahanno News

আমদানিকারকদের অভিযোগ

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, শেড, ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতির মুখে পড়ে।

তাদের ভাষ্য, বন্দর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বহুবার তুলে ধরা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত কমিটিও কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বন্দরসংশ্লিষ্টদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে প্রায় ১০০ জন আমদানিকারক পণ্য নষ্ট হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তবে এসব পণ্যের বীমা না থাকায় তারা কোনো ক্ষতিপূরণও পাননি।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

ব্যবসায়ী আবদুল আলীম বলেন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বন্দরের ভেতরে চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক গুদামে বৃষ্টির পানি ঢুকে আমদানিকারকদের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তার অভিযোগ, প্রতি বছর বন্দর চার্জ বাড়লেও অবকাঠামোর মানোন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের কারণেই বর্ষা মৌসুমে একই সংকট বারবার দেখা দিচ্ছে।

বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা: হাঁটুপানিতে নষ্ট হচ্ছে আমদানি পণ্য

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তার মতে, বেনাপোল কাস্টমসের মাধ্যমে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাজস্ব পেলেও এত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে একই সমস্যা বছরের পর বছর রয়ে যাওয়া হতাশাজনক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৃষ্টির পানিতে আমদানিকৃত পণ্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর সাড়া মেলেনি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ করেছে এবং কিছু আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে বিদ্যুৎচালিত পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি জানান, বৃষ্টি থামলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।