টানা ভারী বৃষ্টিপাত, আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি এবং জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলার সব পর্যটন স্পট, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এ সময়ের মধ্যে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ জনগণকে এ সময় এসব এলাকায় না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বিরাজমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ

টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবানের স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি নৌপথেও পরিবহন সেবা স্থগিত থাকায় অনেক এলাকায় যাতায়াত কার্যত অচল হয়ে গেছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজারের বেশি মানুষ
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ২ হাজার ১০০ মানুষ বর্তমানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তাদের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বান্দরবান পৌরসভা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















