০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর মতামতঃ   প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা শুরু হয় ক্ষমতায় বসার পর বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫; ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে: রুমিন ফারহানা পুঁজির বিশাল স্রোতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির নতুন পরিকল্পনা: পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অপরাধের দায়ে শিশুদের বিচার: বয়স কমানোর প্রবণতা কি নতুন সংকট ডেকে আনছে? বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করছে ফিফা, এক টুকরার দাম প্রায় ৪৫০ ডলার খামেনির পর ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র: যুদ্ধের পথে তেহরান, নাকি কূটনীতির শেষ সুযোগ? নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাঠই কি হতে পারে সমাধান?

বান্দরবানে বন্যা আরও ভয়াবহ, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ

টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড় ধস, সড়ক তলিয়ে যাওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়ায় জেলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বাসিন্দাদের।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

শনিবার সকাল থেকে বান্দরবান শহরের সঙ্গে রাঙ্গামাটি, বাঙ্গাল হালিয়া-চন্দ্রঘোনা, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়া এবং গাছ উপড়ে পড়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার রাতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজঘাট সেতু ধসে পড়ে। এর ফলে দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেইলি সেতুটিও ভেঙে পড়ায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ রয়েছে। অনেককে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পারাপার করতে দেখা গেছে।

পানি না নামায় মেরামত শুরু সম্ভব হয়নি

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনও পানির নিচে থাকায় মেরামত কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পানি কমলেই ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয়

বন্যার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। একটি এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ার পর পুরো শহর প্রায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মোবাইল নেটওয়ার্কও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না, অনেক এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, সেনাবাহিনীর ব্রিগেড এলাকা, পুলিশ লাইন, ফায়ার সার্ভিস এবং বেতার এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে ডুবে গেছে। কিছু এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে।

বান্দরবানে বন্যা, আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

উপজেলাগুলোতেও বেড়েছে দুর্ভোগ

রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা ও আলীকদম উপজেলায়ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বহু বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অন্তত এক হাজার ৩৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে, তাদের প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আলাদা হিসাব প্রস্তুত করা হবে।

ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় শত শত পরিবারকে চাল, ডাল, চিনি, গুড়, লবণ ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি উন্নয়ন সংস্থা ১৬ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য নিরাপদ স্থানে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার ৩০০ মানুষকে দুপুরে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। রাতে আট হাজারের বেশি বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাঙ্গু নদীতীরবর্তী এলাকা এবং লামা ও আলীকদমের নিম্নাঞ্চলের বহু মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে চলাচল না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন।

বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর মতামতঃ   প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা শুরু হয় ক্ষমতায় বসার পর

বান্দরবানে বন্যা আরও ভয়াবহ, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ

০৬:১৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পাহাড় ধস, সড়ক তলিয়ে যাওয়া এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়ায় জেলার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবায় ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বাসিন্দাদের।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

শনিবার সকাল থেকে বান্দরবান শহরের সঙ্গে রাঙ্গামাটি, বাঙ্গাল হালিয়া-চন্দ্রঘোনা, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়া এবং গাছ উপড়ে পড়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার রাতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পানির তীব্র স্রোতে ব্রিজঘাট সেতু ধসে পড়ে। এর ফলে দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেইলি সেতুটিও ভেঙে পড়ায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ রয়েছে। অনেককে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পারাপার করতে দেখা গেছে।

পানি না নামায় মেরামত শুরু সম্ভব হয়নি

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনও পানির নিচে থাকায় মেরামত কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পানি কমলেই ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপর্যয়

বন্যার পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। একটি এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ার পর পুরো শহর প্রায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মোবাইল নেটওয়ার্কও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না, অনেক এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, সেনাবাহিনীর ব্রিগেড এলাকা, পুলিশ লাইন, ফায়ার সার্ভিস এবং বেতার এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ পানিতে ডুবে গেছে। কিছু এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে নৌকায় চলাচল করতে দেখা গেছে।

বান্দরবানে বন্যা, আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

উপজেলাগুলোতেও বেড়েছে দুর্ভোগ

রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি, লামা ও আলীকদম উপজেলায়ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বহু বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল সংযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অন্তত এক হাজার ৩৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে, তাদের প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছে। কৃষিজমি ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আলাদা হিসাব প্রস্তুত করা হবে।

ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় শত শত পরিবারকে চাল, ডাল, চিনি, গুড়, লবণ ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি উন্নয়ন সংস্থা ১৬ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌর এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য নিরাপদ স্থানে অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার ৩০০ মানুষকে দুপুরে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। রাতে আট হাজারের বেশি বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাঙ্গু নদীতীরবর্তী এলাকা এবং লামা ও আলীকদমের নিম্নাঞ্চলের বহু মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে চলাচল না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন।

বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন; হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে।