০২:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
মাঠজুড়ে ধীর পায়ে হাঁটা, কিন্তু সিদ্ধান্তের মুহূর্তে বজ্রপাত: মেসির ফুটবল বুদ্ধির প্রকৃত রহস্য বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার সাহসই রাষ্ট্রের ব্যর্থতা: তাজুল ইসলাম অন্ধকারের টানে বাড়ছে তারাদেখা ভ্রমণ, বিশ্বজুড়ে নতুন পর্যটন প্রবণতার উত্থান মুখের ইতিহাসে লুকিয়ে মানুষের পরিচয়, সৌন্দর্য ও সমাজের বদলে যাওয়া গল্প নিলামে পুরোনো চিত্রকর্মের জোয়ার: শতাব্দীপ্রাচীন শিল্পকর্মে ফিরছে সংগ্রাহকদের আগ্রহ পিলাটেসে বিশ্বজুড়ে নতুন উন্মাদনা, কেন হঠাৎ এত জনপ্রিয় এই ব্যায়াম? ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বইয়ের আলোড়ন, বাস্তবতা নাকি কল্পনার জগতে হোয়াইট হাউস? খরার মধ্যেও অটল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু গাছ, বিস্ময়কর অভিযোজনের নতুন রহস্য উন্মোচন দিনে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে বড় স্বাস্থ্যসুরক্ষা

ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বইয়ের আলোড়ন, বাস্তবতা নাকি কল্পনার জগতে হোয়াইট হাউস?

ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা নতুন বইকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘রেজিম চেঞ্জ’ শিরোনামের বইটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট।

বাস্তবতা ও বিশ্বাসের সংঘাত

বইটিতে লেখকদের দাবি, ট্রাম্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য এমন ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে, যার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায় না। অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অভিবাসন, আইনশৃঙ্খলা এবং পররাষ্ট্রনীতি—বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায়ই নিজের বিশ্বাসকে তথ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকদের বর্ণনায়, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বাস্তব তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকলেও অনেক সময় তারা প্রকাশ্যে ভিন্নমত প্রকাশ করেন না। ফলে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তথ্যের বদলে রাজনৈতিক বার্তাই বেশি প্রাধান্য পায় বলে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

Maggie Haberman Is Writing Another Book About Trump - Business Insider

ভাষার নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জরুরি অবস্থা’, ‘সন্ত্রাসী’ কিংবা ‘আক্রমণ’—এ ধরনের শব্দের প্রচলিত অর্থের বাইরে নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হলে আইন প্রয়োগের ধরনও বদলে যেতে পারে।

লেখকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে চিহ্নিত করা বা অভিবাসনকে আক্রমণের সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করার মতো অবস্থান প্রশাসনের ক্ষমতার পরিধি বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও এসব পদক্ষেপের কিছু আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসন সুবিধাও পেয়েছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রভাব

বইটিতে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও এসেছে। লেখকদের দাবি, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের সঙ্গে অমিল থাকলেও ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মূল্যায়নের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন।

একই সঙ্গে প্রশাসনের অভ্যন্তরে নিয়োগ, আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরেও বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে কাজ করতে হলে তার রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

The Key Ways Trump's Financial Interests Intersect With Government Policy -  The New York Times

স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক

বইটিতে ট্রাম্প ও তার পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। লেখকদের দাবি, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে ঘিরে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা বরাবরই অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।

এ ছাড়া প্রশাসনের কয়েকজন আইনজীবী ও উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু

প্রকাশের পরপরই বইটি ব্যাপক পাঠক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ নয়, বরং ক্ষমতা, তথ্য, ভাষা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বইটির লেখকরা দীর্ঘ অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার ও নথির ভিত্তিতে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। ফলে ট্রাম্পের সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষের কাছেই এটি আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠজুড়ে ধীর পায়ে হাঁটা, কিন্তু সিদ্ধান্তের মুহূর্তে বজ্রপাত: মেসির ফুটবল বুদ্ধির প্রকৃত রহস্য

ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বইয়ের আলোড়ন, বাস্তবতা নাকি কল্পনার জগতে হোয়াইট হাউস?

০১:৩২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা নতুন বইকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘রেজিম চেঞ্জ’ শিরোনামের বইটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নানা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট।

বাস্তবতা ও বিশ্বাসের সংঘাত

বইটিতে লেখকদের দাবি, ট্রাম্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য এমন ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে, যার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায় না। অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অভিবাসন, আইনশৃঙ্খলা এবং পররাষ্ট্রনীতি—বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায়ই নিজের বিশ্বাসকে তথ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখকদের বর্ণনায়, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বাস্তব তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকলেও অনেক সময় তারা প্রকাশ্যে ভিন্নমত প্রকাশ করেন না। ফলে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তথ্যের বদলে রাজনৈতিক বার্তাই বেশি প্রাধান্য পায় বলে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

Maggie Haberman Is Writing Another Book About Trump - Business Insider

ভাষার নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

বইটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার। সেখানে বলা হয়েছে, ‘জরুরি অবস্থা’, ‘সন্ত্রাসী’ কিংবা ‘আক্রমণ’—এ ধরনের শব্দের প্রচলিত অর্থের বাইরে নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হলে আইন প্রয়োগের ধরনও বদলে যেতে পারে।

লেখকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে চিহ্নিত করা বা অভিবাসনকে আক্রমণের সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করার মতো অবস্থান প্রশাসনের ক্ষমতার পরিধি বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও এসব পদক্ষেপের কিছু আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসন সুবিধাও পেয়েছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রভাব

বইটিতে ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও এসেছে। লেখকদের দাবি, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের সঙ্গে অমিল থাকলেও ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মূল্যায়নের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন।

একই সঙ্গে প্রশাসনের অভ্যন্তরে নিয়োগ, আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরেও বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে কাজ করতে হলে তার রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

The Key Ways Trump's Financial Interests Intersect With Government Policy -  The New York Times

স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক

বইটিতে ট্রাম্প ও তার পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। লেখকদের দাবি, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে ঘিরে স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা বরাবরই অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।

এ ছাড়া প্রশাসনের কয়েকজন আইনজীবী ও উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু

প্রকাশের পরপরই বইটি ব্যাপক পাঠক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ নয়, বরং ক্ষমতা, তথ্য, ভাষা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বইটির লেখকরা দীর্ঘ অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার ও নথির ভিত্তিতে তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। ফলে ট্রাম্পের সমর্থক ও সমালোচক—উভয় পক্ষের কাছেই এটি আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।