জাপানের সাপ্পোরো শহরের টোকিওয়া এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পুরোনো একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যালয়ের জায়গায় নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগকে কেউ দেখছেন এলাকার পুনর্জাগরণের সুযোগ হিসেবে, আবার কেউ এর বিরোধিতা করছেন বিদেশিদের উপস্থিতি বাড়ার আশঙ্কায়।
পুরোনো বিদ্যালয়ে নতুন প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ
সাপ্পোরোর টোকিওয়া এলাকায় ১৯১০ সালে চালু হওয়া টোকিওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০২১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং শিশুদের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার কারণে জাপানের অনেক এলাকার মতো এই অঞ্চলও ধীরে ধীরে প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোষ্ঠী ওই জায়গায় নতুন আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় চালুর পরিকল্পনা করে। ২০২৭ সালের মধ্যে বিদ্যালয়টি চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এখানে শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প ঘিরে বাড়ে বিরোধিতা

বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশের পর স্থানীয় কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশিদের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং স্থানীয় সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, প্রকল্পটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আবেদন জমা পড়ে। তবে পরে সাপ্পোরো শহরের আইনপ্রণেতারা এসব আপত্তি পর্যালোচনা করে জানান, অনেক অভিযোগ সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়নি। এরপর প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পথ পরিষ্কার হয়।
জাপানে বিদেশি উপস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্ক
জাপানের অনেক শহর বর্তমানে কমে যাওয়া জনসংখ্যা ও শ্রম সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী ও পরিবারের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সাপ্পোরোও নতুন দক্ষ কর্মী আকৃষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে একই সময়ে দেশটিতে বিদেশিদের নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। একটি অংশ মনে করছে, বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে স্থানীয়দের স্বার্থের ভারসাম্য রাখা জরুরি।
বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের চ্যালেঞ্জ
সাপ্পোরো শহরে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ এখন এমন একটি পরিবেশ গড়ার চেষ্টা করছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের মানুষ স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পারে।
শহরের নীতিতে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা বলা হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানুষের মধ্যে সঠিক তথ্যের অভাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল ধারণা অনেক সময় বিভাজন বাড়িয়ে দেয়।
নতুন বিদ্যালয় কি বদলে দেবে টোকিওয়ার ভবিষ্যৎ
স্থানীয় অনেক বাসিন্দা মনে করেন, নতুন বিদ্যালয় চালু হলে এলাকায় আবার শিশুদের কোলাহল ফিরবে এবং তরুণ পরিবারগুলোর আগমন ঘটবে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা জায়গাটি আবার একটি সক্রিয় সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
সাপ্পোরোর এই ঘটনা শুধু একটি বিদ্যালয় নির্মাণের বিষয় নয়, বরং আধুনিক জাপানে জনসংখ্যা সংকট, বিদেশি নাগরিকদের ভূমিকা এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনের বড় প্রশ্নগুলোকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















