০২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুন্দরবনে ৩ মাস পর পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশ, জীববৈচিত্র্যে মিলেছে স্বস্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল দেড় শতকের পথে দানাং বন্দর, ১২৫ বছরে স্মার্ট সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তর ইনফ্লুয়েন্সার বাছাইয়ে বদলে যাচ্ছে ব্র্যান্ডের কৌশল মুখের যত্নেও বিলাসী সৌন্দর্যের যুগ, ডাইসনের প্রথম টুথব্রাশে নতুন ইঙ্গিত মায়ের পেনশন পেতে ঘুষের দাবি, প্রতিবাদে কিশোরের ‘ঘুষ’ ওয়েবসাইট—৯ দিনে অভিযোগ প্রায় ১০ হাজার সিন্ধু পানি চুক্তির সালিশি রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের, আদালতকে বলল ‘অবৈধভাবে গঠিত’ যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ সংকট: কমতে থাকা শিক্ষার্থী ও বাড়তি খরচে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে শত শত প্রতিষ্ঠান শি–পুতিন বৈঠক: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার চীন ও রাশিয়ার শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ

থাইল্যান্ডের কড়া পরীক্ষায় বিপাকে মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক মাছ চাষিরা 

থাইল্যান্ডে সামুদ্রিক মাছ পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে বড় সংকটে পড়েছেন মালয়েশিয়ার মাছ চাষিরা। দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক খামার আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে, কেউ কেউ চাষ পদ্ধতিও বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

থাইল্যান্ডের বাজার বন্ধ, থমকে গেছে রপ্তানি

মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সুংগাই উদাং এলাকার মাছ খামারগুলো একসময় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ থাইল্যান্ডে পাঠাত। কিন্তু নতুন করে কড়া পরিদর্শন ও পরীক্ষার কারণে এখন সেই রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় খামার মালিকদের দাবি, তাদের মাছ নিরাপদ এবং প্রতিটি চালানের সঙ্গে পরীক্ষার সনদ দেওয়া হলেও থাইল্যান্ডের নতুন নিয়মের কারণে পণ্য আটকে যাচ্ছে। পরীক্ষার ফল আসতে দীর্ঘ সময় লাগছে, এর মধ্যে জীবিত মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

খামারিদের বাড়ছে খরচ, কমছে আয়

Workers harvest seabass from a pond at a fish farm in Sungai Udang, Penang, on July 1.

মাছ বিক্রি না হলেও প্রতিদিন খাবার দিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক খামারের নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে। খাবারের খরচ, জ্বালানির দাম এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

কিছু খামার সামুদ্রিক মাছের পরিবর্তে অন্য ধরনের মাছ বা চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকেছে। আবার কিছু খামার বন্ধ হয়ে গেছে। চাষিরা বলছেন, বহু বছর ধরে তৈরি করা বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা এক ধাক্কায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

রপ্তানি নির্ভর শিল্পে বড় ধাক্কা

থাইল্যান্ড ছিল মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক মাছের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজারগুলোর একটি। আগে বিপুল পরিমাণ মাছ সেখানে পাঠানো হলেও পরবর্তীতে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

চাষিদের অভিযোগ, তারা সরকারি মানদণ্ড মেনে খামার পরিচালনা করছেন এবং নিরাপত্তা পরীক্ষাও সম্পন্ন করছেন। তারপরও বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দুই দেশের আলোচনায় সমাধানের আশা

Seabass await packing and distribution at a seafood processing and packing facility in Sungai Udang, Penang on July 1.

মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশ খাদ্য নিরাপত্তা, সনদ ব্যবস্থা এবং আমদানি শর্ত নিয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করছে।

চাষিরা আশা করছেন, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান হবে যাতে আবার থাইল্যান্ডের বাজারে মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক মাছ প্রবেশ করতে পারে। তাদের মতে, একটি বড় বাজার হারানো সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে চাষিরা

মালয়েশিয়ার মাছ চাষিদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময়। মাছ যত বড় হচ্ছে, খরচও তত বাড়ছে। স্থানীয় বাজারে বড় আকারের মাছের চাহিদা কম থাকায় অনেক খামারি ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।

চাষিরা বলছেন, তারা শুধু একটি বাজার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। কারণ বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে স্থিতিশীল রপ্তানি সুযোগ প্রয়োজন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনে ৩ মাস পর পর্যটক ও জেলেদের প্রবেশ, জীববৈচিত্র্যে মিলেছে স্বস্তি

থাইল্যান্ডের কড়া পরীক্ষায় বিপাকে মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক মাছ চাষিরা 

১১:১৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

থাইল্যান্ডে সামুদ্রিক মাছ পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে বড় সংকটে পড়েছেন মালয়েশিয়ার মাছ চাষিরা। দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক খামার আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে, কেউ কেউ চাষ পদ্ধতিও বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

থাইল্যান্ডের বাজার বন্ধ, থমকে গেছে রপ্তানি

মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সুংগাই উদাং এলাকার মাছ খামারগুলো একসময় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ থাইল্যান্ডে পাঠাত। কিন্তু নতুন করে কড়া পরিদর্শন ও পরীক্ষার কারণে এখন সেই রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় খামার মালিকদের দাবি, তাদের মাছ নিরাপদ এবং প্রতিটি চালানের সঙ্গে পরীক্ষার সনদ দেওয়া হলেও থাইল্যান্ডের নতুন নিয়মের কারণে পণ্য আটকে যাচ্ছে। পরীক্ষার ফল আসতে দীর্ঘ সময় লাগছে, এর মধ্যে জীবিত মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

খামারিদের বাড়ছে খরচ, কমছে আয়

Workers harvest seabass from a pond at a fish farm in Sungai Udang, Penang, on July 1.

মাছ বিক্রি না হলেও প্রতিদিন খাবার দিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক খামারের নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়েছে। খাবারের খরচ, জ্বালানির দাম এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।

কিছু খামার সামুদ্রিক মাছের পরিবর্তে অন্য ধরনের মাছ বা চিংড়ি চাষের দিকে ঝুঁকেছে। আবার কিছু খামার বন্ধ হয়ে গেছে। চাষিরা বলছেন, বহু বছর ধরে তৈরি করা বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থা এক ধাক্কায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

রপ্তানি নির্ভর শিল্পে বড় ধাক্কা

থাইল্যান্ড ছিল মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক মাছের সবচেয়ে বড় বিদেশি বাজারগুলোর একটি। আগে বিপুল পরিমাণ মাছ সেখানে পাঠানো হলেও পরবর্তীতে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

চাষিদের অভিযোগ, তারা সরকারি মানদণ্ড মেনে খামার পরিচালনা করছেন এবং নিরাপত্তা পরীক্ষাও সম্পন্ন করছেন। তারপরও বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দুই দেশের আলোচনায় সমাধানের আশা

Seabass await packing and distribution at a seafood processing and packing facility in Sungai Udang, Penang on July 1.

মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশ খাদ্য নিরাপত্তা, সনদ ব্যবস্থা এবং আমদানি শর্ত নিয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করছে।

চাষিরা আশা করছেন, দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান হবে যাতে আবার থাইল্যান্ডের বাজারে মালয়েশিয়ার সামুদ্রিক মাছ প্রবেশ করতে পারে। তাদের মতে, একটি বড় বাজার হারানো সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।

ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে চাষিরা

মালয়েশিয়ার মাছ চাষিদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সময়। মাছ যত বড় হচ্ছে, খরচও তত বাড়ছে। স্থানীয় বাজারে বড় আকারের মাছের চাহিদা কম থাকায় অনেক খামারি ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।

চাষিরা বলছেন, তারা শুধু একটি বাজার ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। কারণ বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে স্থিতিশীল রপ্তানি সুযোগ প্রয়োজন।